‘কারও সৃজনশীল বিশ্বাস বা আস্থাকে আঘাত…’! গল্প চুরির অভিযোগে মুখ খুললেন প্রসেনজিৎ

অভিমান মুক্তির দিন, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের উপর ‘কনসেপ্ট চুরি’র অভিযোগ তোলেন সুমন ঘোষ। একটি লম্বা পোস্টও করেন তিনি। এবার বিতর্কে মুখ খুললেন অভিনেতা খোদ।

Published on: Jun 19, 2026, 17:55:01 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে যিশু সেনগুপ্ত, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় অভিনীত অভিমান ছবিটি। আর মুক্তির দিনই জড়ায় বড় বিতর্কে। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের উপর ‘কনসেপ্ট চুরি’র অভিযোগ তোলেন সুমন ঘোষ। একটি লম্বা পোস্টও করেন তিনি। এবার বিতর্কে মুখ খুললেন অভিনেতা খোদ।

গল্প চুরির অভিযোগে মুখ খুললেন প্রসেনজিৎ।
গল্প চুরির অভিযোগে মুখ খুললেন প্রসেনজিৎ।

প্রসেনজিতের বিরুদ্ধে বেশ কড়া-কড়া শব্দই ব্যবহার করেছেন সুমন। টলিউডের ‘জ্যেষ্ঠ পুত্রের’ সততা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকী পদ্মশ্রী নিয়ে খোঁটা দিতেও ভোলেননি। তবে প্রসেনজিতের পালটা জবাবে কিন্তু বেশ নরম সুর।

বুম্বাদা লিখেছেন, ‘চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে সুমনের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক সময় সৃজনশীল ভাবনার মধ্যে মিল দেখা যায়, কারণ আমরা সকলেই মানুষের সার্বজনীন অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা থেকেই অনুপ্রেরণা নিই। তবে ‘অভিমান’ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নির্মিত এবং আইনিভাবে নিবন্ধিত একটি প্রকল্প, যা আমাদের পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত ও লেখক শ্রীজাতের সৃজনশীল কাজের ফল।’

‘একজন অভিনেতা হিসেবে আমার দায়িত্ব হল আমাকে দেওয়া চিত্রনাট্যের চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলা। কারও সৃজনশীল বিশ্বাস বা আস্থাকে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য কখনওই ছিল না। আমি সুমনের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য ও মঙ্গল কামনা করি।’, আরও লেখেন প্রসেনজিৎ।

কী অভিযোগ সুমনের?

সুমন ঘোষ তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে অভিযোগ তুলেছেন, গত আড়াই বছর ধরে তিনি ‘স্টার’ নামে একটি চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন, যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্রের জন্য শুরু থেকেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কেই ভেবেছিলেন। এই সময়ে তাঁদের একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং চরিত্রটির বিভিন্ন দিক, লুক ও গল্পের উপাদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অভিমান’-এর টিজার ও ট্রেলারে তিনি তাঁর পরিকল্পিত চরিত্রের সঙ্গে একাধিক বিস্ময়কর মিল খুঁজে পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে একজন সুপারস্টারের দুই ভিন্ন বয়সের রূপ, তার হঠাৎ অন্তর্ধান, নির্জন ও ভগ্নপ্রায় পরিবেশে বসবাস, শারীরিক ও মানসিক অবক্ষয়ের চিত্র, নিজের অতীত সত্তার প্রতীক ধ্বংস করা এবং একজন বিশ্বস্ত ম্যানেজারের উপস্থিতি।

পরিচালকের দাবি, গল্প আলাদা হলেও চরিত্রায়ণের এই সাদৃশ্য তাঁর দীর্ঘদিনের সৃজনশীল পরিশ্রমকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তাঁর অভিযোগ মূলত আইনি বা কপিরাইট সংক্রান্ত নয়, বরং শিল্পীসুলভ সততা, বিশ্বাস ও পেশাগত নৈতিকতার বিষয়ে। তিনি মনে করেন, একজন অভিনেতার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে ভাগ করে নেওয়া সৃজনশীল ভাবনার প্রতি ন্যূনতম সম্মান দেখানো উচিত ছিল। এই ঘটনা ভবিষ্যতে নতুন নির্মাতাদের শিল্পী ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বদের প্রতি আস্থা নষ্ট করতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

অভিমান-এর প্রযোজনা সংস্থার প্রতিক্রিয়া:

‘অভিমান’-এর প্রযোজকরা একটি প্রেস বিবৃতি দিয়ে ছবিটিকে সম্পূর্ণ মৌলিক ও স্বাধীন সৃজনশীল কাজ বলে দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, ছবির মূল ভাবনা এসেছে যিশু সেনগুপ্তর কাছ থেকে, আর চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। প্রযোজকদের দাবি, প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি নথি, রেজিস্ট্রেশন ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছবিটি তৈরি হয়েছে এবং এর মৌলিকতা নিয়ে তাঁদের কোনও সংশয় নেই। তাঁরা অন্যান্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাজকে সম্মান জানিয়েও স্পষ্ট করেছেন যে ‘অভিমান’ অন্য কোনও প্রকল্পের প্রভাব ছাড়াই নির্মিত হয়েছে। পাশাপাশি, ছবির সঙ্গে যুক্ত সকলের পেশাগত নৈতিকতার প্রতি আস্থা প্রকাশ করে প্রযোজনা সংস্থা জানিয়েছে, কোনও শিল্পকর্মের মূল্যায়ন তার নিজস্ব গুণমানের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত। দর্শক ও সংবাদমাধ্যমকে ছবিটি দেখে নিজেদের মত গঠনের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More