Pranit More Row: ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি বিতর্কে মুখ খুললেন প্রণীত! চাইলেন ক্ষমা, ‘এই ঘৃণা আমার প্রাপ্য’
‘৩৭০ টাকার বিরিয়ানি’ বিতর্কের পরে, এখন প্রণীত মোরে তাঁর প্রথম ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন। নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন প্রণীত। তিনি জানান, তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করা হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবল বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন কমেডিয়ান প্রণীত মোরে। তাঁর একটি স্ট্যান্ড-আপ শোয়ের ‘৩৭০ টাকার বিরিয়ানি’ বিতর্ক নিয়ে নেটিজেনদের একাংশের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। বিতর্ক শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো একটি ভিডিয়ো বার্তার মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রণীত। ভিডিয়োতে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন, নিজের ভুল স্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তাঁর বিরুদ্ধে চলা সমস্ত আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।

বিতর্কের পর সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন প্রণীত মোরে। ভিডিয়োর শুরুতেই তিনি জানান যে অনেকদিন ধরেই তিনি এই বিষয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে সাসপেন্ড হয়ে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
ভিডিয়োতে প্রণীত বলেন, ‘এই বিষয়টা নিয়ে আমি অনেকদিন ধরে কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার ইনস্টাগ্রাম সাসপেন্ড হয়ে গিয়েছিল। আপনারা সবাই আমার ক্রাউড ওয়ার্কের সেই ভিডিয়োটি দেখেছেন, যার জন্য আমি প্রচুর ঘৃণা এবং সমালোচনার মুখে পড়েছি। আমার মনে হয় এই ঘৃণার একটা বড় অংশ আমার প্রাপ্য। কারণ যখন আমি ক্রাউড ওয়ার্ক করছিলাম, তখন সেই ছেলেটি কিছু অশ্লীল মন্তব্য করেছিল। কিন্তু উপস্থিত সবাই তখন হাসছিল। আমিও সেই পরিস্থিতিতে ভেসে গিয়েছিলাম এবং বিচার-বিবেচনায় ভুল করে ফেলেছিলাম। আমার মনে হয় এটা আমার খুব বড় ভুল ছিল।’
নিজের ভুল স্বীকার করে প্রণীত আরও বলেন যে, তিনি চাইলে সেই মুহূর্তে পরিস্থিতি থামাতে পারতেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাইলে ওকে সেখানেই থামিয়ে দিতে পারতাম। আমি চাইলে একটা স্পষ্ট অবস্থান নিতে পারতাম। কিন্তু আমি সেটা করতে পারিনি। বরং আমি তাঁকে একটি প্ল্যাটফর্ম দিয়েছিলাম, যার ফলে বিষয়টি এতটা বড় আকার ধারণ করেছে। এই ঘটনার কারণে যাঁরা কষ্ট পেয়েছেন বা আঘাত পেয়েছেন, তাঁদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি।’
ভিডিয়োতে তিনি আরও জানান যে তাঁর বিরুদ্ধে যে সমস্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে তিনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। প্রণীত বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যা যা আইনি প্রক্রিয়া চলছে, আমি সেগুলোর সঙ্গে পুরোপুরি সহযোগিতা করছি। আমি আপনাদের সকলের কাছে অনুরোধ করব, আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমাকে আরেকটা সুযোগ দিন। আমি আরও ভালো মানুষ হয়ে দেখাতে চাই। এই ঘটনা আমার জন্যও একটি বড় শিক্ষা। আমি নিজের ওপর কাজ করছি, আমার কনটেন্টের ওপরও কাজ করছি। ভবিষ্যতে আমার কাজের মধ্যে আপনারা সেই পরিবর্তন দেখতে পাবেন।’
প্রণীত মোরের এই ভিডিয়ো প্রকাশের পর তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন টেলিভিশন এবং বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত মুখ। অভিনেত্রী ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব Kishwer Merchant ভিডিয়োটির কমেন্ট সেকশনে লিখেছেন, ‘আমার বিশ্বাস মানুষ আপনাকে ক্ষমা করে দেবে। তবে ভবিষ্যতে নিজের কনটেন্ট এবং ক্রাউড ওয়ার্ক নিয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। শক্ত থাকুন।’
অন্য দিকে, প্রণীতের সঙ্গে ‘বিগ বস’-এ দেখা গিয়েছিল অভিনেত্রী কুণিকা সদানন্দকে। তিনিও এই বিতর্কের মধ্যে প্রণীতকে সমর্থন জানিয়েছেন। কমেন্টে তিনি লেখেন, ‘সবাই ভুল করে, কিন্তু নিজের ভুল স্বীকার করার সাহস সবার থাকে না। প্রণীত, তুমি একজন ভালো ছেলে এবং তোমার মূল্যবোধও ভালো। তবে আমি সবসময়ই বলেছি, রোস্টিং এবং ক্রাউড ওয়ার্কের সময় অনেকেই সীমা অতিক্রম করে ফেলেন। বিশেষ করে একজন পারফর্মার হিসেবে যখন দেখো দর্শকরা হাসছে এবং প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে, তখন সেই আবহে ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমি আশা করি মানুষ তোমাকে ক্ষমা করে দেবে।’
উল্লেখ্য, ‘৩৭০ টাকার বিরিয়ানি’ বিতর্ক ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োটি নিয়ে একদিকে যেমন সমালোচনার ঝড় উঠেছে, অন্যদিকে প্রণীত মোরের এই প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনা এবং নিজের ভুল স্বীকার করার পদক্ষেপকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবেও দেখছেন। এখন দেখার বিষয়, এই বিতর্কের পর তাঁর কেরিয়ার এবং জনসমক্ষে তাঁর ভাবমূর্তির ওপর কী প্রভাব পড়ে।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


