Iman-Shamik: ‘এই মানুষটার সবচেয়ে বড় ফ্যান…’, শমীকে মুগ্ধ মমতা-সরকারের পাঁচালি গাওয়া ইমন

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের একটি ভাইরাল বক্তৃতা সমাজমাধ্যমে শেয়ার করে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী। একসময়  তৃণমূল সরকারের ‘পাঁচালি’ গেয়ে নেটপাড়ায় চরম ট্রোলড হতে হয়েছিল ইমনকে। রং বদল নিয়ে কী বললেন তিনি?

Published on: May 21, 2026, 08:00:32 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিপাড়ার অনেক তারকারই সুর যে একটু একটু করে বদলাতে শুরু করেছে। এবার কি সেই দলে সামিল ইমন চক্রবর্তী? কোনও রাজনৈতিক রং গায়ে না লাগিয়েই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী। শমীকের একটি সাম্প্রতিক ভাষণের ভিডিও নিজের ওয়ালে শেয়ার করে ইমন সাফ লিখলেন— ‘নাও বলো আমাকে বিজেপি… কিন্তু কথাগুলো শুনে নিও। বিগেস্ট ফ্যান অফ দিস ম্যান… এখন না, বরাবরের…’।

‘এই মানুষটার সবচেয়ে বড় ফ্যান…’, শমীকে মুগ্ধ মমতা-সরকারের পাঁচালি গাওয়া ইমন
‘এই মানুষটার সবচেয়ে বড় ফ্যান…’, শমীকে মুগ্ধ মমতা-সরকারের পাঁচালি গাওয়া ইমন

তৃণমূলের গুণগান থেকে শমীকের প্রশংসা:

ইমনের এই পোস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই নেটপাড়ায় তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কারণ, খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, যখন রাজ্যে তৃণমূল সরকারের নীতি এবং দলনেত্রীর প্রশংসা করতে শোনা যেত ইমনকে। ভোটের আগে তৃণমূল সরকারের পাঁচালি গেয়েছিলেন ইমন, কম কটূক্তি শুনতে হয়নি। তবে সেই সমস্ত অতীত বিতর্ককে একপাশে সরিয়ে রেখে এবার সরাসরি বিজেপি নেতার স্পষ্টবক্তা ইমেজের প্রতি নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন ইমন।

‘কথাগুলো শুনে নিও’, অনুগামীদের বার্তা ইমনের:

শমীক ভট্টাচার্য তাঁর বাগ্মীতা এবং মার্জিতববক্তব্যের জন্য রাজনৈতিক মহল তো বটেই, আমজনতার কাছেও বেশ জনপ্রিয়। ইমনও তাঁর এই গুণেরই গুণগ্রাহী। ট্রোলিংয়ের আগাম আশঙ্কা করেই গায়িকা পোস্টে শুরুতেই লিখে দিয়েছেন, ‘নাও বলো আমাকে বিজেপি’। অর্থাৎ, এই পোস্ট দেখার পর অনেকেই যে তাঁকে গেরুয়া শিবিরের তকমা দিয়ে দেবেন, তা তিনি ভালো করেই জানেন। কিন্তু রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে শমীকের ওই ভাইরাল বক্তৃতায় বলা কথাগুলো যে কতটা বাস্তবসম্মত, সেটাই তিনি তাঁর অনুরাগীদের কানে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন।

কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। সেখানে তিনি বলেন, ‘আজ আমি যাদের সামনে বসে আছি, তাঁদের কারও মুখ ম্লান নয়। এঁরা নিজেদের মেধা, অসাধারণ প্রতিভা আর কঠিন অধ্যাবসায় দিয়ে আজ নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই মুখগুলি আসলে তাঁদের সমগ্র পরিবারের এক একটি উজ্জ্বল মুখ।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের প্রতি যাদের অন্তরে প্রকৃত শ্রদ্ধা থাকে, তাঁরাই কেবল প্রকৃত জ্ঞান লাভ করতে পারেন। শুধুমাত্র বইয়ের পাতার মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞান লাভ করা বা জীবনের আসল পাঠ শেখা সম্ভব নয়।’

লাইট-ক্যামেরা আর গানের ওপেন এয়ার কনসার্টের চেনা গণ্ডি পেরিয়ে ইমনের এই ‘পলিটিক্যাল পোস্ট’ এখন নেটপাড়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল। তবে ভোটের রেজাল্ট আউট হওয়ার আগেও ইমন এক পডকাস্টে জানিয়েছিলেন তিনি শমীক ভট্টাচার্যের ফ্যান। কেউ কেউ গায়িকার এই সাহসিকতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, আবার বিরোধীদের একাংশ একে ‘সুবিধাবাদী অবস্থান’ বলেও কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না। এখন দেখার, এই নতুন সমীকরণ টলিপাড়ার রাজনৈতিক হাওয়ায় আর কী কী বদল আনে!

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More