Pinky: ‘শমীক ভট্টাচার্যকে ভীষণই ভাল লাগে…’, কাঞ্চনের প্রাক্তন বউ পিঙ্কি এবার রাজনীতিতে?
ইমনের পর এবার পিঙ্কি, টলিপাড়ায় নতুন ফ্যানগার্ল খুঁজে পেলেন শমীক ভট্টাচার্য। পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায় মুগ্ধ বাগ্মী শমীকের জাদুতে। রাজ্য়ে পালাবদলের পর পিঙ্কি বললেন, ‘নিরপেক্ষ মানুষেরা এবার নিঃশ্বাস ফেলছেন!’
বঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই টলিপাড়ার সমীকরণে এক বিরাট ওলটপালট দেখা যাচ্ছে। প্রাক্তন সরকারের ছায়া থেকে বেরিয়ে শিল্পীদের একাংশ এখন নতুন সরকারের প্রশংসায় মুখর। এই আবহে বিনোদন দুনিয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক অলিন্দেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে অভিনেত্রী পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পিঙ্কি সমাজমাধ্যমে ক্রমাগত রাজ্য সরকারের নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও কাজের খতিয়ান পোস্ট করে চলেছেন। তবে কি এবার সরাসরি পদ্ম শিবিরের হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখছেন তিনি? আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে এই নিয়ে নিজের মনের কথা স্পষ্ট করলেন অভিনেত্রী।

শমীকের শব্দচয়ন ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের কাজের তারিফ
রাজনীতির জটিল মারপ্যাঁচ বোঝেন না দাবি করলেও, নতুন জমানার বেশ কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কাজে যে পিঙ্কি মুগ্ধ, তা ওঁর কথাতেই পরিষ্কার। পিঙ্কির গলায় বিশেষ করে শোনা গেল বিজেপির প্রবীণ নেতা শমীক ভট্টাচার্যের প্রশংসা। অভিনেত্রীর কথায়, শমীক ভট্টাচার্যকে ওঁর ভীষণই ভাল লাগে। ওঁর মতো শব্দচয়ন বহুদিন কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে শোনা যায়নি। দিনকয়েক আগে উচ্চ মাধ্যমিকের কৃতী ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে শমীকবাবু যে বক্তব্য রাখছিলেন, সেটা এক মুহূর্তের জন্যও ফোন স্ক্রল না করে পুরোটা শুনেছেন পিঙ্কি। নতুন সরকারের হাত ধরে শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে বলেও তিনি আশাবাদী।
পাশাপাশি সোনারপুরের বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের কাজেরও প্রশংসা করেছেন পিঙ্কি। তীব্র গরমের মধ্যেও যেভাবে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এলাকায় তৎপরতার সঙ্গে রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করেছেন, সমাজমাধ্যমে সেই ছবি দেখে রূপার কর্তব্যের তারিফ করেছেন তিনি।
নিরপেক্ষ মানুষেরা এবার নিঃশ্বাস ফেলছেন, বিঁধলেন প্রাক্তন সরকারকেও
বিগত সরকারের আমলে টলিপাড়ার অন্দরে ক্ষমতার দাপট, কাজ না পাওয়া কিংবা অলিখিত নিষেধাজ্ঞার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পিঙ্কি। তাঁর সঙ্গে সরাসরি বড় কোনো বিপর্যয় না ঘটলেও, ইন্ডাস্ট্রির চেনা সমীকরণে তাঁকে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে এবং চুপচাপ অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে জানান।
বর্তমান পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে পিঙ্কি বলেন, নিরপেক্ষ মানুষেরা এবার স্বাধীনভাবে নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন। এই নিশ্চিন্ত বোধটাই আগে সমাজে মিস করতেন তিনি। তবে নতুন সরকারকে নিয়ে এখনই অতি-আশাবাদী হয়ে পরে আশাহত হতে চান না তিনি। সবটা বদলে যেতে সময় লাগবে জানলেও, নতুন সরকারের দ্রুত কাজ করার মানসিকতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
প্রাক্তন স্বামী ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিকল্পনা
পিঙ্কির প্রাক্তন স্বামী কাঞ্চন মল্লিক প্রাক্তন সরকারের বিধায়ক ছিলেন। তবে কাঞ্চনকে নিয়ে এখন আর কোনো মন্তব্য করতে চান না পিঙ্কি। কিন্তু জল্পনা যেখানে তুঙ্গে যে তিনি কি এবার বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন? সেই প্রসঙ্গে পিঙ্কি সমস্ত সম্ভাবনা এক ফুঁয়ে উড়িয়ে না দিলেও জানিয়েছেন যে মানুষের জীবন অনিশ্চিত। এখনই ওঁর সক্রিয় রাজনীতিতে আসার তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ তিনি নিজেকে মূলত একজন শিল্পী হিসেবেই দেখেন। তবে রাজনীতির ময়দানে পা না রাখলেও, নতুন সরকার রাজ্যকে নিয়ে যা যা ভাবছে, তা নিয়ে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


