জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য! FIR দায়ের হতেই মন্দিরে স্মৃতি মন্দনার প্রাক্তন পলাশ মুচ্ছল
নেতিবাচক কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই খবরের শিরোনামে রয়েছেন পলাশ মুছল। পলাশ এখন খাটু শ্যামজি এবং সালাসার বালাজি মন্দিরে পৌঁছেছিল। সেখান থেকে ছবি শেয়ার করে নিজের হৃদয়ের কথাও লিখেছেন পলাশ।
স্মৃতি মন্ধানার সঙ্গে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই সুরকার ও গায়ক পলাশ মুচ্ছল নেতিবাচক কারণে বেশ চর্চায় রয়েছেন। এবার পলাশের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন স্মৃতির শৈশবের বন্ধু বিজ্ঞান মানে। তবে সমস্ত বিতর্কের মাঝেই পলাশ পৌঁছে গেলেন খাটু শ্যামজি মন্দির এবং সালাসর বালাজি মন্দির-এ। ভগবানের আশীর্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি একটি বার্তাও শেয়ার করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

‘যেখানে মাথা নত করেছি, সেখানেই শান্তি পেয়েছি’
মন্দির দর্শনের কিছু ছবি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে পলাশ লিখেছেন, ‘যেখানে মাথা নত করেছি, সেখানেই শান্তি পেয়েছি।’ যদিও চলতি বিতর্ক এড়াতেই তিনি তাঁর পোস্টের কমেন্ট সেকশন বন্ধ রেখেছেন বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, স্মৃতির বন্ধু বিজ্ঞান মানে অভিযোগ করেছেন যে, একটি ফিল্ম প্রোজেক্ট সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের সময় পলাশ তাঁর সঙ্গে শুধু প্রতারণাই করেননি, জাতিগত মন্তব্য করেও তাঁকে অপমান করেছেন।
পলাশের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, একটি সিনেমায় বিনিয়োগের নাম করে পলাশ নাকি ২৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, সেই ছবি তৈরি হয়নি, এমনকী টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, অভিযোগকারীর দাবি—পরবর্তীতে তাঁকে জাতি নিয়ে অপমানজনক মন্তব্যও করা হয়।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগকারী নিজের বয়ানে জানিয়েছেন, ‘২২ নভেম্বর ২০২৫ সালে তিনি (পলাশ মুচ্ছল) সাংলিতে ছিলেন। আমি বন্ধুদের সঙ্গে সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাই। তখনই আমাদের মনে হয়, তিনি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। এরপর তিনি জাতি নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা আমি আমার এফআইআরে উল্লেখ করেছি। কারণ সেগুলো প্রকাশ্যে বলা সম্ভব নয়।’
পলাশ ও স্মৃতির বিয়ে ভাঙা
গত বছরের নভেম্বরেই পলাশ মুচ্ছলের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল ও ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটার স্মৃতি মন্ধানা-র। প্রাক বিয়ের প্রায় সব অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিয়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই খবর আসে, স্মৃতির বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। সেই কারণেই আপাতত বিয়ে স্থগিত রাখা হয়। এমনকী, এরকমও শোনা যায় যে, পলাশ নিজেও নাকি হাসপাতালে ভর্তি। তারপর ধীরে ধীরে সামনে আসে নানা খবর। দেখা যায়, দুজন দুজনকে আনফলো করেছেন। স্মৃতি পলাশের সঙ্গে সব ছবিও মুছে দিয়েছেন। তারপর জানা যায়, বিয়ের আগের রাতে স্মৃতির বন্ধুরা পলাশকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এক মহিলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায়। তিনি নাকি মারও খান হবু বউয়ের বান্ধবীদের হাতে।
অভিযোগ নিয়ে কী বলেছিলেন পলাশ?
এই বিতর্কের মাঝেই পলাশ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘আমি আমার ব্যক্তিগত জীবন থেকে কিছুটা দূরে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং জীবনে এগিয়ে যেতে চাইছি। মানুষ আমার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ তুলছে, সেটা দেখা আমার জন্য অত্যন্ত কঠিন। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়, আর আমি আমার বিশ্বাসের জোরেই এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে চাই। কখনও কখনও আমাদের কথাই অন্য কাউকে আঘাত দিতে পারে।’ এমনকী, বিয়ে ভাঙা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে দেখা গিয়েছিল পলাশকে।
কাজে মন দিয়েছেন স্মৃতি
অন্য দিকে স্মৃতি মন্ধনা আপাতত নিজের কাজ এবং ক্রিকেটের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন। পাশাপাশি ফিটনেসের প্রতিও বিশেষ নজর রাখছেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতেও পছন্দ করছেন ভারতীয় তারকা ক্রিকেটার।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


