Pooja Bhatt-Bobby Deol: ‘সম্পর্কটা পূর্ণতা পায়নি…’,ববির সঙ্গে ভাঙা প্রেম নিয়ে মুখ খুললেন আলিয়ার সৎ দিদি
অ্যানিম্যাল ছবিতে সৎ ভাই হিসাবে রণবীর-ববি পর্দা কাঁপিয়েছেন কিন্তু বাস্তবে তাঁদের সমীকরণটা অন্যরকম হতে পারত। সব ঠিক থাকলে তাঁরা দুজন হতেন ভায়রা ভাই। কিন্তু পূজা ভাটের সঙ্গে প্রেম টেকেনি ধর্মেন্দ্রর ছোট ছেলের। ব্রেকআপ প্রসঙ্গে কী বললেন পূজা ভাট?
নব্বইয়ের দশকে বলিপাড়ার অন্যতম চর্চিত এবং হাই-প্রোফাইল প্রেম ছিল তাঁদের। মহেশ ভাটের স্পষ্টবক্তা কন্যা পূজা ভাট এবং ধর্মেন্দ্রর ছোট ছেলে ববি দেওল। সেই প্রেম টেকেনি ঠিকই, সময়ের নিয়মে দু’জনের পথ আলাদা হয়ে গিয়েছে বহু বছর আগে। কিন্তু পুরোনো তিক্ততা ভুলে এবার ববি দেওলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন পূজা। ‘অ্যানিম্যাল’ ছবির আকাশছোঁয়া সাফল্যের পর ববির এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনকে কুর্নিশ জানিয়ে পুরোনো প্রেমের নস্টালজিয়ায় ভাসলেন ভাট-কন্যা।

‘আজও ও আমার হৃদয়ের খুব কাছে’
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অতীত জীবন এবং সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন পূজা। আর সেখানেই অবধারিতভাবে উঠে আসে ববি দেওলের প্রসঙ্গ। ববির সঙ্গে কাটানো সেই সোনালী দিনগুলোর কথা মনে করে পূজা বলেন:
‘ববি একজন অসাধারণ এবং ম্যাজিক্যাল মানুষ। আমাদের সম্পর্কটা হয়তো পূর্ণতা পায়নি, কিন্তু তার মানে এই নয় যে ওঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা বা ভালোবাসা কমে গিয়েছে। ও আজও আমার হৃদয়ের একটা বিশেষ জায়গায় রয়ে গিয়েছে।’
পূজা জানান, ববি দেওলের ভেতরের সততা এবং সরলতা তাঁকে বরাবরই মুগ্ধ করত। কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে দু’জনে একসঙ্গে যে সুন্দর সময় কাটিয়েছেন, তা তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা অধ্যায়।
‘লর্ড ববি’র কামব্যাক এবং পূজার উল্লাস
কয়েক বছর আগেও ববি দেওলের কেরিয়ার গ্রাফ যখন তলানিতে ঠেকেছিল, তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন ‘ছোট দেওল’-এর ম্যাজিক শেষ। কিন্তু সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার ‘অ্যানিম্যাল’ ছবিতে ‘আবরার’ চরিত্রে ববির স্ক্রিন প্রেজেন্স রাতারাতি বদলে দিয়েছে সব সমীকরণ। নেটপাড়া এখন তাঁকে ‘লর্ড ববি’ বলে ডাকে।
ববির এই দুর্দান্ত কামব্যাকে নিজের আনন্দ চেপে রাখতে পারেননি পূজা। তিনি বলেন, 'আমি সবসময় জানতাম ও কীসের যোগ্য। আজ যখন গোটা দেশ ওঁর অভিনয়ের প্রশংসায় মেতেছে, তখন আমার চেয়ে বেশি খুশি কেউ হয়নি। ওর এই সাফল্য পুরোপুরি প্রাপ্য ছিল।'
অতীত ভুলে সখ্যতা
বলিউডে ববি ও পূজার প্রেম ভাঙা নিয়ে একসময় কম জলঘোলা হয়নি। শোনা যেত, দুই পরিবারের আপত্তিতেই নাকি ছাদনাতলা পর্যন্ত পৌঁছয়নি এই জুটির প্রেমকাহিনি। তবে কাদা ছোঁড়াছুড়ির চেনা ছক ভেঙে পূজার এই মন্তব্য প্রমাণ করে দিল— বিচ্ছেদ মানেই সবসময় কটু সম্পর্ক নয়। নব্বইয়ের দশকের সেই ‘ম্যাজিক্যাল’ প্রেম আজও দুই প্রাক্তনের মনে এক মৃদু মধুর স্মৃতি হয়েই রয়ে গিয়েছে।
মণীশের সঙ্গে বিচ্ছেদ, একাকীত্বেই পরম সুখ পূজার
ববি দেওলের সঙ্গে প্রেম ভাঙার পর পূজার জীবনে এসেছিলেন নামী রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী তথা প্রাক্তন জনপ্রিয় ভিজে (VJ) মণীশ মাখিজা। ২০০৩ সালে বেশ ধুমধাম করেই মণীশের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েছিলেন মহেশ-কন্যা। কিন্তু দীর্ঘ ১১ বছরের দাম্পত্যে কোথাও যেন একটা সুর কেটে গিয়েছিল। শেষমেশ ২০১৪ সালে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই মণীশের সঙ্গে বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন পূজা। আইনিভাবে ডিভোর্স হয়ে যায় তাঁদের।
মণীশের সঙ্গে ঘর ভাঙার পর গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ ‘সিঙ্গল’ জীবন কাটাচ্ছেন পূজা। ৫৪ বছর বয়সে দাঁড়িয়েও কোনো জীবনসঙ্গী ছাড়া একাই নিজের মতো করে রাজত্ব করছেন বলিপাড়ায়। ‘বিগ বস ওটিটি’-র মঞ্চে এসেও নিজের এই একাকীত্ব এবং স্বাধীনতা নিয়ে গর্ব করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।
পূজার কথায়, জীবনে প্রেম এসেছে, বিয়ে হয়েছে, আবার চলেও গিয়েছে। কিন্তু কোনো পুরুষ ছাড়াই যে একজন নারী নিজের শর্তে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে— পূজা ভাট আজ তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। অতীত সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা আর বর্তমান জীবনের এই একলা চলার স্বাধীনতা, দুইয়ে মিলিয়েই ভাট-কন্যা আজও বলিপাড়ার এক ‘অনন্যা’।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


