Radhika Apte: ফাঁস হয় যৌনতার দৃশ্য! ভয়ে কুঁকড়ে গিয়েছিলেন রাধিকা, ৪ দিন বাড়িতে বন্দি ছিলেন
পার্চড ছবির যৌনতার দৃশ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছিল অন্তর্জালে। চরম হেনস্থার মুখে পড়েন রাধিকা। সেই অতীতের স্মৃতি হাতড়ালেন নায়িকা।
পর্দায় নিজের সাবলীল অভিনয় আর সাহসী চরিত্রের জন্য পরিচিত বলিউড অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে (Radhika Apte)। সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া 'লাস্ট স্টোরিজ ৩' (Lust Stories 3)-র প্রচার চলাকালীন নিজের জীবনের এক অত্যন্ত ভয়াবহ ও মারাত্মক অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনলেন তিনি। কয়েক বছর আগে তাঁর পারচড ছবির একটি অন্তরঙ্গ দৃশ্য (Intimate Scene) সোশাল মিডিয়ায় লিক হয়ে যাওয়ার পর কীভাবে তিনি চূড়ান্ত নিরাপত্তাহীনতা ও ট্রমার মধ্য দিয়ে দিন কাটিয়েছিলেন, তা নিয়ে খোলাখুলি কথা বললেন অভিনেত্রী।

ঘটনার পর এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন যে টানা চার দিন নিজের ঘর থেকেই বেরোতে পারেননি তিনি!
‘বাড়ির নিরাপত্তা কর্মীও দেখে নিয়েছিল সেই ভিডিয়ো!’
সেই ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল দৃশ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর তাঁর চারপাশের পরিবেশ কতটা বিভীষিকাময় হয়ে উঠেছিল, তা জানাতে গিয়ে রাধিকা বলেন, 'অন্তরঙ্গ দৃশ্য শ্যুট করা এক বিষয়, কিন্তু যখন সেই দৃশ্য ফাঁস হয়ে যায়, তা সরাসরি আপনার ব্যক্তিগত জীবন ও ঘরে এসে আঘাত করে। আমি টানা চার দিন ঘর থেকে এক পা-ও বেরোতে পারিনি! দরজায় বেল বাজলেই ভয় লাগতো, মনে হতো বাইরে হয়তো এমন কেউ দাঁড়িয়ে আছে যে ক্ষুব্ধ। আমার স্টাইলিস্ট আমায় বলেছিল, তার ড্রাইভার সেই ক্লিপটি বারবার দেখছিল আর জিজ্ঞাসা করছিল— 'তুমি সত্যি ওর বাড়ি যাচ্ছো?' এমনকি আমার অ্যাপার্টমেন্টের সিকিউরিটি গার্ডও ভিডিয়োটা দেখে ফেলেছিল! একা একটা ফ্ল্যাটে একা হাতে এই সবকিছুর মুখোমুখি হওয়া অত্যন্ত কঠিন ও ভীতিজনক ছিল।'
‘হয় আমাকে বাঁচাও, নয়তো কাজ ছেড়ে চলে যাও!’
সেই সময় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র চিন্তায় পড়ে যান রাধিকা। বাধ্য হয়ে তিনি নিজের ড্রাইভার ও স্পট দাদাকে ডেকে সরাসরি কথা বলেন। রাধিকা তাঁদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘একটা ক্লিপ লিক হয়েছে। তোমরা কি দেখেছ? না দেখলে আমি পাঠিয়ে দিচ্ছি, দেখে নাও। এটা দেখার পর যদি তোমরা আমার সাথে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করো, তবে তোমাদের কিন্তু আমায় রক্ষা করতে হবে। আর যদি খারাপ লাগে, তবে এই নাও তোমাদের বেতন, তোমরা কাজ ছেড়ে চলে যেতে পারো।’
তবে তাঁর সেই দুই কর্মী রাধিকার পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন এবং তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ‘আমরা আপনার খেয়াল রাখব, আপনাকে পাহারা দেব।’
রাজনীতি ও আতঙ্কের কারণে ছবি প্রত্যাখ্যান:
একই আড্ডায় রাধিকা আরও এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দেশের তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভয়ে একসময় একটি দারুণ প্রজেক্টের অফার তাঁকে ফিরিয়ে দিতে হয়েছিল। জীবনের প্রথমবার তিনি পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে আতঙ্কের কাছে পেশাগত সিদ্ধান্ত নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলেন, যা নিয়ে আজ আজও কিছুটা লজ্জিত তিনি। ওই নির্দিষ্ট ছবিটি না করার জন্য চিত্রপরিচালক অনুরাগ কাশ্যপও তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন।
কাজ ও মাতৃত্বের দারুণ ভারসাম্য:
ব্যক্তিগত জীবনে বেশ সুন্দর সময় কাটাচ্ছেন রাধিকা। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ সুরকার স্বামী বেনেডিক্ট টেলরের সাথে তাঁর লং ডিসট্যান্স বিয়ে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাঁদের প্রথম কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। মাতৃত্বের পরপরই পর্দায় ফিরেছেন তিনি। 'সিসটার মিডনাইট' ছবির পর এবার 'লাস্ট স্টোরিজ ৩'-এ তাঁর অভিনয় ফের নজর কাড়ছে দর্শক ও সমালোচকদের।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


