Srijato Bandyopadhyay Arrest: সত্যি কি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে শ্রীজাতর নামে? সত্য়িটা জানাল নির্বাচন কমিশন

Srijato Bandyopadhyay Arrest: যোগী আদিত্যনাথ শপথ নেওয়ার পর কবি শ্রীজাত তাঁর ফেসবুক ওয়ালে ‘অভিশাপ’ নামে ১২ লাইনের একটি কবিতা পোস্ট করেন। ওই কবিতার শেষ দুই লাইনে ব্যবহৃত শব্দবন্ধ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।

Published on: Apr 22, 2026, 11:27:19 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Srijato Bandyopadhyay Arrest: কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সাত বছর আগের একটি মামলায় শিলিগুড়ি আদালতের পক্ষ থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে হইচই শুরু হয় বুধবার সকালে। জনপ্রিয় এই কবির বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে দায়ের করা মামলার জল নাকি গড়িয়েছে অনেকটাই। কিন্তু বেলা গড়াতেই বদলে গেল সব।

গ্রেফতারি পরোয়ানা কবি শ্রীজাতর নামে! পুরনো কবিতার জেরে বিপাকে কবি
গ্রেফতারি পরোয়ানা কবি শ্রীজাতর নামে! পুরনো কবিতার জেরে বিপাকে কবি

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানালো, এই খবর ভুয়ো। শ্রীজাতর বিরুদ্ধে কোনও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়নি। কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা বলা হয়, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য ও ভুয়ো খবর ছড়ানোর তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে।’

তবে ২০১৭ সালে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা একটি কবিতার রেশ ধরে এদিন আবারও সংবাদের শিরোনামে কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রীজাত এদিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তাঁর সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেনি। নিশ্চিত করে কিছু জানতে পারলেই তিনি প্রতিক্রিয়া দিতে পারবেন। সংবাদমাধ্যমের থেকেই তিনি এই একটি কথা জানতে পেরেছেন। কোনও অফিসিয়্যাল নথি হাতে পাননি।

কী নিয়ে বিতর্ক: ২০১৭ সালের সেই বিতর্কিত কবিতা

২০১৭ সালের ১৯ মার্চ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যোগী আদিত্যনাথ শপথ নেওয়ার পর কবি শ্রীজাত তাঁর ফেসবুক ওয়ালে ‘অভিশাপ’ নামে ১২ লাইনের একটি কবিতা পোস্ট করেন। ওই কবিতার শেষ দুই লাইনে ব্যবহৃত শব্দবন্ধ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। বিশেষ করে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, কবি হিন্দুদের পবিত্র প্রতীক ‘ত্রিশূল’ নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন এবং এর ফলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে।

আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের তদন্ত

কবিতাটি পোস্ট করার পর শিলিগুড়ির বাঘডোগরার বাসিন্দা অর্ণব সরকার নামে এক কলেজ ছাত্র শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় কবির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শ্রীজাতর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৫এ (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। যদিও সে সময় শ্রীজাতর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বাংলার বুদ্ধিজীবী মহলের একটি বড় অংশ। মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে শ্রীজাতর সুরক্ষায় রাজ্য সরকারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতের টানাপোড়েন

মামলাটি দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকার পর ২০২২ সালে কলকাতা হাইকোর্ট বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটকে এই মামলার তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। মামলাকারী বিপ্লব কুমার চৌধুরী অভিযোগ করেছিলেন যে, ২০১৭ সালে এফআইআর হলেও পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের পর তদন্ত প্রক্রিয়া আবার গতি পায়।

শ্রীজাতর প্রতিক্রিয়া ও বাকস্বাধীনতা বিতর্ক

শ্রীজাত বরাবরই তাঁর লেখনীর মাধ্যমে সামাজিক ও রাজনৈতিক অসঙ্গতির প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছেন। এই মামলা প্রসঙ্গে তিনি এর আগে জানিয়েছিলেন যে, তাঁর কবিতায় ব্যবহৃত রূপকগুলো না বুঝে অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এটি কেবল তাঁর মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত নয়, বরং সাহিত্যের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More