‘অনেকেই দু'বার, তিন বার বিয়ে করে, কিন্তু সন্তানকে অবহেলা…’! মেয়ে প্রেরণার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না প্রসেনজিৎ, খেদ পল্লবীর

পল্লবীর কথা থেকেই স্পষ্ট, তিনিও ছোটবেলা মা-বাবার বিচ্ছেদের পর কাছে পাননি বাবাকে। সেই নিয়ে একটা খেদ তাঁর মনে থেকেই গিয়েছে। রয়ে গিয়েছে না পাওয়া। চাই চান তাঁর দাদা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অন্তত যোগাযোগ করুক মেয়ের সঙ্গে। 

Published on: Jun 21, 2026, 22:10:23 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভিকি লালওয়ানির পডকাস্টে অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছিলেন বাঙালি অভিনেত্রী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্য়ায়ের বোন, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম পক্ষের সন্তান পল্লবী চট্টোপাধ্যায়। সেখানে পরিবারের নানা অজানা দিক তুলে ধরতে দেখা যায় তাঁকে। বাবা ও দাদাকে নিয়ে একাধিক কথা বলেন, যা রীতিমতো ঝড় তুলে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে।

কেন প্রসেনজিৎ যোগাযোগ রাখেন না মেয়ে প্রেরণার সঙ্গে, বিস্ফোরক বোন পল্লবী।
কেন প্রসেনজিৎ যোগাযোগ রাখেন না মেয়ে প্রেরণার সঙ্গে, বিস্ফোরক বোন পল্লবী।

পল্লবীর দাবি, দাদা প্রসেনজিতের সঙ্গে রোজ সকালে ‘গুড মর্নিং’ ম্যাসেজ বিনিময় ছাড়া সেভাবে আর কথা হয় না। এমনকী, বিভিন্ন কাজে প্রসেনজিৎ বাড়ি এলেও, পল্লবীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন শুধু রাখি আর ভাইফোঁটায়। সেভাবে ফোনেও কথা হয় না তাঁদের। আক্ষেপের সুরে বলতে শোনা যায়, তৃতীয় স্ত্রী অর্পিতা, ছেলে মিশুক যেমন পরিবার প্রসেনজিতের কাছে, তেমনই পরিবার হিসেবে ভাবেন টলিউড ইন্ডাস্ট্রিকেও। কিন্তু ততটাও তিনি (পল্লবী) নন।

আর এই পডকাস্টেই প্রসেনজিতের মেয়ে প্রেরণাকে নিয়ে কথা বলেন পল্লবী। পিসি-ভাইঝির সম্পর্কের উষ্ণতা মাঝেসাঝেই ধরা পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও মেয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগই নেই ‘ইন্ডাস্ট্রি’র। পল্লবী বলেন, ‘অনেক লোক দু বার, তিন বার, দশ বার বিয়ে করে, তাতে কি! আপনি সেটাই করুন যেটা আপনার ভালো লাগে। আমি শুধু মনে করি, বাচ্চাকে অবহেলা করবেন না। কারণ সে আপনার মর্জিতে এই পৃথিবীতে এসেছে। আপনার বউয়ের সঙ্গে মতানৈক্য হতে পারে। বাচ্চার কী দোষ।’

প্রসেনজিতের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে পল্লবী আরও বলেন, ‘ওরা দুজনেই লন্ডনে থাকে। আমার বউদি বিয়েও করে নিয়েছে। সুখে আছে। প্রেরণা মায়ের সঙ্গেই থাকে। আমাদের নিয়মিত কথা হয়। কলকাতা এলে আমরা দেখাও করি। আমরা একসঙ্গে বেরই।’

কখনো দাদার সঙ্গে এই ব্যাপারে কথা হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে পল্লবীর থেকে জবাব আসে, ‘আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম দাদাকে, কেন আপনি মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না। তাতে জবাব এসেছিল, অপর্ণা চায় না দাদা যোগাযোগ রাখুক।’

তবে পল্লবীর কথা থেকেই স্পষ্ট, তিনিও ছোটবেলা মা-বাবার বিচ্ছেদের পর কাছে পাননি বাবাকে। সেই নিয়ে একটা খেদ তাঁর মনে থেকেই গিয়েছে। রয়ে গিয়েছে না পাওয়া। বলেন, ‘আমার ভাইঝি খুব সেন্সেটিভ কিড। ভীষণ ম্যাচিওরড। ছোটবেলায় ওর জন্মদিনে ডাকত, দাদা যেত না। তারপর থেকে ওরাও এই চ্যাপ্টারটা ক্লোজড করে দিয়েছে। দেখুন আজকের দিনে ইচ্ছে থাকলেই যোগাযোগ করা যায়। আমরা অপরিচিতের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারি। ইনস্টা ফেসবুকে ম্যাসেজ করা যায়। মন থেকে চাইলেই হয়। জানি না কেন (দাদা করেন না)! হতে পারে ওঁর মতে এটাই আমার পৃথিবী, ছেলে-বউ। আমরা দুজনে আলাদা মানুষ। আমাদের ভাবনা আলাদা। তবে দাদা যদি কোনোদিন মেয়ের সঙ্গে দেখা করে, তাহলে আমি খুব খুশি হব। বাচ্চাটার জন্য খুশি হব। কারণ আমাকেও তো এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। তাই আমি বুঝি।’

ভাইঝির সঙ্গে কথা হয় প্রসেনজিৎকে নিয়ে? প্রেরণা বাবাকে ভালোবাসে, মিস করে? ভিকি লালওয়ানির প্রশ্নে পল্লবীর সাফ জবাব, ‘জানি না বাবাকে ভালোবাসে কি না! কারণ কখনো বাবাকে নিয়ে কথা বলে না। ছোটবেলা থেকে যে শুধু রিজেকশন পেয়ে এসেছে, সে কী করে ভালোবাসবে। রক্তের সম্পর্ক দিয়ে ভালোবাসা হয় না, ভালোবাসা তো হৃদয় থেকে আসে।’

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম অপর্ণা গুহঠাকুরতা। তাঁদের দুজনের একমাত্র মেয়ের নাম প্রেরণা চট্টোপাধ্যায়। ডিভোর্সের পর অপর্ণা মেয়ে প্রেরণাকে নিয়ে লন্ডনে চলে যান। একাধিক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা মেয়ের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। যদিও পল্লবীর এই সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট দাবি, প্রেরণার সঙ্গে যোগাযোগ করার কোনো চেষ্টা হয়নি অভিনেতার তরফ থেকে।

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More