কনডম-যৌন স্পর্শ নিয়ে ছেলের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন মাধবন, সেই ৪ বছর বয়স থেকেই
অভিনেতা আর মাধবন ফের চর্চায় তাঁর প্যারেন্টিং স্টাইল নিয়ে। এক পুরনো সাক্ষাৎকারে মাধবন জানান, খুব ছোট বয়স থেকেই ছেলে বেদান্ত মাধবনকে তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখাতে শুরু করেছিলেন। যৌন স্পর্শ, ব্যক্তিগত সীমারেখা থেকে শুরু করে কনডম—সব কিছু নিয়েই খোলাখুলি আলোচনা করতেন তিনি।
অভিনেতা আর মাধবন-এর প্যারেন্টিং স্টাইল আগেও বহুবার আলোচনায় এসেছে। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, নিজের ছেলে বেদান্ত মাধবনকে ছোটবেলা থেকেই ‘প্রিভিলেজড’ জীবনের সুবিধা এবং অসুবিধা—দুটো দিকই বোঝানোর চেষ্টা করেছেন।

এক পুরনো সাক্ষাৎকারে মাধবন জানিয়েছিলেন, খুব অল্প বয়স থেকেই তিনি ছেলেকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো শেখাতে শুরু করেন। এমনকী টিনএজে পৌঁছনোর আগেই তিনি বেদান্তকে কন্ডোম, যৌন সম্পর্ক, ব্যক্তিগত সীমারেখা এবং দায়িত্ববোধের মতো বিষয় নিয়েও খোলাখুলি শিক্ষা দিয়েছেন।
ছোটবেলা থেকেই ছেলেকে শিক্ষা দিচ্ছেন মাধবন
তামিল ম্যাগাজিন কুমুদম-কে দেওয়া আর মাধবনের একটি পুরনো সাক্ষাৎকার সম্প্রতি আবার ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি নিজের প্যারেন্টিং স্টাইল নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।
মাধবন জানান, বহুদিন ধরেই তিনি ছেলে বেদান্তকে বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করছেন। অভিনেতার কথায়, ‘খুব ছোট বয়স থেকেই আমি ওকে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মতো ট্রিট করেছি। সেটা যৌন স্পর্শ নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা হোক বা কনডম ব্যবহারের শিক্ষা—সব বিষয় নিয়েই আমি ওর সঙ্গে কথা বলেছি।’
৪ বছর বয়স থেকেই খোলামেলা আলোচনা
মাধবন আরও জানান, বেদান্ত যখন মাত্র ৪ বছরের, তখন থেকেই তিনি ছেলের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘ওর সঙ্গে আমি চার বছর বয়স থেকেই খোলামেলা আলোচনা করি। এর ফলে ওর মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। ও মনে করে—'আমার বাবা আমাকে সম্মান দিয়ে আচরণ করেন।' এই ভাবনাটা ওকে দায়িত্ববানও করেছে। আর এতে আমারও ওর সঙ্গে কথা বলতে অনেক সুবিধা হয়েছে।’
অভিনেতার মতে, সন্তানদের সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই খোলামেলা সম্পর্ক তৈরি করতে পারলে ভবিষ্যতে একটি শক্ত ভিত গড়ে ওঠে।
মাধবন বলেন, ‘আপনি যদি ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের সঙ্গে খোলামেলা থাকেন, তাহলে একটা শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়। পরবর্তীতে কঠিন বা অস্বস্তিকর বিষয় নিয়েও আলোচনা করা সহজ হয়ে যায়। তখন সেগুলো আর অদ্ভুত লাগে না, বরং স্বাভাবিক মনে হয়’
‘শার্ট ছাড়া কোনও মেয়ের বিছানায়…’, পরামর্শ মাধবনের
এর আগেও মিস মালিনিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাধবন জানিয়েছিলেন, জনপ্রিয়তা এবং পরিচিতির বিষয়েও তিনি ছেলেকে সতর্ক করেছেন।
তিনি বেদান্তকে বলেছিলেন, ‘তুমি একজন সেলিব্রিটির ছেলে। আবার সাঁতারেও নিজের পরিচিতি তৈরি করেছ। তাই তোমাকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনো মেয়ের বিছানায় তোমাকে শার্ট ছাড়া দেখা না যায়। যদি এমন কিছু ঘটে, তাহলে সেটা জাতীয় সংবাদ হয়ে যাবে।’ মাধবনের মতে, সাধারণ বন্ধুদের মতো বেদান্ত জীবন কাটাতে পারবেন না। কারণ মানুষ তাঁকে চিনবে, তাঁর উপর নজর রাখবে। তাই প্রতিটি পদক্ষেপে সতর্ক থাকা জরুরি।
অলিম্পিকে সোনা জেতাই এখন বেদান্তের লক্ষ্য
আর মাধবনের ছেলে বেদান্ত মাধবন বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রতিভাবান তরুণ সাঁতারু হিসেবে পরিচিত। তিনি ইতিমধ্যেই ভারতের হয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।
মালয়েশিয়া ওপেনে পাঁচবার সোনা জিতেছেন বেদান্ত। এছাড়াও ড্যানিশ ওপেনে তিনি জিতেছেন সোনা এবং রুপোর পদক। কমনওয়েলথ ইয়ুথ গেমসেও পঞ্চম স্থান অর্জন করেছিলেন বেদান্ত। এখন তাঁর লক্ষ্য একটাই—অলিম্পিকে ভারতের হয়ে সোনার পদক জয় করা।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


