Rahul-Srijato: ‘১৯ জুলাই অবধি যদি বেঁচে থাকি…',মেসির বিশ্বকাপ অভিযানের আগে শ্রীজাতর আর্জেন্তিনা ভক্ত রাহুল-স্মরণ

শ্রীজাতর মায়ের মৃত্যুর দিন শুটিং ফেলে শ্মশানে ছুটে এসেছিলেন রাহুল, অথচ তার ঠিক দু-মাস পরেই সেই একই শ্মশানে রাহুলের নিথর দেহের সামনে দাঁড়াতে হয় কবিকে। আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা ছিল তাঁদের বন্ধুত্বের অন্যতম সেতুবন্ধন। বিশ্বকাপের আগে মনমরা শ্রীজাত।

Published on: Jun 10, 2026, 09:00:54 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দু- মাস আগে টলিউড হারিয়েছে তার অন্যতম প্রতিভাবান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর আকস্মিক চলে যাওয়ার ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি টলিপাড়া ও তাঁর কাছের মানুষেরা। বুধবার ভোরে ফের একবার মাঠে নামছে প্রিয় দল আর্জেন্টিনা, আর তার ঠিক আগেই রাহুলের স্মৃতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ, মন ছুঁয়ে যাওয়া আবেগঘন পোস্ট লিখলেন তাঁর প্রিয় 'শ্রীজাতদা' অর্থাৎ প্রখ্যাত কবি-গীতিকার শ্রীজাত।

‘১৯ জুলাই অবধি যদি বেঁচে থাকি…',মেসির বিশ্বকাপ অভিযানের আগে শ্রীজাতর রাহুল-স্মরণ
‘১৯ জুলাই অবধি যদি বেঁচে থাকি…',মেসির বিশ্বকাপ অভিযানের আগে শ্রীজাতর রাহুল-স্মরণ

মারাদোনা-মেসি এবং আর্জেন্টিনার প্রতি রাহুলের যে অন্ধ ও পাগল করা ভালোবাসা ছিল, সেই না-বলা বন্ধুত্বের রূপকথাকেই নিজের শব্দে ফ্রেমে বাঁধলেন কবি।

২০২২ বিশ্বকাপের সেই মারাদোনা টি-শার্ট ও রাহুলের পাগলামি

শ্রীজাত মনে করিয়ে দিয়েছেন ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগের একটা সকালের কথা। হঠাৎ সাতসকালে রাহুলের ফোন— ‘শ্রীজাতদা, তোমার টি-শার্টের সাইজ কত?’। কোনো পুজোর মরশুম নয়, কিছু নয়, হঠাৎ টি-শার্ট কেন? রাহুল উত্তেজিত হয়ে জানিয়েছিলেন, ‘গুরুর’ (মারাদোনা) ছবি দিয়ে নিজের উদ্যোগে সাদা আর কালো রঙের দুটো টি-শার্ট ছাপিয়েছেন তিনি, যা তাঁর আর্জেন্টিনার ‘দলের’ কাছের মানুষদের উপহার দিচ্ছেন।

সৌদি আরবের কাছে প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ার পর যখন নেটপাড়ায় ট্রোল হচ্ছিল, তখন রাহুলই শ্রীজাতকে ফোনে ভরসা দিয়ে বলেছিলেন— "ছাড়ো তো শ্রীজাতদা! ওসব হা-হা দু’দিনে শুকিয়ে যাবে। কাপ এবার আমাদের!" শেষমেশ ডিসেম্বরের সেই রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে মেসি যখন বিশ্বকাপ তুললেন, তখন ফোনের এপার-ওপার থেকে দুই বন্ধুর একসাথে হাউহাউ করে কাঁদার সেই মুহূর্ত আজও শ্রীজাতর স্মৃতিতে টাটকা। ২০২০ সালে মারাদোনার মৃত্যুর দিনও এভাবেই ফোনে একসাথে কেঁদেছিলেন দুজনে।

‘শ্মশানের সেই জামাপ কাট কোনো চিত্রনাট্যকারও লিখতে পারবে না’

রাহুলের মনটা কতটা বড় ছিল, তা বোঝাতে শ্রীজাত তাঁর মায়ের মৃত্যুর দিনের একটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন। শ্রীজাতর মা ছিলেন রজার ফেডেরারের কট্টর ভক্ত। মা যেদিন চলে গেলেন, শ্মশানে হঠাৎ উদভ্রান্তের মতো ছুটে এসেছিলেন রাহুল। শুটিং ফেলে চলে আসা রাহুলকে শ্রীজাত জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘শুট ফেলে আসতে গেলে কেন?’ রাহুল হাত দুটো ধরে বলেছিলেন— ‘কী বলছ শ্রীজাতদা? কাকিমা চলে গেল, আমি একবার তোমার কাছে আসব না? এটা হয়? ফেডেরারের একজন সাচ্চা ফ্যান আজ চলে গেল।’ কিন্তু নিয়তির কী নিষ্ঠুর পরিহাস! শ্রীজাত লিখেছেন: ‘তখনও আমি জানি না, সেই ও আমার দু’চোখ থেকে চিরতরে ফ্রেম আউট করছে। দেখা হলো ঠিকই, দু’মাস পরে, আর ঠিক ওই শ্মশান চত্বরেই। কেবল এবার খবর পেয়ে ছুটে এসেছি আমি আর দূর্বা, রাহুল শুয়ে আছে ফুলে ঢাকা, নিথর। কোনো বৈপ্লবিক চিত্রনাট্যকারও এরকম একটা জাম্প কাট লেখার আগে দশবার ভাববে, এবং শেষমেশ লিখবে না। কিন্তু জীবনের এসব নিয়ে অতশত ভাবনা নেই। রাহুলকে আবার জড়িয়ে ধরলাম। আমাদের সেই দলের জার্সি ওর বুকের ওপর বিছিয়ে রাখা।’

শেষ মেসেজের সেই অদ্ভুত আকুতি: 'মরে যাব তো তোমার কিছু হলে!'

শ্রীজাতর স্ত্রী দূর্বাকে নিজের দিদির মতো ভালোবাসতেন রাহুল। মৃত্যুর মাত্র পাঁচ দিন আগে শ্রীজাতর গাড়ি দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাত দেড়টায় রাহুল মেসেজ করেছিলেন— ‘কী গো, ঠিক আছ তো? মরে যাব তো তোমার কিছু হলে!’ শ্রীজাত আক্ষেপ করে লিখেছেন, ‘এভাবে কে লেখে? কে লিখতে পারে? যে পাগল। যে পাগলের মতো ভালোবাসে।’ বুধবার ভোরে আর্জেন্টিনা আবার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করছে। মূল প্রতিযোগিতা শুরুর আগে প্রীতি ম্যাচ খেলতে নামছে। সামনে আরও একটা বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি, যেখানে মেসি শেষবার খেলবেন দেশের জার্সিতে। কিন্তু আর্জেন্টিনার সেই ‘পাগল’ সমর্থক রাহুল আজ আর গ্যালারিতে বা টিভির সামনে নেই। আলমারিতে পাট করে রাখা আছে রাহুলের দেওয়া সেই মারাদোনার টি-শার্ট দুটো। শ্রীজাতর বিষণ্ণ প্রশ্ন— যদি এবারও আর্জেন্টিনা জেতে বা হারে, চোখ তো ভিজবেই, কিন্তু— ‘তখন আমি কাকে ফোন ক’রে কাঁদব, রাহুল?’

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More