Om Puri: প্রেগন্যান্ট স্ত্রীকে ভুলে অন্য নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় মজেন ওম পুরী, বাঁচেনি গর্ভস্থ সস্তান, বিস্ফোরক সীমা
ওম পুরীর প্রথম স্ত্রী সীমা কাপুর তাঁদের বৈবাহিক জীবনের ভাঙন এবং ওম পুরীর পরকীয়া নিয়ে কথা বলেছেন। সীমা যখন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, তখন ওম পুরী অন্য সম্পর্কে জড়ানোয় সীমা রাজস্থানে চলে যান এবং সেখানেই তাঁর গর্ভপাত হয়।
বলিউডের প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা ওম পুরীর অভিনয় দক্ষতা নিয়ে কোনও সংশয় না থাকলেও, তাঁর ব্যক্তিগত ও বৈবাহিক জীবন বরাবরই নানা টানাপোড়েনে ভরা ছিল। ১৯৯১ সালে ওম পুরীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন প্রখ্যাত অভিনেতা অন্নু কাপুরের বোন তথা লেখিকা সীমা কাপুর (Seema Kapoor)। তবে বিয়ের এক বছরের মাথাতেই তাঁদের সেই সংসার ভেঙে যায়।

সম্প্রতি ‘হিন্দি রাশ’ (Hindi Rush)-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সীমা কাপুর ওম পুরীর জীবনে অন্য এক মহিলার প্রবেশ, তাঁদের বিচ্ছেদ এবং সেই মানসিক যন্ত্রণার মাঝে নিজের অনাগত সন্তানকে হারানোর এক চরম বেদনাদায়ক স্মৃতির কথা রোমন্থন করেছেন।
‘গর্ভবতী থাকাকালীনই ও অন্য সম্পর্কে জড়ায়, আমার সন্তান বাঁচেনি’
সীমা কাপুর জানান, তিনি যখন সন্তানসম্ভবা ছিলেন, ঠিক তখনই ওম পুরী অন্য এক নারীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই খবর জানার পর মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে তিনি রাজস্থানে নিজের মায়ের বাড়িতে চলে যান। কিন্তু সেই কঠিন ও টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই ঘটে যায় জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা।
নিজের অনাগত সন্তানকে হারানোর যন্ত্রণা ভাগ করে সীমা বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত সেই সময় আমার সন্তানকে বাঁচানো যায়নি। ওটা আমার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান ছিল। কারণ আমি জানতাম পুরী সাহেব আর আমার জীবনে ফিরে আসবেন না এবং আমিও জীবনে দ্বিতীয়বার বিয়ে করব না। তাই ওই সন্তানটি আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন হতে পারত, কিন্তু ও পৃথিবীতে আসতে পারল না।’
সন্তান হারানোর এই গভীর শোক কাটাতে তিনি সেই মৃত সন্তানকে উদ্দেশ্য করে নিয়মিত চিঠি লিখতেন বলেও জানান।
আইনি লড়াই লড়তে চেয়েছিলেন দাদা অন্নু কাপুর
সীমা কাপুরের এই চরম দুঃখের দিনে ওম পুরীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দিয়েছিলেন তাঁর দাদা তথা বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা অন্নু কাপুর (Annu Kapoor)। অন্নু কাপুর তাঁর বোনকে এই তীব্র যন্ত্রণার মধ্যে দেখতে পারছিলেন না।
সীমা জানান, ‘আমার পরিবারের সকলেই, বিশেষ করে অন্নু ভাই আমাকে ভীষণ ভালোবাসে বলে ওম পুরীর বিরুদ্ধে একটা আইনি লড়াই লড়তে চেয়েছিল। ও আমাকে এই দুঃখে দেখতে পারছিল না। কিন্তু আমি নিজে কোনও ধরণের আইনি কাদা-ছোড়াছুড়ির মধ্যে যেতে চাইনি।’
পরপর দুটি বড় আঘাত: দূরত্ব বৃদ্ধি ও ডিভোর্স পেপার
সীমা কাপুর মনে করেন, তিনি যখন ওম পুরীকে ছেড়ে রাজস্থানে নিজের মায়ের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন, সেই সিদ্ধান্তটাই ওম পুরী ও তাঁর মাঝে দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ এর ফলে ওম পুরীর জীবনে অপর নারী (নন্দিতা)-র আসার পথ আরও সহজ হয়ে যায়।
সন্তান হারানোর পর পরই ওম পুরী সীমাকে বিবাহবিচ্ছেদের আইনি নোটিশ (Divorce Papers) পাঠান। একের পর এক এই দুটি বড় ধাক্কা সামলানো সীমার পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল।
৪. জীবনের শেষ পর্বে ফিরে এসে ক্ষমা চেয়েছিলেন ওম পুরী
সম্পর্কের এই তিক্ততা অবশ্য আজীবন স্থায়ী হয়নি। সীমা কাপুর জানিয়েছেন, বহু বছর পর ওম পুরী আবারও তাঁর জীবনে ফিরে এসেছিলেন এবং নিজের ভুলের জন্য অনুশোচনা করে ক্ষমা চেয়েছিলেন। লন্ডনে ওম পুরীর একটি বড় সার্জারি হওয়ার আগে তিনি সীমাকে ফোন করেছিলেন। সেই সময় তিনি বেঁচে ফিরবেন কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছিলেন, আর তাই ফোনের ওপার থেকে প্রথম স্ত্রীর কাছে নিজের সমস্ত ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


