রামানন্দ সাগরের রামায়ণে কুম্ভকর্ণ বধের দৃশ্যে টুকরো হয়েছিল হাত-পা থেকে মাথা! কীভাবে শুট হয় সেই দৃশ্য?
Ramayana Flashback: রণবীর কাপুরের ‘রামায়ণ’ মুক্তির অপেক্ষায় দর্শকরা। তার আগেই ফিরে দেখা রামানন্দ সাগরের কালজয়ী ‘রামায়ণ’-এর এক অবিস্মরণীয় দৃশ্য। কীভাবে কোনও সিজিআই ছাড়াই কুম্ভকর্ণ বধের দৃশ্য তৈরি করেছিলেন পরিচালক? ২০২০ সালে সেই শুটিংয়ের নেপথ্য কাহিনি ফাঁস লক্ষ্মণের চরিত্রে অভিনয় করা সুনীল লাহিড়ীর।
রণবীর কাপুর অভিনীত নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ ঘিরে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। এই ছবির মুক্তির আগে ফের চর্চায় উঠে এসেছে রামানন্দ সাগরের জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘রামায়ণ’। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও এই ধারাবাহিকের জনপ্রিয়তা আজও অমলিন। পৌরাণিক কাহিনির উপস্থাপনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন যুদ্ধের দৃশ্য—সবই দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিল। বিশেষ করে কুম্ভকর্ণ বধের দৃশ্যটি আজও অনেকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।

বর্তমান সময়ে উন্নত প্রযুক্তি ও সিজিআইয়ের সাহায্যে পর্দায় অবিশ্বাস্য সব দৃশ্য তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু যে সময়ে রামানন্দ সাগরের ‘রামায়ণ’ তৈরি হয়েছিল, তখন এই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল অত্যন্ত সীমিত। তা সত্ত্বেও কীভাবে কুম্ভকর্ণের শরীরের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার দৃশ্য পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল, তা জানলে অবাক হবেন।
কুম্ভকর্ণ বধের দৃশ্য কীভাবে তৈরি হয়েছিল?
রামানন্দ সাগরের ‘রামায়ণ’-এ রাম ও কুম্ভকর্ণের যুদ্ধের দৃশ্যটি ছিল অন্যতম আকর্ষণ। যুদ্ধে রামের তিরে কুম্ভকর্ণের শরীরের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে দেখা যায়। কখনও তাঁর হাত, কখনও পা, আবার কখনও ধড় ও মাথা আলাদা হয়ে পড়ে। সেই সময় উন্নত কম্পিউটার গ্রাফিক্স ছাড়াই এমন দৃশ্য তৈরি করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

২০২০ সালে একটি ভিডিয়োয় এই দৃশ্যের শুটিংয়ের নেপথ্য কাহিনি জানিয়েছিলেন ধারাবাহিকে লক্ষ্মণের চরিত্রে অভিনয় করা সুনীল লাহিড়ী। তাঁর কথায়, রাম ও কুম্ভকর্ণের যুদ্ধের সময় শরীরের বিভিন্ন অংশ আলাদা হয়ে পড়ার দৃশ্যগুলি ক্রোমা প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছিল।
ক্রোমা প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি হয়েছিল বিশেষ দৃশ্য
সুনীল জানিয়েছিলেন, সেই সময় ক্রোমা প্রযুক্তি ছিল বিশেষ ধরনের একটি কৌশল। অভিনেতার শরীরের নির্দিষ্ট অংশে নীল বা সবুজ রঙের ফিতে ব্যবহার করে এমন ভ্রম তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল, যাতে মনে হয় শরীরের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এই প্রযুক্তির সাহায্যেই যুদ্ধের দৃশ্যগুলিকে বাস্তবসম্মত করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল।

প্লাস্টার অফ প্যারিস দিয়ে তৈরি হয়েছিল হাত ও মাথা
শুধু ক্রোমা প্রযুক্তি নয়, কুম্ভকর্ণের শরীরের বিভিন্ন অংশ দেখানোর জন্য আলাদা মডেলও তৈরি করা হয়েছিল। সুনীলের বর্ণনা অনুযায়ী, কুম্ভকর্ণের মাথার আদলে একটি ছাঁচ তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর হাতের প্রতিরূপ বানানো হয়েছিল প্লাস্টার অফ প্যারিস দিয়ে। শুটিংয়ের সময় সেই কৃত্রিম অঙ্গগুলি ব্যবহার করে শরীরের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার দৃশ্য ধারণ করা হয়।
অর্থাৎ, পর্দায় যে দৃশ্য দেখে দর্শকরা চমকে উঠেছিলেন, তার পিছনে ছিল অভিনয়, ক্যামেরার কৌশল এবং হাতে তৈরি বিভিন্ন উপকরণের সমন্বয়।
কুম্ভকর্ণের মাথা সমুদ্রে পড়ার দৃশ্যের জন্য তৈরি হয়েছিল জলের ট্যাঙ্ক
ধারাবাহিকের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল কুম্ভকর্ণের কাটা মাথা সমুদ্রে গিয়ে পড়ার দৃশ্য। সেই দৃশ্যের জন্য বিশেষভাবে জলের ট্যাঙ্ক তৈরি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন সুনীল। কুম্ভকর্ণের মাথার আদলে তৈরি মডেলটিকে মুকুট পরিয়ে জলে ফেলা হয়। পাশাপাশি ক্রোমা প্রযুক্তির সাহায্যে জলের মধ্যে মাথা পড়ার দৃশ্যটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা হয়েছিল।
আজকের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুগে এমন দৃশ্য তৈরি করা তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও, সেই সময়ে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে এই কাজ করে দেখানো ছিল যথেষ্ট কৃতিত্বের।
কে অভিনয় করেছিলেন কুম্ভকর্ণের চরিত্রে?
রামানন্দ সাগরের ‘রামায়ণ’-এ কুম্ভকর্ণের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন গুজরাতি অভিনেতা নলিন দাভে। থিয়েটারের মঞ্চ থেকেই অভিনয়জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। মাত্র ৫০ বছর বয়সে, ১৯৯০ সালে প্রয়াত হন এই অভিনেতা।
রণবীর কাপুরের নতুন ‘রামায়ণ’ নিয়ে যখন দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে, তখন পুরনো ধারাবাহিকের এই নেপথ্য কাহিনি আরও একবার মনে করিয়ে দেয়, সীমিত প্রযুক্তি ব্যবহার করেও সৃজনশীলতা ও দক্ষতার জোরে কীভাবে দর্শকদের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলা যায়।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


