আর মাধবন ছেলে বেদান্তকে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত কোনও অবসর দেননি! জানেন কেন? মুখ খুললেন অভিনেতা
অভিনেতা আর মাধবন প্রায়ই বলেন যে, সুবিধাজনক পরিবেশে বড় হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাঁর ও স্ত্রী সরিতা বিরজের ছেলে বেদান্ত মাধবনকে দৃঢ় মূল্যবোধের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন। বেদান্ত একজন আন্তর্জাতিক সাঁতারু, তিনি একাধিক চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
অভিনেতা আর মাধবন প্রায়ই বলেন যে, সুবিধাজনক পরিবেশে বড় হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাঁর ও স্ত্রী সরিতা বিরজের ছেলে বেদান্ত মাধবনকে দৃঢ় মূল্যবোধের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন। বেদান্ত একজন আন্তর্জাতিক সাঁতারু, তিনি একাধিক চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মাধবন সরিতাকে ১৯৯৯ সালে বিয়ে করেন।

ACKO-র '১০০ ইয়ার লাইফ প্রজেক্ট'-এ রাধিকা গুপ্তাকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে মাধবন আধুনিক অভিভাবকত্ব, সামাজিক চাপ এবং যে নিয়মটি তাঁর ছেলেকে বড় করার পদ্ধতিকে প্রভাবিত করেছে, সে সম্পর্কে খোলামেলা কথা বলেছেন।
মাধবন জানান, তিনি বেদান্তকে যে সবচেয়ে বড় শিক্ষাটি দিতে চেয়েছিলেন, তা হল কৃতজ্ঞতা এবং সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা। তিনি বলেন, ‘আমি বেদান্তকে যে বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলাম তা হল, সে যেন লিফটম্যান, গার্ড, ড্রাইভারদের সম্মান দেয়, হয়তো আমার বন্ধুদের মতো অতটা নয়, কিন্তু অবশ্যই এবং তাঁদের ‘আয়া’ বা ওই জাতীয় কিছু বলে না ডাকে। পরিবর্তে তাদের দিদি বলে ডাকবে। যখন দারোয়ান এসে বলতেন যে, ‘ও খুব ভদ্র ছেলে, ও আমাকে সবসময় নমস্কার জানায়,’ তাহলে আমি ভাবতাম আমার কাজটা ঠিকঠাক হয়েছে।’
মাধবন অভিভাবকত্বের এমন একটি ঘটনাও ভাগ করে নিয়েছেন যা বহু বছর আগে কানাডায় থাকার পর থেকে তাঁর মনে গেঁথে গিয়েছিল। তিনি এমন একটি শহরের কথা বলেন যেখানে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে কিশোরী গর্ভধারণ, মাদক ও মদ্যপানের সমস্যা সাধারণ ব্যাপার ছিল।
তবে, তিনি একটি নির্দিষ্ট পরিবারকে লক্ষ্য করেছিলেন যাঁদের সন্তানরা তাঁদের চারপাশের এই ধরনের পরিবেশ সত্ত্বেও শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং সংযত ছিল। তিনি বলেন, ‘অনেক বছর পরে আমি সেই পরিবারের গৃহকর্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘আপনি এটা কীভাবে করলেন?’ এবং তিনি আমাকে একটি পরামর্শ দিয়েছিলেন যা আমি মন থেকে মেনে চলি, এবং এটি সত্যিই আমার ছেলের জন্য কাজ করেছিল।’
অভিনেতার কথায়, ‘তিনি বলেছিলেন, ‘আপনার সন্তানকে অবসর সময় দেবেন না।’ তিনি বলেছিলেন, ‘জানেন, ও যা করতে চায়, তাতেই ওকে প্রশ্রয় দিন, যতক্ষণ ও কাজটা আগ্রহের সঙ্গে করছে। আগ্রহ বদলাবে, প্রতিশ্রুতির মাত্রাও বদলাবে, কিন্তু নিশ্চিত করবেন যে ১৫-১৬ বছর বয়স পর্যন্ত ওদের যেন কোনও অবসর সময় না থাকে। এটাকে অভ্যাসে পরিণত করুন যে ওরা এক কাজ থেকে অন্য কাজে যাবে। আর সেটা মজাদার হতে পারে। এটা মজাদার হওয়া উচিত। এটা কোনও বোঝা হওয়া উচিত নয়, কারণ শিশুটি তা হলে তা করতে পছন্দ করবে না।’
কাজের দিক থেকে, আর মাধবনকে শেষবার রণবীর সিং, সঞ্জয় দত্ত, অর্জুন রামপাল, সারা অর্জুন এবং রাকেশ বেদীর সঙ্গে 'ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ' ছবিতে দেখা গিয়েছিল। প্রথম ছবিটি ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে আসার পর, এই ছবিটি ১৯ মার্চ মুক্তি পায়, যা বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহে চলছে। এই ছবিটির দ্বিতীয় পর্বটি আন্তর্জাতিক ভাবে নেটফ্লিক্সে এবং ভারতে জিও হট স্টারে ১৪ মে মুক্তি পাবে।
E-Paper

