খিলজি হিসেবে ঝড় তোলেন! কিন্তু এই ভয়ে পদ্মাবতের অফারে ‘না’ বলেন রণবীর, কীভাবে রাজি করান বনশালি?
'পদ্মাবত'-এ আলাউদ্দিন খিলজির চরিত্রটি রণবীর সিংয়ের সবচেয়ে আইকনিক চরিত্রগুলির মধ্যে গন্য করা হয়, তবে আপনি কী জানেন যে রণবীর সিং এই ছবিটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন? আর তাঁকে কীভাবে রাজি করান বনশালি?
২০১৮ সালে পদ্মাবত সিনেমাটি ব্লকবাস্টার হিট ছিল। সিনেমাটির আইএমডিবি রেটিং আসে ৭.১। এবং সেই সময়ে এটি রেকর্ড ব্রেকিং আয় করেছিল। ছবিতে শাহিদ কাপুরকে রাজা রাওয়াল রত্ন সিংয়ের চরিত্রে দেখা যায়। এবং রণবীর সিং আলাউদ্দিন খিলজির চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিতে রণবীর সিংয়ের অভিনয় অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছিল এবং অনেকে এমনও বলেছিলেন যে, তিনি শাহিদ কাপুরের চরিত্রটি গিলে ফেলেছিলেন। তবে আপনি কি জানেন যে রণবীর সিং আসলে এই আইকনিক চরিত্রে অভিনয় করতে প্রথমে রাজিই ছিলেন না!

পরিচালক বনশালি যখন এই চরিত্র নিয়ে হাজির হন রণবীর সিং-এর কাছে, তখন তিনি তাতে অভিনয় করতে অস্বীকার করেছিলেন। একইসঙ্গে সঞ্জয় লীলা বনশালি বদ্ধপরিকর ছিলেন রণবীর সিংকে এই চরিত্রে নেওয়ার জন্য। রণবীর ‘না’ বলায় বনশালী বিরক্ত হয়ে পড়েন এবং হতাশায় যা বলেছিলেন তার কারণেই নাকি রণবীর সিং এই চরিত্রে হ্যাঁ বলেছিলেন। আজ, পদ্মাবত ছবিতে আলাউদ্দিন খিলজির চরিত্রটি রণবীর সিংয়ের কয়েকটি আইকনিক চরিত্রের মধ্যে গণনা করা হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক রণবীর ও বনসালির মধ্যে হওয়া সেই কথোপকথন।
রণবীর সিং তাঁর একটি ছবির প্রচারণার সময় বলেছিলেন, "আমার সেই মুহুর্তের কথা মনে আছে যখন বারান্দায় বসে মাছের তরকারি খাওয়ার সময়, আমি সঞ্জয় স্যারকে (সঞ্জয় লীলা বনশালী) বলেছিলাম যে ‘স্যার, এই চরিত্রটি সম্ভবত আমাকে একটি অন্ধকার গর্তে নিয়ে যাবে যেখান থেকে আমি ফিরে আসতে পারব না। আমি এই চরিত্র পরে কিছুটা পাগল হয়ে যাচ্ছি এবং আমি জানি না যে আমি আমার জীবনের এই মুহুর্তে এটির জন্য প্রস্তুত কিনা।’
প্রসঙ্গত, রণবীর সিংয়ের কেরিয়ারে প্রথম গ্রে শেডের চরিত্র ছিল এটি। তাই তিনি সেইসময় এত বড় রিস্ক নিতে চাননি। অভিনেত আরও বলেন, ‘ওই সময় আমি খুব খুশি ছিলাম, আমি আর দীপিকা বিয়ে করতে যাচ্ছিলাম। সবকিছু একদম ঠিকঠাক চলছিল। তবে আমার কথায় বনশালি স্যার বিরক্ত হন। তিনি তাঁর হাতে থাকা তোয়ালেটি খাবারের প্লেটে ছুঁড়ে মারেন, এবং বলেছিলেন, 'মাই চাইল্ড, তুমি কি এমন একটা চরিত্রে কাজ করতে চাও না, যার ৭৫ কেজির গাট রয়েছে?'’ রণবীর সিংয়ের এই ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়া তাঁর ক্যারিয়ারের এমন একটি টার্নিং পয়েন্ট হয়ে ওঠে যে, আজও আলাউদ্দিন খিলজির কথা মনে পড়লে অনেকেরই রণবীরের মুখ চোখের সামনে চলে আসে।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


