বিজয়-রশ্মিকার রিসেপশনে খালি পায়ে হাজির রামচরণ! জুতো না পরার রহস্যটা কী?
বিজয় দেবরাকোন্ডা এবং রশ্মিকা মন্দানার বিয়ের রিসেপশনে চাঁদের হাট বসেছিল হায়দরাবাদে। কিন্তু সব লাইমলাইট কেড়ে নিলেন দক্ষিণী সুপারস্টার রাম চরণ। কারণ, এই জমকালো পার্টিতে তিনি যখন প্রবেশ করলেন, তখন তাঁর পায়ে ছিল না কোনো জুতো!
গ্ল্যামার আর আভিজাত্যে মোড়া রশ্মিকা-বিজয়ের রিসেপশনের রাত। চারিদিকে ঝলমলে আলো আর দামি সব জুতো-পোশাকের বাহার। তার মাঝেই সম্পূর্ণ খালি পায়ে হেঁটে আসলেন রাম চরণ! দক্ষিণী সুপারস্টার রামচরণ হঠাৎ কেন খালি পায়ে হাজির বিয়ে বাড়িতে? কোনও ফ্যাশন স্টেটমেন্ট নয়, বরং এক কঠোর আধ্যাত্মিক ব্রত পালনের জন্যই এই সিদ্ধান্ত ‘আরআরআর’ (RRR) খ্যাত এই অভিনেতার।

কেন এই ব্রত?
রাম চরণ প্রতি বছরই অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে ‘আয়াপ্পা দীক্ষা’ পালন করেন। এটি কেরালার সবরিমালা মন্দিরে যাওয়ার আগে পালন করা একটি ৪১ দিনের কঠিন ব্রত। এই নিয়ম অনুযায়ী, ভক্তদের কালো পোশাক পরতে হয় এবং খালি পায়ে থাকতে হয়। এছাড়া আমিষ খাবার ত্যাগ করা এবং মেঝেতে ঘুমানোর মতো আরও অনেক নিয়ম কঠোরভাবে মানতে হয়।
কর্তব্য ও ভক্তি:
বিজয় এবং রশ্মিকা তাঁর খুব কাছের বন্ধু। তাই ব্রত চলাকালীন নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে তিনি আসলেও, নিজের আধ্যাত্মিক নিয়ম ভাঙতে চাননি তিনি। ফর্মাল স্যুট পরলেও পায়ের জুতো বর্জন করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন যে, সাফল্যের শিখরে থাকলেও শিকড় এবং সংস্কৃতির প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা অটুট।
নেটপাড়ায় প্রশংসা:
রাম চরণের এই সরলতা দেখে মুগ্ধ নেটিজেনরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই লিখেছেন, ‘নিজের সংস্কৃতি আর ধর্মকে এভাবে সবার সামনে তুলে ধরার সাহস কেবল রাম চরণের মতোই মানুষের থাকে।’ রিসেপশনের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিজয় ও রশ্মিকাও অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে রামচরণকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন। তারকার সঙ্গে পৌঁছেছিলেন তাঁর স্ত্রী উপাসনাও। দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সবথেকে প্রভাবশালী দম্পতিদের মধ্যে অন্যতম রাম চরণ এবং উপাসনা। বিজয়-রশ্মিকার রিসেপশনে উপাসনা বেছে নিয়েছিলেন এমন এক লুক যা ঐতিহ্যে ভরপুর। পেশায় সফল উদ্যোক্তা উপাসনা এদিন নিজের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই অত্যন্ত মার্জিত পোশাকে ধরা দেন। লাল সালোয়ার স্যুটে মোহময়ী নতুন মা।
রাম চরণকে খালি পায়ে দেখা গেছে এই প্রথম নয়। বিগত বছরগুলিতে, রাম চরণকে অনেক বড় অনুষ্ঠানে খালি পায়ে দেখা গেছে। এমনকি রাম চরণও অস্কার ২০২৩-এ অংশ নিতে একইভাবে খালি পায়ে পৌঁছেছিলেন। স্বামী রাম চরণ যখন খালি পায়ে আধ্যাত্মিক ব্রত পালন করছিলেন, উপাসনা তখন তাঁর যোগ্য জীবনসঙ্গিনী হিসেবে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এই দম্পতির মধ্যে যে সাধারণ জীবনযাপন এবং সংস্কৃতির প্রতি টান রয়েছে, তা তাঁদের সাজগোজের মাধ্যমেই ফুটে ওঠে। উপাসনা কেবল একজন তারকার স্ত্রী নন, বরং অ্যাপোলো হাসপাতালের অন্যতম ডিরেক্টর হিসেবে তাঁর নিজের একটি শক্তিশালী পরিচয় রয়েছে, যা তাঁর আত্মবিশ্বাসী সাজে স্পষ্ট ধরা পড়ে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


