Anik Dutta Last Journey: নন্দনে ব্রাত্য় থেকেছে তাঁর ছবি, সেখানে ‘অপরাজিত’ই অনীক দত্ত,শেষযাত্রা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত মেয়ের!
বিদেশ থেকে ফিরল অনীক-কন্যা, প্রয়াত পরিচালকের শেষযাত্রা বড় সিদ্ধান্ত রাইয়ের। অনীক দত্তর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাঁর ছবির সঙ্গে নন্দন প্রেক্ষাগৃহের ‘টানাপোড়েন’ টলিপাড়ার কারও অজানা নয়। মৃত্যুর পরেও যেন রয়ে গেল সেই চেনা অভিমান।
জীবদ্দশায় বারবার তৈরি হয়েছিল দূরত্ব। তাঁর ছবি ‘ভবিষ্যতের ভূত’ কিংবা সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষে বানানো ‘অপরাজিত’র মতো বহুল চর্চিত সিনেমা ব্রাত্য থেকেছে নন্দনের সরকারি প্রেক্ষাগৃহে। তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিতেও ছাড়েননি স্পষ্টবক্তা পরিচালক। তবুও তৎকালীন মমতা সরকারের সামনে মাথানত করেননি বামপন্থী অনীক দত্ত। মৃত্যুর পরেও কি তবে বজায় রইল সেই ‘দূরত্ব’? প্রখ্যাত পরিচালক অনীক দত্তর প্রয়াণের পর তাঁর মরদেহ নন্দনে নিয়ে আসা হচ্ছে না। সরকারি সেই চত্বর এড়িয়ে অনুরাগীদের শেষ শ্রদ্ধার জন্য বেছে নেওয়া হলো টলিপাড়ারই এক চেনা স্টুডিও।

ইতিমধ্যেই পরিচালকের শেষকৃত্যের সম্পূর্ণ সূচি জানিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি কার্ড শেয়ার করেছেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি এবং কন্যা ঐশী (রাই) দত্ত। অনীকের আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়েই বিদেশ থেকে কলকাতায় ছুটে এসেছেন তাঁর কন্যা রাই।
নন্দন নয়, শেষ দেখা নিউ থিয়েটার্সে
টলিউডের বহু গুণী মানুষের শেষযাত্রায় নন্দন চত্বরে শায়িত রাখার রেওয়াজ থাকলেও, অনীকের ক্ষেত্রে পরিবার সম্পূর্ণ অন্য পথে হাঁটল। পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আগামীকাল অর্থাৎ ২৯ মে, শুক্রবার সকাল ১১:৩০টা থেকে দুপুর ১২:৩০টা পর্যন্ত প্রয়াত পরিচালকের মরদেহ রাখা থাকবে টলিপাড়ার ঐতিহাসিক নিউ থিয়েটার্স ১ স্টুডিওর (NT-1) তিন তলায়।

১০ এ, চণ্ডী ঘোষ রোড (টালিগঞ্জ আইটিআই-এর ঠিক পাশে) অবস্থিত এই স্টুডিওতেই পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, বন্ধু এবং অনুরাগীরা তাঁদের প্রিয় ‘অনীক দা’কে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। সেখান থেকেই শুরু হবে শ্মশানের উদ্দেশ্যে তাঁর শেষ যাত্রা।
ছবির পর মরদেহেও কি ‘নন্দন-বিতর্ক’?
টলিপাড়ার ফিসফিসানি বলছে, অনীকের মতো একজন বামমনস্ক ও স্পষ্টভাষী পরিচালকের মরদেহ নন্দনে না আনাটা আসলে এক নীরব প্রতিবাদ। অতীতে ছবি রিলিজের শো না পাওয়া নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর সংঘাত বারবার খবরের শিরোনাম কেড়েছে। অনেকে বলছেন, যে নন্দন জীবদ্দশায় অনীকের সৃজনশীলতাকে প্রাপ্য সম্মান দেয়নি, মৃত্যুর পর সেই চত্বরে তাঁর নিথর দেহকে এনে কোনো ‘ভণ্ডামি’র ছোঁয়া লাগাতে চায়নি পরিবার।
সন্ধি ও রাই-এর শেয়ার করা শোকবার্তায় লেখা হয়েছে— ‘অত্যন্ত গভীর দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আমরা আমাদের প্রিয় পরিচালক অনীক দত্তকে হারিয়েছি... যাঁরা তাঁকে ভালোবাসতেন ও চিনতেন, আসুন তাঁর জীবন ও সৃষ্টিকে সম্মান জানিয়ে এই শেষ যাত্রায় আমরা একসাথে শামিল হই।’ নন্দন ব্রাত্য থেকে গেল ঠিকই, কিন্তু যে স্টুডিওর আলো-আঁধারিতে সিনেমার জন্ম হয়, সেই রূপোলী দুনিয়ার চেনা স্টুডিও থেকেই আগামীকাল চিরবিদায় নেবেন টলিউডের অন্যতম প্রতিবাদী ‘সেনা’।
অনীক দত্তর রহস্যমৃত্যু
বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধির বহুতল থেকে ঝাঁপ দেন অনীক দত্ত। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট থেকে পুলিশের অনুমান আত্মহত্যাই করেছেন পরিচালক। গত কয়েক বছর ধরেই ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন ভূতের ভবিষ্যত পরিচালক। এখনও পর্যন্ত এই মৃৃত্য়ু ঘিরে কোনওরকম ফাউল প্লের গন্ধ পায়নি পুলিশ।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


