Phool Pishi o Edward BO: ১ম দিনের খরা কাটিয়ে ২য় দিনে দুরন্ত কামব্যাক! বক্স অফিসে লক্ষ্মীলাভ করল ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড
উইন্ডোজ প্রোডাকশনের ২৫তম ছবি ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড নিয়ে সিনেপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা কম ছিল না। মুক্তির প্রথম দিন বক্স অফিসে কিছুটা ধিমে তালে খাতা খুললেও, দ্বিতীয় দিনেই এক লাফে অনেকটা বাড়ল ছবির কালেকশন।
ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ শ্যামৌপ্তি মুদলির বড়পর্দায় অভিষেক ছবি ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড নিয়ে সিনেমা প্রেমীদের মধ্যে চর্চা কম ছিল না। সঙ্গে টলিপাড়ার একঝাঁক হেভিওয়েট তারকা— রাইমা সেন, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, অনন্যা চট্টোপাধ্যায়, সোহিনী সেনগুপ্তরা।

উইন্ডোজ প্রোডাকশনের এই নতুন ছবি মুক্তির প্রথম দিন বক্স অফিসে কিছুটা ধিমে তালে খাতা খুললেও, দ্বিতীয় দিনেই কিন্তু এক লাফে অনেকটা বাড়ল ছবির কালেকশন। সাধারণ দর্শকদের প্রশংসা আর পজিটিভ মাউথ পাবলিসিটির জোর যে এখনও টলিউডে শেষ হয়ে যায়নি, এই ছবির দ্বিতীয় দিনের ব্যবসার গ্রাফ যেন সেটাই প্রমাণ করে দিল।
প্রথম দিনের খরা ও মন্দা বাজার
চলচ্চিত্র বাণিজ্য বিশ্লেষক সংস্থা স্যাকনিল্ক (Sacnilk)-এর সাম্প্রতিকতম রিপোর্ট অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম দিন অর্থাৎ ডে ১-এ বক্স অফিসে ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড ছবির ব্যবসা ছিল বেশ কম। প্রথম দিন মাত্র ১২ লাখ টাকার ব্যবসা করতে পেরেছিল এই ছবি। উইন্ডোজের মতো বড় ব্যানারের ছবির ক্ষেত্রে ওপেনিং ডে-র এই কালেকশনকে বক্স অফিসের পরিভাষায় আশানুরূপ নয় বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। অনেকেই মনে করছিলেন, বড়পর্দায় শ্যামৌপ্তির প্রথম ইনিংস হয়তো দর্শকদের সেভাবে টানতে পারল না।
উইকএন্ডের ধামাকা, দ্বিতীয় দিনে লাফিয়ে বাড়ল কালেকশন
প্রথম দিনের মন্দা বাজার দেখে যাঁরা ছবির ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান ছিলেন, তাঁদের মুখে কার্যত ছাই দিয়ে দ্বিতীয় দিনেই ঘুরে দাঁড়াল ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড। স্যাকনিল্ক-এর অফিশিয়াল ডেটা বলছে, দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ডে ২-তে ছবির কালেকশন এক ধাক্কায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ লাখে। প্রথম দিনের তুলনায় এই বৃদ্ধি প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি, যা টলিউডের বর্তমান বাজারের নিরিখে অত্যন্ত ইতিবাচক এক লক্ষণ। রবিবারের ছুটিতে সিনেমা হলে দর্শকদের ভিড় আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন হল মালিকেরা।
কী এই ছবির গল্প?
জমিদার বাড়ির জমজমাট রহস্য , ছবির ব্যবসার এই জোয়ার আসার পেছনে রয়েছে এর টানটান চিত্রনাট্য। গল্প আবর্তিত হয়েছে এক রাজকীয় জমিদার পরিবারকে কেন্দ্র করে। ছবির গল্প অনুযায়ী, জমিদার মণীন্দ্র চন্দ্র নন্দী (অর্জুন চক্রবর্তী) বেঁচে থাকার জন্য একটি কিডনির খোঁজে চতুর্থবারের জন্য বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর বর্তমান স্ত্রী অদিতি (রাইমা সেন) নিজের কিডনি দিতে অস্বীকার করলে, অদিতির বোন বিনীতার (শ্যামৌপ্তি মুদলি) সঙ্গে জমিদারের বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়। কিন্তু বিয়ের দিনই আচমকা রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় জমিদারের! এরপরই গল্পে এন্ট্রি নেন এক পুলিশ অফিসার (রজতাভ দত্ত) এবং শুরু হয় খুনের রহস্য উদঘাটন।
এই জমিদার বাড়ির অন্দরেই জড়িয়ে রয়েছেন রাজলক্ষ্মী (কোনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়), পরিবারের বড় সদস্য হাসি দেবী (অনামিকা সাহা) এবং বাঈজি পুতুল বাই (অনন্যা চট্টোপাধ্যায়)। আর এই পুরো জট পাকা রহস্যের সমীকরণ ভেদ করতে পর্দায় অবতীর্ণ হন ফুল পিসি (সোহিনী সেনগুপ্ত)। মিস মার্পল ঘরানার এই পিসির তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর তাঁর কাণ্ডকারখানা দর্শকদের সবথেকে বেশি বিনোদন জোগাচ্ছে।
দর্শকদের ভালোবাসাই আসল চাবিকাঠি
শেষ কথা যে সাধারণ দর্শকরাই বলেন, তা উইকএন্ডের এই কালেকশন দেখেই স্পষ্ট। প্রথম দু-দিনের এই কালেকশন রিপোর্টের পর হল-ট্রেড বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সামনের দিনগুলোতে ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড বক্স অফিসে আরও বড় চমক দিতে চলেছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


