Ram Kapoor: 'কম্বলের নীচে আমার যৌনাঙ্গে…', ১৩ বছর বয়সে বোর্ডিং স্কুলে হেনস্থার শিকার হন রাম কাপুর!

অষ্টম শ্রেণিতে পড়বার সময় দশম শ্রেণির এক সিনিয়ারের হাতে যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই নায়ক। 

Published on: Jul 12, 2026, 11:30:15 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ওটিটি প্ল্যাটফর্মের অত্যন্ত চর্চিত ও জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘লক আপ সিজন ২: সচ ইয়া সাজা’ (Lock Upp Season 2: Sach Ya Sazaa) এই মুহূর্তে বিনোদন দুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। শো-এর নিয়ম অনুযায়ী, এলিমিনেশন থেকে নিজেকে বাঁচাতে প্রতিযোগীদের নিজেদের জীবনের এমন কিছু গোপন সত্য প্রকাশ করতে হয়, যা দুনিয়ার সামনে আগে কখনও আসেনি। আর সেই টাস্ক চলাকালীনই নিজের জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার ও যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায় সকলের সামনে নিয়ে এলেন প্রথম সারির টেলিভিশন অভিনেতা রাম কাপুর (Ram Kapoor)।

Ram Kapoor makes an emotional confession on Lock Upp season 2.
Ram Kapoor makes an emotional confession on Lock Upp season 2.

১৩ বছর বয়সে বোর্ডিং স্কুলে পড়ার সময় তিনি যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন, সেই হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে শো-এর সেটেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বড়ে আচ্ছে লাগতে হ্যায় অভিনেতা। তাঁর এই স্বীকারোক্তি শুনে সঞ্চালক ফারহা খান (Farah Khan) থেকে শুরু করে সহ-প্রতিযোগী হর্ষদ চোপড়া, ধীরজ ধূপারদের চোখ জল দেখা যায়।

‘কম্বলের নিচে আচমকাই ও আমাকে স্পর্শ করে’— রাম কাপুরের জবানবন্দি

নিজের জীবনের সেই ভয়ানক ট্রমার বিবরণ দিয়ে রাম কাপুর বলেন,'আমি তখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি, বয়স মাত্র ১৩ বছর। স্কুল শেষ হওয়ার পর আমরা হোস্টেলের ডরমেটরিতে একসাথে বসে গল্প করতাম। একদিন দশম শ্রেণীর এক ছাত্র আমার বিছানায় এসে বসে এবং আচমকাই কম্বলের নিচে ও আমাকে অস্বস্তিকরভাবে স্পর্শ করতে শুরু করে। ঘরের মধ্যে তখন অন্তত ৩০-৪০ জন বাচ্চা উপস্থিত ছিল, কিন্তু ভয়ে আমার হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিল। আমি কিছুই করতে পারছিলাম না, আর ও নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।'

অভিনেতা আরও যোগ করেন, ‘আমি বুঝতে পারছিলাম না কী করব— চিৎকার করব, নাকি চুপচাপ এটা সহ্য করে যাব? বেশ কিছুক্ষণ পর আমি ওঁকে বলি যে আমার ভালো লাগছে না। ও তৎক্ষণাৎ থেমে যায় এবং ঘর থেকে চলে যায়। এই ঘটনার পর আমি মানসিকভাবে পুরোপুরি ট্রমাটাইজড হয়ে গিয়েছিলাম এবং ভীষণ চুপচাপ হয়ে যাই।’

‘যে ট্রমা দিয়েছিল, সেই পরে বন্ধু হয়ে হিলিংয়ে সাহায্য করে’

রাম কাপুর জানান, এই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর ওই ছাত্র তাঁর কাছে এসে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চায় এবং পরবর্তীতে যখনই সুযোগ পেত, ও বুঝত যে ও সত্যিই অনুতপ্ত। রামের কথায়, ‘শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, যে মানুষটি আমাকে ট্রমা দিয়েছিল, সেই পরবর্তীতে আমাকে সেই ট্রমা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে। আমরা খুব ভালো বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম। ও কোনও খারাপ ছেলে ছিল না, আসলে ও তখন বয়ঃসন্ধির হরমোনের প্রভাব এবং কৌতূহলের বশে কাজটা করে ফেলেছিল। এই সত্যটা আজ পর্যন্ত আমার বাবা-মা বা আমার সন্তানেরাও জানে না, কেবল আমার স্ত্রী গৌতমী জানে।’

অভিনেতা জানান, আজ এই নিয়ে কথা বলতে গিয়েও তাঁর গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। তবে এই ঘটনার ফলেই অভিনেতা মনে সমকামী বা এলজিবিটিকিউ (LGBTQ) সম্প্রদায়ের প্রতি কোনও ভয় বা নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়নি এবং সুফি মোতিওয়ালার মতো মানুষদের দেখলে রামের নিজের কাছের মানুষ মনে হয়।

সেটে কান্নার রোল, রামকে জড়িয়ে ধরলেন ফারহা

রাম কাপুরের এই আবেগঘন সত্যি শোনার পর সেটে উপস্থিত কেউই নিজেদের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। সহ-প্রতিযোগী সুফি মোতিওয়ালা অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন এবং জানান যে তিনিও ছোটবেলায় এমন হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন।

রামের জীবনের গল্প শুনে অভিনেতা হর্ষদ চোপড়া এবং ধীরজ ধূপার দুজনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। সঞ্চালক ফারহা খানের চোখও জল ছলছল বং তিনি রামকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘আই অ্যাম সরি যে তোমার সাথে এমনটা ঘটেছিল।’ সেটে উপস্থিত রীতেশ দেশমুখ বলেন, ‘তুমি ভীষণ শক্তিশালী। আজ আমি তোমার থেকে কিছু শিখলাম এবং তোমার জন্য গর্ববোধ করছি।’

লক আপ ২-এর অন্যান্য আপডেট

ইতিমধ্যেই দুই সপ্তাহ পার করে ফেলেছে এই রিয়্যালিটি শো। চলতি সপ্তাহে শো-তে ডবল এলিমিনেশন দেখা গিয়েছে, যার জেরে শো থেকে বাদ পড়েছেন সুনীতা আহুজা এবং রিয়াজ। সুনীতা মূলত নিজের শারীরিক অসুস্থতার কারণে শো ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অন্যদিকে কম ভোটের কারণে রিয়াজ বাদ পড়েন এবং তাঁর জায়গায় শ্রেয়া কালরা (Shreya Kalra) সুরক্ষিত হন। দর্শকেরা প্রতি শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স (Netflix)-এ এই শো দেখতে পাবেন।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More