‘আমি হিন্দু, ব্রাহ্মণ, কিন্তু তার আগে মানুষ!’, SRFTI ইস্যুতে অন্তঃসত্ত্বা রোশনিকে 'জিহাদি-কম্যুনিস্ট' কটাক্ষ, এল জবাব
পুজো মিটলেই মা হবেন রোশনি ভট্টাচার্য। মাতৃত্বের শেষ পর্যায়ে থাকলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় নোংরা কটাক্ষ থেকে রেহাই নেই অভিনেত্রীর।
সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এর সাম্প্রতিক অশান্তি ও সংঘাত নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় মুখ খুলেই চরম আক্রমণের মুখে পড়লেন জনপ্রিয় বাংলা টেলিভিশন ও চিত্র অভিনেত্রী রোশনি ভট্টাচার্য (Roshni Bhattacharyya)! বর্তমানে তিনি সন্তানসম্ভবা । কিন্তু এই অবস্থাতেও তাঁকে ট্রোল ও রাজনৈতিক কটূক্তি করতে ছাড়ল না নেটিজেনদের এক উগ্র অংশ। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে কুরুচিকর ট্রোলের শিকার হতেই ট্রোল অ্যাকাউন্টটিকে ধুয়ে দিলেন অভিনেত্রী!

'জিহাদি, অ্যান্টি-ন্যাশনাল কম্যুনিস্ট' বলে ট্রোল!
এসআরএফটিআই-এর সাম্প্রতিক ঘটনায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদী বার্তা ও চিঠির ছবি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে পোস্ট করেছিলেন রোশনি। আর তাতেই চটে লাল হয়ে ওঠে এক নেটিজেন। অভিনেত্রীর মেসেজ বক্সে সরাসরি আক্রমণ চালিয়ে ট্রোল অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘জিহাদি, অ্যান্টি ন্যাশন্যাল কমিউনিস্ট’ এবং ‘নেপো-কমি দেখলেই জান্নাত পাঠাও…’!
‘আমি হিন্দু, আমি ব্রাহ্মণ, কিন্তু তার আগে আমি মানুষ!’
রোশনির সপাটে জবাবএই ধনের নোংরা রাজনৈতিক ও উগ্র মানসিকতার আক্রমণ চুপচাপ মেনে নেননি রোশনি। ট্রোল মেসেজের স্ক্রিনশট জনসমক্ষে এনে যোগ্য জবাব দেন তিনি। স্ক্রিনশটের ওপর কড়া ভাষায় রোশনি লেখেন, ‘ট্রোলাররা সেটাই করছে যা তারা সবচেয়ে ভালো পারে। আমি হিন্দু, আমি ব্রাহ্মণ। কিন্তু তার পাশাপাশি আমি একজন মানুষ! কোনটা স্লিপার সেল, তা তো বোঝাই যাচ্ছে।’
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় যেখানে একজন শিল্পীকে ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা জানানোর কথা, সেখানে সামান্য একটি প্রতিবাদী পোস্টের কারণে এমন ঘৃণাসূচক আক্রমণের ঘটনায় স্তম্ভিত টালিউড ও রোশনির ভক্তরা। তবে কোনো রক্তচক্ষুকে পরোয়া না করে যেভাবে নিজের মানবধর্মের কথা তুলে ধরে কড়া জবাব দিয়েছেন রোশনি, তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন অনুরাগী ও নেটিজেনদের একটি বড় অংশ!
কী ঘটেছে এসআরএফটিআই-তে?
কলকাতা ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এ দফায় দফায় চরম গণ্ডগোল, হাতাহাতি ও বিক্ষোভের ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি! অডিটোরিয়াম ভাড়া নেওয়া এবং বহিরাগতদের প্রবেশ কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। এই হিংসাত্মক ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশি তৎপরতায় ৩টি পৃথক মামলা (FIR) রুজু হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে একাধিক পক্ষের পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পঞ্চসায়র থানার পুলিশ।
কাদের তরফে রুজু হলো ৩টি এফআইআর?
প্রথম মামলা (ABGP-র তরফে): রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) ঘনিষ্ঠ সংস্থা অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত (ABGP)-এর তরফে প্রথম মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে এসআরএফটিআই-এর অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করা সত্ত্বেও পড়ুয়াদের একাংশ তা বাধাগ্রস্ত করে এবং তাণ্ডব চালায়।
দ্বিতীয় মামলা (পড়ুয়াদের তরফে): ক্যাম্পাসের ছাত্রছাত্রীদের তরফে দ্বিতীয় অভিযোগটি দায়ের করা হয়। তাঁদের পাল্টা অভিযোগ, অডিটোরিয়াম ভাড়া নেওয়ার নামে ক্যাম্পাসে ঢোকে বহু বহিরাগত লোক। প্রতিবাদ জানাতে গেলে বহিরাগতরা ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকে পড়ুয়াদের ওপর শারীরিক আক্রমণ চালায় ও তাণ্ডব চালায়।
তৃতীয় মামলা (পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত): আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটতে দেখে তৃতীয় এফআইআর (FIR)-টি স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে দায়ের করেছে পঞ্চসায়র থানা।
ক্যাম্পাসে চাপা উত্তেজনা:
পড়ুয়াদের বিক্ষোভ, ইট-বোতল বৃষ্টি এবং একাধিক ছাত্র ও শিক্ষকের আহত হওয়ার ঘটনায় রবিবার রাতে পরিস্থিতি হাতছাড়া হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে বিপুল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ নামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
বর্তমানে ইনস্টিটিউটের নিরাপত্তায় জোর দেওয়া হলেও গোটা ক্যাম্পাস জুড়ে চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাণ্ডবে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


