ডাকা হত ‘ব্রাউনি’! ‘বাথরুমে টিফিন করতাম’, আমেরিকায় কী হয় প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে
কিশোরীবেলায় কীভাবে বর্ণবিদ্বেষের শিকার হন, নিজের মুখেই জানিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। কটাক্ষ এড়াতে সেই সময় স্কুলের বাথরুমে বসেই নিজের লাঞ্চ করতেন।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস সারা বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত সেলিব্রিটি। বলিউডে সাফল্যের পর হলিউডেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক তারকাদের তালিকায় নিজের নাম লিখিয়েছেন বহু আগেই। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর সংগ্রামের গল্পও। কিশোরীবেলায় পড়াশোনার জন্য প্রথমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাঁকে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কিশোরীবেলায় কীভাবে বর্ণবিদ্বেষের শিকার হন। কটাক্ষ এড়াতে সেই সময় বাথরুমে বসেই নিজের লাঞ্চ করতেন।

বর্তমানে যাঁর আত্মবিশ্বাস অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা, সেই প্রিয়াঙ্কাই একসময় আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগতেন। নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে মার্কিন মুলুকে প্রথমদিকে বেশ সমস্যায় পড়েন তিনি। সহপাঠীদের সঙ্গে ক্যাফেটেরিয়ায় বসে খাওয়া বা খেলাধুলা—কোনোটাতেই অংশ নিতেন না প্রথমদিকে। The Today Show-তে প্রিয়াঙ্কা জানান, প্রথম কয়েক সপ্তাহ তাঁর কাছে অত্যন্ত কষ্টকর ছিল।
বাথরুমে লুকিয়ে লাঞ্চ করার অভিজ্ঞতা
প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আমি এতটাই নার্ভাস ছিলাম যে বাথরুমের ভিতরে বসে দুপুরের খাবার খেতাম। আমি জানতাম না কীভাবে ক্যাফেটেরিয়ায় গিয়ে খাবার নিতে হয়। আমি একটি ভেন্ডিং মেশিন থেকে ডোরিটোস নিয়ে বাথরুমে গিয়ে তাড়াতাড়ি খেয়ে নিতাম। তারপর ক্লাসে চলে যেতাম, যাতে অন্য বাচ্চাদের মুখোমুখি হতে না হয়।’ সেইসময় নিজের গায়ের রঙের জন্য সহপাঠীদের কাছে অবজ্ঞার শিকার হতে হয়েছিল। তাঁকে ব্যঙ্গ করে ‘ব্রাউনি’ বা ‘কারি’ বলে ডাকা হত।
নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার লড়াই
অভিনেত্রী আরও জানান, সেখানে গিয়ে তিনি নিজেকে একজন ভারতীয়ের চেয়ে বেশি ‘নন-আমেরিকান’ বলে মনে করতেন। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে তাঁকে নিজের মধ্যে অনেক পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। সমবয়সীদের বোঝাতে হয়েছে কেন তিনি ডেটে যাওয়া বা রাতে বাইরে থাকা নিয়ে স্বচ্ছন্দ নন—কারণ তিনি একটি রক্ষণশীল পরিবার থেকে এসেছেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পান এবং ধীরে ধীরে সেই পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে সক্ষম হন।
আসন্ন প্রজেক্টে ব্যস্ত প্রিয়াঙ্কা
দীর্ঘদিন পর ‘বারাণসী’ ছবির মাধ্যমে প্রিয়াঙ্কা আবার ভারতীয় সিনেমায় ফিরছেন। এসএস রাজামৌলি পরিচালিত এই বিগ-বাজেট ছবিতে তিনি মহেশ বাবুর বিপরীতে ‘মন্দাকিনী’ চরিত্রে অভিনয় করছেন। ছবিটি ২০২৭ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়াও ২০২৬-এ Zac Efron-এর সঙ্গে তাঁর কমেডি ছবি ‘জাজমেন্ট ডে’ মুক্তির কথা রয়েছে। অমৃতা শের গিলের বায়োপিক ‘আমরি’-তেও বিশেষ ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। পাশাপাশি ‘হুইটল’ নামের একটি নতুন সিরিজের কাজও করছেন তিনি।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


