Rahul-Priyanka: ‘লেবরে ফেলেছি,প্রেম হয়ে গেছে….ক্ষমা তো করে দিয়েছে', রাহুলের পরকীয়া, বরকে মাফ করেন প্রিয়াঙ্কা!

 ডিভোর্স মামলা গড়িয়েছিল আদালত পর্যন্ত। ছেলে সহজের মুখ চেয়ে সিদ্ধান্ত বদলান রাহুল-প্রিয়াঙ্কা। অন্য নারীতে আসক্ত হয়েছিলেন রাহুল, নিজের মুখেই স্বীকার করেন সেই ভুল। 

Published on: Apr 10, 2026, 08:30:09 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় আর নেই— এই রূঢ় বাস্তব মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে টলিপাড়ার। তাঁর মৃত্যু নিয়ে আইনি লড়াই আর তদন্তের মাঝেই প্রকাশ্যে এল অভিনেতার জীবনের শেষ সাক্ষাৎকার। ‘DEBBII UNleashed’ নামক পডকাস্টে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের ‘অন্ধকার’ অধ্যায় নিয়ে সোজাসাপ্টা কথা বলেছিলেন রাহুল। যেখানে ধরা পড়েছে তাঁর ফেলে আসা ভুল, পরকীয়ার স্বীকারোক্তি এবং স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা।

ডিভোর্স মামলা গড়ায় আদালতে,ছেলের জন্য ফের ভাঙা বিয়ে জোড়া লাগে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার
ডিভোর্স মামলা গড়ায় আদালতে,ছেলের জন্য ফের ভাঙা বিয়ে জোড়া লাগে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার

‘লেবরে ফেলেছি, প্রেম হয়ে গেছে’

নিজের জীবনের টালমাটাল সময় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাহুলকে বলতে শোনা যায়, ‘লেবরে ফেলেছি, প্রেম হয়ে গেছে, পিছলে গিয়েছি... যাক গে, ক্ষমা তো করে দিয়েছে।’ নিজের সম্পর্কের টানাপড়েন আর পরকীয়া নিয়ে কোনো রাখঢাক করেননি তিনি। বরং স্বীকার করে নিয়েছেন যে, একটা সময় তিনি ভুল পথে চালিত হয়েছিলেন। কিন্তু সেই কঠিন সময়েও প্রিয়াঙ্কা যেভাবে সবটা সামলেছেন, তা ভেবে আজও আপ্লুত অনুরাগীরা।

সহজের মনে বিষ ঢালেনি প্রিয়াঙ্কা

রাহুলের কথায় সবথেকে আবেগী অংশ ছিল তাঁদের সন্তান সহজকে নিয়ে। অভিনেতা জানান, যখন তাঁদের মধ্যে চরম অশান্তি চলছিল এবং তাঁরা আলাদা থাকছিলেন, তখনও প্রিয়াঙ্কা তাঁদের ছেলের মনে বাবার প্রতি কোনো ঘৃণা তৈরি হতে দেননি। রাহুলের কথায়, ‘ওই সময় প্রিয়াঙ্কা যদি সহজের কচি মাথাটায় আমাকে নিয়ে বিষ ঢেলে দিত, তাহলে আজ আমরা আর একসাথে বসতেই পারতাম না। প্রিয়াঙ্কা সহজের সামনে আমাকে কখনও ভিলেন বানায়নি। বাবা, বাবাই থেকেছে।’

মৃত্যুর দু-সপ্তাহ পার, তবু অমলিন স্মৃতি

রাহুলের মৃত্যুর পর এই ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের চোখে জল। অনেকেই বলছেন, রাহুল কী অকপটে নিজের জীবনের এই সত্যিটা স্বীকার করে নিলেন, কজন পারে এমনটা করতে? প্রিয়াঙ্কা যে বড় মনের পরিচয় দিয়ে রাহুলকে মাফ করে দিয়েছিলেন এবং শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়েছিলেন, এই পডকাস্ট তারই প্রমাণ। রাহুলের মৃত্যুর পর প্রিয়াঙ্কার শোকপ্রকাশের ধরণ নিয়ে অনেকে অহেতুক প্রশ্নবাণেবিদ্ধ করেছেন তাঁর সদ্যবিধবা স্ত্রীকে। প্রিয়াঙ্কা যে রাহুলের জীবনের কতখানি জুড়ে ছিলেন, মা হিসাবে, স্ত্রী হিসাবে প্রিয়াঙ্কা কতটা সফল, তাঁর প্রমাণ রাহুলের এই সাক্ষাৎকার।

তদন্ত ও শোকের আবহ

এদিকে ওড়িশার তালসারি থানায় রাহুলের মৃত্যু নিয়ে তদন্ত জারি রয়েছে। প্রিয়াঙ্কা নিজে সেখানে উপস্থিত থেকে বিচার চেয়েছেন। অন্যদিকে, অভিনেতার অকাল প্রয়াণে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ এবং ‘চিরসখা’ ধারাবাহিকটিও চিরতরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

প্রিয়াঙ্কার বার্তা

বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রিয়াঙ্কা সমাজমাধ্যমের পাতায় একটি বিশেষ পোস্ট ভাগ করে নেন। সেখানে রাহুলের মৃত্যুর পর বাংলা ইন্ডাস্ট্রির সকলে যেভাবে তাঁর ও সহজের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেই নিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে নায়িকা লেখেন, ‘ধন্যবাদ জানাই সকলকে, এই কঠিন সময়ে আমাদের পাশে থাকার জন্য। গত ৭ তারিখে গোটা চলচ্চিত্র পরিবার যেন এক সুরে বাঁধল নিজেদের—একই ভাবনা, একই চিন্তা আর অফুরন্ত ভালোবাসায়। এখানে কোনও বিভাজন নেই, কোনও রাজনৈতিক রং নেই, নেই কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থ বা আমিত্বের সংঘাত। এখানে শুধু একটাই সত্য, আমরা একটি পরিবার। পরিবারেরই একজন সদস্যের প্রতি গভীর স্নেহ আর মমতা থেকেই আজকের এই ঐক্যবদ্ধ লড়াই।’

রাহুলকে ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই স্নেহ করতেন। আবার অনেকেই প্রয়াত অভিনেতার কাজ তথা লেখার গুণমুগ্ধ ভক্ত ছিলেন। তাঁদের প্রসঙ্গ টেনে রাহুলের সদ্যবিধবা লেখেন, ‘রাহুলকে কেউ অভিনেতা হিসেবে ভালোবেসেছেন, কেউ চেনেন অরুণোদয় হিসেবে, আবার কেউবা ভালোবেসেছেন লেখক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একটা মৃত্যু আজ আমাদের গোটা পরিবারকে এক সুতোয় গেঁথে দিল।’

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More