‘যখন আমার ছবি ব্যাক-টু-ব্যাক ফ্লপ করছিল, তখন ওরাই পাশে দাঁড়িয়েছিল!’ আম্বানি পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞ রণবীর
যখন একের পর এক ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ে আম্বানি পরিবার কীভাবে তাঁর এবং আদিত্য ধরের সিনেমা ‘ধুরন্ধর’-এর পাশে দাঁড়িয়েছিল—সেই আবেগময় স্মৃতি সকলের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন রণবীর।
বলিউডের এনার্জি হাউস খ্যাত সুপারস্টার রণবীর সিং (Ranveer Singh) বরাবরই তাঁর বৈচিত্র্যময় অভিনয় ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য দর্শকমহলে পরিচিত। তবে গত কয়েক বছরে বক্স অফিসে তাঁর কয়েকটি বিগ-বাজেট ছবি আশানুরূপ ব্যবসা করতে না পারায় কেরিয়ারে কিছুটা কঠিন সময় কাটিয়েছেন এই অভিনেতা। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও যাঁদের সমর্থন ও বিশ্বাস তিনি পেয়েছেন, তাঁদের প্রতি নিজের অন্তরের গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রণবীর।

সম্প্রতি প্রখ্যাত পরিচালক আদিত্য ধর (Aditya Dhar)-এর নতুন মেগা প্রজেক্ট ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar)-এর বিশেষ ইভেন্টে বক্তব্য রাখার সময় রণবীর সিং প্রকাশ্যে আম্বানি পরিবারের (Ambani Family) প্রতি নিজের গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। যখন একের পর এক ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ে আম্বানি পরিবার কীভাবে তাঁর এবং আদিত্য ধরের ‘ধুরন্ধর’-এর পাশে দাঁড়িয়েছিল—সেই আবেগময় স্মৃতি সকলের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন রণবীর।
১. কঠিন সময়ে আম্বানি পরিবারের অবিচল সমর্থন
ইভেন্টে বক্তৃতা দিতে গিয়ে রণবীর সিং অত্যন্ত আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। চলচ্চিত্রে আম্বানি পরিবারের প্রযোজনা সংস্থা জিও স্টুডিওসের (Jio Studios) অবদানের কথা বলতে গিয়ে রণবীর বলেন, “বলিউডে প্রতিটি অভিনেতার জীবনেই এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন সময় সাথে থাকে না, পরপর কয়েকটি ছবি থিয়েটারে প্রত্যাশিত ফলাফল দিতে ব্যর্থ হয়। আমার ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হয়েছিল। কিন্তু ঠিক সেই কঠিন সময়ে আম্বানি পরিবার আমার ওপর বিশ্বাস হারায়নি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমার ছবি যখন একদম চলছিল না, ঠিক সেই সময় জিও স্টুডিওস এবং আম্বানি পরিবার আমাদের প্রজেক্ট ‘ধুরন্ধর’-এর মতো এত বড়, চ্যালেঞ্জিং এবং বিশাল স্কেলের সিনেমার পেছনে নিজেদের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। একজন শিল্পীর কঠিন সময়ে এই ধরণের আস্থাই আবার ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি ও সাহস জোগায়। আমি চিরকাল তাঁদের এই সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ থাকব।”
২. ‘উরি’-পরিচালক আদিত্য ধরের সাথে মাস্টারপিস ‘ধুরন্ধর’
- জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ (Uri: The Surgical Strike) খ্যাত পরিচালক আদিত্য ধরের সাথে রণবীর সিংয়ের এটিই প্রথম কাজ। ‘ধুরন্ধর’ ছবিটিকে ভারতীয় থ্রিলার ও অ্যাকশন সিনেমার জগতে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক মানের মেগা স্কেল: ছবিটি একটি বাস্তবধর্মী হাই-অ্যাকশন স্পাই থ্রিলার (Spy Thriller), যার শ্যুটিং হয়েছে ভারত সহ বিদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক লোকেশনে।
- তারকাবহুল কাস্টিং: সিনেমাটিতে কেবল রণবীর সিং একাই নন, বরং তাঁর সাথে রয়েছেন বলিউডের একাধিক প্রথম সারির তাবড় অভিনেতা। সঞ্জয় দত্ত (Sanjay Dutt), আর মাধবন (R Madhavan), অক্ষয় খান্না (Akshaye Khanna) এবং অর্জুন রামপাল (Arjun Rampal)-এর মতো শক্তিশালী অভিনেতাদের উপস্থিতি সিনেমাটিকে এক অনন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।
ইভেন্টে রণবীর পরিচালক আদিত্য ধরের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “আদিত্য ধরের ভিশন এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা অবিশ্বাস্য। ‘ধুরন্ধর’ এমন একটি ছবি হতে চলেছে, যা দর্শকদের সিটে বসিয়ে এক চরম রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা উপহার দেবে।”
৩. ফ্লপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ ও ভক্তদের প্রতীক্ষা
‘৮৩’, ‘জয়েশভাই জোয়ারদার’ কিংবা ‘সার্কাস’-এর মতো ছবিগুলো বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ার পর রণবীরের ক্যারিয়ারের ওপর এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছিল। যদিও করণ জোহরের ‘রকি অর রানি কি প্রেম কাহানি’ দিয়ে তিনি কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন, কিন্তু ‘ধুরন্ধর’-এর মতো বিগ-বাজেটের অ্যাকশন থ্রিলার ছবি দিয়ে রণবীর তাঁর আগের রাজকীয় সাফল্য পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া।
সিনেমা বোদ্ধাদের মতে, বর্তমানে দর্শকরা থিয়েটারে কেবল সাধারণ গল্প দেখতে চান না, বরং তাঁরা চান বড় পর্দার উপযোগী মেগা ভিজ্যুয়াল এক্সপেরিয়েন্স। আর ঠিক সেই জায়গায় আম্বানি পরিবারের আর্থিক ও অবকাঠামোগত ব্যাকআপ ‘ধুরন্ধর’-কে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম প্রতীক্ষিত ও মেগা ব্লকবাস্টার প্রজেক্টে পরিণত করেছে।
বলিউডের বক্স অফিস লড়াইয়ের মাঝেই রণবীর সিংয়ের এই সততা এবং আম্বানি পরিবারের সাথে তাঁর বাণিজ্যিক ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার দৃষ্টান্ত প্রশংসিত হচ্ছে। 'ধুরন্ধর' ছবির মাধ্যমে রণবীর সিং যে বক্স অফিসে আবার নিজের রাজত্ব ফিরিয়ে আনতে চলেছেন, সেই ইঙ্গিতই মিলছে বলিপাড়ার অলিন্দে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


