‘কোন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলব?’! বারুইপুর ধর্ষণকাণ্ডে চুপ কেন, ট্রোলে জবাব ননসেনের
বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের পর সরকারকে নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে নেটপাড়ার একাংশ। বেশকিছু তারকা-ইনফ্লুয়েন্সারের নাম নিয়েও পোস্ট পড়তে থাকে, যার মধ্যে ননসেন-খ্যাত শমীক অধিকারি অন্যতম। এত বড় ঘটনার পরেও কেন কোনো পোস্ট এল না শমীকের থেকে এখনো, এবার তিনি জানালেন নিজেই!
বারুইপুর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর ফের নড়েচড়ে বসেছে বাংলার মানুষ। ১১ বছরের নাবালিকাকে প্রথমে গণধর্ষণ করা হয়, তারপর গলায় পা দিয়ে মেরে ফেলা হয়।মৃতদেহ পুঁতে দেওয়া হয় পুকুরের পাড়ে। শনিবার থেকে মেয়েটিকে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। পরে রবিবার স্থানীয় পুকুর থেকে ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে অঞ্চলে। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ঘটনার বিচার এবং অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে দফায় দফায় লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে।

এদিকে নেটপাড়া ফের উত্তাল এমন এক নারকীয় ঘটনায়। সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, আরজি করের ঘটনার পর যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুেন্সার থেকে শুরু করে টলিউডের তারকারা প্রতিবাদে মুখ খুলেছিলেন, রাস্তায় নেমেছিলেন, বারুইপুরের ঘটনার পর কেন চুপ! কেন সরকারকে নিয়ে কেউ তুলছে না প্রশ্ন! এমনকী, বেশকিছু তারকা-ইনফ্লুয়েন্সারের নাম নিয়েও পোস্ট পড়তে থাকে। যার মধ্যে অন্যতম হল ‘ননসেন’-খ্যাত শমীক অধিকারি। যিনি বিগত সরকারকে নিয়ে একাধিক তীর্যক ভিডিয়ো বানিয়েছিলেন। জেলও খেটেছিলেন। প্রশ্ন উঠতে থাকে, কেন বারুইপুরের ঘটনা নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া আসছে না ননসেন-এর থেকে।
আর আলোচনা বাড়তেই নিজের অফিসিয়াল পেজ থেকে পোস্ট করলেন শমীক অধিকারি। লিখেছেন, ‘বারুইপুরের ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। তবে তার থেকেও বেশি যেটা আমাকে ব্যথিত করে, তা হলো—প্রতিটি এমন ঘটনার পর কিছু মানুষ অপেক্ষা করেন শুধু এই প্রশ্নটা করার জন্য, ‘এখন কোথায়?’ বা ‘এবার চুপ কেন?’ তাই আমার উত্তরটা স্পষ্ট। এই মুহূর্তে আমি দেখছি, মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি এটাও দেখছি, পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাহলে আমি ঠিক কোন বিষয়টা নিয়ে প্রশ্ন তুলব? অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার জন্য পুলিশের সমালোচনা করব? প্রমাণ সংগ্রহ করার জন্য তদন্তকারী সংস্থাকে প্রশ্ন করব? নাকি যখন প্রশাসন তাদের প্রত্যাশিত দায়িত্বই পালন করছে, তখন সেই ব্যবস্থার বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ করব?’
ননসেন তাঁর পোস্টে আরও লিখেছেন, ‘আমি তখনই আওয়াজ তুলব, যখন সিস্টেম ব্যর্থ হবে—যখন সিস্টেম নিজের কাজ করছে, তখন নয়। আমি কথা বলি তখন, যখন প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা দেখি, যখন বিচার পেতে অযথা দেরি হয়, যখন প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হয়, কিংবা যখন সত্যকে চাপা দেওয়া হয়। যতক্ষণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব পালন করছে, ততক্ষণ আমি ঠিক কোন বিষয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব? অনুরোধ, প্রতিটি মর্মান্তিক ঘটনাকে রাজনৈতিক এজেন্ডায় পরিণত করবেন না। প্রতিটি ঘটনার প্রাপ্য ন্যায়বিচার, রাজনৈতিক সুবিধা আদায় নয়।’
তবে শমীক এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, ভবিষ্যতে যদি বিচার পেতে দেরি হয় অথবা দেখেন কেউ বা কারা অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে, তাহলে তিনি প্রশ্ন তুলবেন। যেমন এতদিন তুলে এসেছেন। লেখেন, ‘তবে একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই—যদি আগামী দিনে দেখি বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে, তদন্তে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে, বা অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে, তাহলে আমাকেই আবার ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করতে দেখবেন। অতীতেও করেছি, ভবিষ্যতেও করব—ক্ষমতায় যে সরকারই থাকুক না কেন।’
বারুইপুর থানার পুলিশের সঙ্গে রাতভর বিশেষ অভিযানে শামিল হয় রাজ্য পুলিশের টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার পাশাপাশি মূল অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার এবং তথ্য গোপনের অভিযোগে মধ্যরাতে আরও তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে। এমনকী, শুভেন্দু অধিকারি জানিয়েছেন যে নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। যারা অপরাধী তাঁদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


