Rani Mukerji: মঞ্চেই কান্না জুড়লেন রানি! অস্ট্রেলিয়ার নামী বিশ্ববিদ্যালয় দিল সাম্মানিক ডক্টরেট,বাস্তবে কতটা শিক্ষিত?’
অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রাপ্তির পর কেঁদেই ফেললেন রানি মুখোপাধ্যায়। শাহরুখ খানের পর, তাঁর কুছ কুছ হোতা হ্য়ায় সহ-অভিনেত্রীকেও সম্মান জানাল লা ট্রোব।
ভারতীয় চলচ্চিত্রে দীর্ঘ তিন দশকের অবদান এবং পর্দার বাইরে সমাজের জন্য কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে সম্মানিত হলেন বলিউড অভিনেত্রী রানি মুখার্জি। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে আয়োজিত 'ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ মেলবোর্ন' (IFFM)-এর মঞ্চে ঐতিহ্যবাহী 'লা ট্রোব ইউনিভার্সিটি' (La Trobe University)-র পক্ষ থেকে অভিনেত্রীকে প্রদান করা হয় অনারারি 'ডক্টর অফ লেটার্স' (Doctor of Letters) ডক্টরেট ডিগ্রি। এর আগে ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানজনক ডক্টরেট লাভ করেছিলেন শাহরুখ খান। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো রানির নাম।

চলচ্চিত্র জগতে এই বড় সম্মাননার পাশাপাশি বাস্তবে রানির প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিও যথেষ্ট মজবুত। মুম্বইয়ের জুহুর মানেকজি কুপার হাই স্কুল থেকে বিদ্যালয় শিক্ষা শেষ করেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি এসএনডিটি উইমেনস ইউনিভার্সিটি (SNDT Women's University) থেকে 'হোম সায়েন্স' (Home Science)-এ ব্যাচেলর ডিগ্রি ডিগ্রি অর্জন করেন। এর পাশাপাশি তিনি একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ ওডিসি নৃত্যশিল্পীও।
আনন্দের অশ্রু ও আবেগঘন মুহূর্ত
মঞ্চে ডিগ্রি গ্রহণের মুহূর্তেই আবেগে ভেসে যান রানি মুখার্জি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, সম্মাননা হাতে পাওয়ার পর নিজের চোখের জল সামলাতে পারেননি অভিনেত্রী। ঠোঁটের কোণে হাসি আর চোখে জল নিয়ে আনন্দের অশ্রু মুছে নেন তিনি।
অনারারি ডক্টরেট গ্রহণের পর এক আবেগঘন বার্তা শেয়ার করে রানি জানান: 'লা ট্রোব ইউনিভার্সিটি থেকে এই অনারারি ডক্টরেট গ্রহণ করা আমার জীবনের অন্যতম নম্র ও গর্বের মুহূর্ত। আমি বিশ্বাস করি, সিনেমা মানুষের চিন্তাভাবনা বদলানোর আগে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তাই এই সম্মান আমার কাছে ভাষায় প্রকাশ করার চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান।'
‘নারীদের শক্তিশালী রূপ পর্দায় তুলে ধরাই ছিল লক্ষ্য’
রানি মুখোপাধ্যায় তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পথচলা স্মরণ করে জানান, তিনি সবসময় এমন সব গল্প বেছে নিয়েছেন যা তাঁর হৃদয় স্পর্শ করেছে এবং যা সমাজকে অনুপ্রাণিত করতে সক্ষম। তিনি বলেন, "ভারতের শক্তিশালী নারী ও মেয়েদের পর্দায় তুলে ধরার জন্য আমি সবসময় কাজ করেছি। একজন শিল্পীর কাজ কেবল অভিনয় করা নয়, সে তার সংস্কৃতির দূত হিসেবেও কাজ করে।'
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
মেলবোর্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে (IFFM) রানিকে তাঁর অভিনয়ের উৎকর্ষতার জন্য বিশেষ সম্মাননাও দেওয়া হয়েছে। 'ব্ল্যাক', 'হাম তুম', 'যুবা', 'বান্টি ঔর বাবলি', 'নো ওয়ান কিল্ড জেসিকা', 'হিসকি', 'মার্দানি' ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং 'মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে'-র মতো কালজয়ী ছবিতে তাঁর অভিনয় আজও অনুরাগীদের মনে তাজা। উল্লেখ্য, 'মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে' ছবির জন্য গত বছর সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় পুরস্কারও পান রানি।
সম্প্রতি বক্স অফিসে ভালো সাড়া পেয়েছে অভিনেত্রীর ছবি 'মার্দানি ৩'। আর ভবিষ্যতে তাঁকে দেখা যেতে চলেছে সিদ্ধার্থ আনন্দের পরিচালনায় বহু প্রতীক্ষিত ছবি 'কিং'-এ, যেখানে তাঁর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করবেন শাহরুখ খান, দীপিকা পাড়ুকোন, সুহানা খান এবং অভিষেক বচ্চন।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


