Sudipta Daughter: জন্মের পর মুসলিমনাম নিয়ে হয় বিতর্ক, শাহিদা জাতীয় স্তরে বাংলার প্রতিনিধি! গর্বিত মা সুদীপ্তা

টলিউডের অন্যতম শক্তিশালী ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। পর্দায় তাঁর অভিনয় যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করে, বাস্তব জীবনেও তিনি একজন অসম্ভব দায়িত্বশীল এবং গর্বিত মা। এবার সুদীপ্তার কোল আলো করে আসা তাঁর একমাত্র মেয়ে শাহিদা নীরা এক মস্ত বড় সাফল্য ছিনিয়ে নিল। 

Published on: May 25, 2026, 16:06:34 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মা হিসেবে এর চেয়ে বড় গর্বের দিন আর কী-ই বা হতে পারে! অভিনয় জগতে সুদীপ্তা চক্রবর্তীর অবদান অনস্বীকার্য, তবে এবার লাইমলাইট কেড়ে নিল তাঁর ছোট্ট মেয়ে শাহিদা নীরা। মেকআপের দুনিয়া কিংবা গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড থেকে দূরে, খেলার মাঠে নিজের কৃতিত্বে বাংলার নাম উজ্জ্বল করতে চলেছে সে। আগামী ২৯ থেকে ৩১ মে গোয়ার পাঞ্জিমে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘৯ম জাতীয় ফিনসুইমিং চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’। আর সেই জাতীয় স্তরের মঞ্চেই পশ্চিমবঙ্গের হয়ে জলের তলায় ফাইটিং লড়বে শাহিদা। জীবনের প্রথম আন্ডার-ওয়াটার কম্পিটিশনেই এক ধাক্কায় রাজ্য দলে সুযোগ পেয়ে যাওয়াটা যে মুখের কথা নয়, তা মনে করিয়ে দিয়েই নেটপাড়ায় মেয়ের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরলেন অভিনেত্রী।

জন্মের পর মুসলিমনাম নিয়ে হয় বিতর্ক, শাহিদা জাতীয় স্তরে বাংলার প্রতিনিধি! গর্বিত মা সুদীপ্তা
জন্মের পর মুসলিমনাম নিয়ে হয় বিতর্ক, শাহিদা জাতীয় স্তরে বাংলার প্রতিনিধি! গর্বিত মা সুদীপ্তা

৫ মাসের হাড়ভাঙা খাটুনি আর ৩ ঘণ্টার প্র্যাকটিস:

মেয়ের গায়ে ‘বেঙ্গল’ লেখা টি-শার্টের ছবি পোস্ট করে সুদীপ্তা জানান, এই জার্সির পেছনে রয়েছে গত ৫ মাসের কঠোর পরিশ্রম ও কঠিন নিয়মানুবর্তিতা। শাহিদা প্রতিদিন নিয়ম করে ৩ ঘণ্টা জলের তলায় অনুশীলন করেছে। শুধু তাই নয়, যখন সমবয়সী বাকি বাচ্চারা উইকএন্ডে বা ছুটির দিনে খেলায় মেতে থাকত, তখন শাহিদা শনি ও রবিবার টানা ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা কঠোর ট্রেনিং করত।

কোচ থেকে শুরু করে ক্লাবের অবদান:

সুদীপ্তা তাঁর পোস্টে স্পষ্ট জানিয়েছেন, শাহিদার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক যৌথ প্রয়াস। তাঁর দুই কোচ কানাই স্যার এবং শঙ্কর স্যারের অনবরত অনুপ্রেরণা এবং সঠিক গাইডেন্স ছাড়া এই যোগ্যতা অর্জন করা অসম্ভব ছিল। পাশাপাশি শাহিদার সাঁতারের ক্লাব ‘আইএলএসএস’ (ILSS)-এর বিপুল সহযোগিতা এবং পরিকাঠামো এই খুদে সাঁতারুকে নিজের সেরাটা দিতে সাহায্য করেছে।

বাবার অদম্য লড়াই ও সাপোর্ট:

মা সুদীপ্তা যেমন সবসময় মেয়ের পাশে থেকেছেন, তেমনই শাহিদার এই সাফল্যের অন্যতম মূল কান্ডারি তাঁর বাবা। অভিনেত্রীর কথায়, শাহিদার বাবার অদম্য জেদ, মানসিক সমর্থন এবং প্রতিনিয়ত মেয়ের সঙ্গে থেকে সমস্ত কিছু তদারকি করার ফলেই আজ শাহিদা সিলেকশন টেস্ট বা যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষায় ছক্কা হাঁকাতে পেরেছে।

মেয়ের এই নতুন এবং রোমাঞ্চকর জার্নি শুরু হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে কিছুটা উত্তেজিত এবং কিছুটা নার্ভাস মা সুদীপ্তা। মেয়েকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, 'গো বেবি! জলের তলার এক নতুন পৃথিবী অন্বেষণ করো। আমরা সবাই আমাদের আঙুল ক্রস করে রাখলাম'।

টেলিপাড়ার সমস্ত তারকা এবং সুদীপ্তার অনুরাগীরা ইতিমধ্যেই শাহিদার এই টি-শার্ট জেতার ছবিতে শুভেচ্ছার বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। সবাই বলছেন, মায়ের মতোই মেয়েও নিজের ফিল্ডে ‘সেরা’ হয়েই ফিরবে। এখন দেখার, গোয়ার জল কাঁপিয়ে বাংলার ঘরে সোনা নিয়ে আসতে পারে কিনা সুদীপ্তা-কন্যা শাহিদা!

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More