Bollywood Actor: 'আমার সংসার খরচ প্রয়োজন', বলিউডের এই সুপারস্টার এখন বিয়েবাড়িতে নেচে রোজগার করেন

একটা সময় তাঁর বাড়ির বাইরে থাকত প্রোডিউসারদের লম্বা লাইন। এখন হাতে কাজ নেই। ব্রেন স্ট্রোকের পর ৫ বছর স্ট্রাগল করছেন রাহুল রায়। 

Published on: Sep 8, 2026, 08:30:20 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বিনোদন জগতে কখন কে সাফল্যের চূড়া থেকে তলানিতে এসে ঠেকবেন, তা বলা কঠিন। এমনই এক করুণ ও লড়াইয়ের গল্পের মুখোমুখি হতে হলো ১৯৯০ সালের কালজয়ী ছবি ‘আশিকি’ খ্যাত অভিনেতা রাহুল রায়কে। যে তারকা একসময় রাতারাতি তরুণ প্রজন্মের হৃদস্পন্দন হয়ে উঠেছিলেন, আজ নিজের সংসার ও চিকিৎসার খরচ চালাতে বিভিন্ন বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশন করে টাকা উপার্জন করছেন।

'আমার সংসার খরচ প্রয়োজন', বলিউডের এই সুপারস্টার এখন বিয়েবাড়িতে নেচে রোজগার করেন
'আমার সংসার খরচ প্রয়োজন', বলিউডের এই সুপারস্টার এখন বিয়েবাড়িতে নেচে রোজগার করেন

বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ এবং ভাইরাল ভিডিও

গত বছর একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে রাহুল রায়ের পারফর্ম করার ভিডিও ভাইরাল হলে ভক্তরা চরম বিস্মিত হন। পরবর্তীতে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সাথেও তাঁর ভিডিও ছড়ায়। সম্প্রতি নিজের এই কঠিন লড়াই ও ব্রেন স্ট্রোকের পর অভিনয়ে ফেরার প্রচেষ্টা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেতা।

৬০ বছর বয়সে নতুন করে শূন্য থেকে শুরু

রাহুল জানান, তিনি ও তাঁর ভাই দীর্ঘদিন ধরে একটি ৩০ লাখ টাকার আইনি মামলা লড়ছেন, যা তাঁরা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চান। পাশাপাশি, স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদের সময় সমস্ত সম্পত্তি স্ত্রীর নামে হস্তান্তর করার পর বর্তমানে তিনি নতুন করে সবকিছু গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। তাঁর কথায়, ‘আমার বয়স এখন ৬০ বছর এবং আমি নতুন করে নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।’

ব্রেন স্ট্রোক এবং গত ৫ বছরের বিরতি

স্বাস্থ্যসংকট ও কাজের অভাব নিয়ে রাহুল রায় বলেন, ‘গত ৫ বছর আমার জন্য এক প্রকার বিরতির মতো ছিল, কারণ আমি ব্রেন স্ট্রোকের পর সুস্থ হয়ে উঠছিলাম। হাতে কোনো কাজ ছিল না। তবে এখন কিছু কাজ পাচ্ছি এবং আমি আরও কাজ করতে চাই। এত দিন পর সেটে ফিরে ও ক্যামেরা ফেস করে খুব ভালো লাগছে। যাঁরা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ। ৩৭ বছরের সিনে জার্নিতে আমি ভালো কাজ করেছি এবং সামনেও করে যেতে চাই।’

ট্রোলিংয়ের জবাবে রাহুলের স্পষ্ট বার্তা

বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কটাক্ষ প্রসঙ্গে রাহুল বলেন, ‘আমার সংসার ও খরচের জন্য অর্থের প্রয়োজন। ব্রেন স্ট্রোকের পর কাজ পাওয়া কঠিন ছিল। গত ৫ বছর ধরে বেঁচে থাকার জন্য যা করা সম্ভব, তা-ই করছি। কখনও বিয়ের অনুষ্ঠানে নেচে ২ লাখ আবার কখনও ৪ লাখ টাকা পাই। যাঁরা আমাকে ট্রোল করছেন, তাঁরা বোঝেন না যে এটাও কঠোর পরিশ্রম। আমাকে আমার সমস্ত খরচের ভার বহন করতে হয়।’

পাশে দাঁড়িয়েছেন সলমন থেকে মহেশ ভাট

ইন্ডাস্ট্রির কঠিন সময়ে যাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রাহুল। তিনি জানান—সলমন খান, করিশ্মা কাপুর, রবিনা ট্যান্ডন, ফারহা খান, অর্চনা পূরণ সিং ও পূজা ভাট তাঁর কঠিন সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে সলমন খান ব্রেন স্ট্রোকের পর রাহুলের চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করেছিলেন।

এছাড়া ‘আশিকি’র সহ-শিল্পী অনু আগরওয়াল, দীপক তিজোরি, অবতার গিল এবং পরিচালক মহেশ ভাটের প্রতিও তিনি ধন্যবাদ জানান। দীপক তিজোরির সাথে খুব শীঘ্রই আবারও একসঙ্গে কাজ করার আশা ব্যক্ত করেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More