Leena-Rahul: সমুদ্রের গভীর জলেই সিন..’, রাহুলের মৃত্যুর দু-সপ্তাহ পার, লীনার মিথ্যাচার জারি
Paramita Munsi-Rahul Banerjee: পরিচালক পারোমিতা মুন্সীর ফেসবুক পোস্ট টলিপাড়ার এক অস্বস্তিকর সত্যকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। একদিকে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু নিয়ে রহস্য আর গাফিলতির পাহাড়, অন্যদিকে ইন্ডাস্ট্রির নব্য জৌলুসের উদযাপন—
Leena-Rahul: ক্যালেন্ডারের পাতায় চোদ্দ দিন পার। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ক্ষত এখনও দগদগে, প্রিয় বাবিনকে হারিয়ে টলিউড শোকস্তব্ধ। কিন্তু দু’সপ্তাহ পরও এই মৃত্যু তদন্তের মামলা বড়ই ধূসর। পরিচালক পারোমিতা মুন্সীর সাম্প্রতিক পোস্ট যেন সেই জমাট বাঁধা অন্ধকারকেই বিদীর্ণ করল। যে প্রোডাকশন হাউসের শুটিংয়ে গিয়ে এই পরিণতি, তাদের তরফে আজও মেলেনি ন্যূনতম দুঃখপ্রকাশ, নেই কোনো দায় স্বীকার। বরং দায়সারা জবাব দিয়েই ক্ষান্ত লীনা-শৈবালরা। আর্টিস্ট ফোরামের চিঠিরও উপযুক্ত জবাব দেয়নি তাঁরা। অথচ শুরু থেকেই একের পর এক মিথ্যাচার। পারোমিতা দাবি করেন, লীনা যেমনটা বলেছিলেন হাঁটু জলে শ্যুট তা নয়, চিত্রনাট্যে নাকি নায়কের মৃত্য়ুদৃশ্যের শ্যুটিং করার কথা ছিল। যেই স্ক্রিপ্ট অনেকের কাছেই রয়েছে।

বিপজ্জনক মোহনা আর নিখোঁজ ড্রোন
পারোমিতার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। সমুদ্রের যে গভীর জলে সিনটি শুট করা হচ্ছিল, তা ছিল কার্যত মৃত্যুকূপ। ভরা কোটালের সময় মোহনার বিপজ্জনক চরে কোনও পুলিশি অনুমতি বা সেফটি মেজার ছাড়াই চলছিল ক্যামেরা। তিনি আগেই দাবি করেছেন, রাহুলের চরিত্রের (উজান)-এর মৃত্যুদৃশ্য নাকি শ্যুট হওয়ার কথা ছিল ওখানে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাহুল যখন তলিয়ে যাচ্ছেন, তখনও ড্রোন ক্যামেরা চলছিল। কিন্তু সেই ড্রোনের ফুটেজ গেল কোথায়? কেন আজও সেই অকাট্য প্রমাণ চেপে রাখছে প্রোডাকশন হাউস? ওড়িশা পুলিশের মন্থর গতির আড়ালে সত্যটা কি তবে বালিচাপা পড়ে যাবে?
ভিক্টিম ব্লেমিং ও ‘আইটি সেল’-এর আস্ফালন
রাহুলের মৃত্যু তদন্তের বদলে একদল মত্ত হয়েছে তাঁর অতীত খুঁড়তে, অভিযোগ পরিচালক পারোমিতা মুন্সীর। মৃত মানুষের চরিত্রে কালি ছিটিয়ে কি অপরাধীর গাফিলতি আড়াল করার চেষ্টা চলছে? এর মধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় গজিয়ে ওঠা নামগোত্রহীন কিছু ফেক পেজ আর ‘এআই বোট’ প্রোফাইল থেকে শুরু হয়েছে ‘আহা-উহু’। সিরিয়াল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শোকপ্রকাশ চলছে, কিন্তু যে প্রাণটা গেল তার বিচার নিয়ে সবাই মৌন। আফসোস পারোমিতার।
অভিভাবকের মৌনতা বনাম ‘DESU7’-এর ধামাকা
প্রশ্ন উঠেছে ইন্ডাস্ট্রির অন্দর থেকেও। পারোমিতা মুন্সীর প্রশ্নটি বিঁধছে তীরের মতো— যখন ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে কেউ জেনেশুনে অপরাধ করে ঘাপটি মেরে বসে থাকে, তখন ‘অভিভাবক’রা কেন চুপ? প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে যে হাস্যকর প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তার আড়ালে কি আসলে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল?
সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা হলো, রাহুলের অকালমৃত্যু আজ যেন এক গৌণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন মেগাস্টার দেবের আসন্ন প্রজেক্ট ‘DESU7’। চিত্রনাট্য থেকে পরিচালনা, প্রযোজনা— সবটাই যখন ‘মেগাস্টার’ দেবের কাঁধে, তখন চারদিকে অভিনন্দন আর হাততালির ফোয়ারা। পারোমিতা মুন্সীর ভাষায় এই ‘স্লো ক্ল্যাপ’ আসলে এক গভীর বিদ্রূপ।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


