‘রেড ফ্ল্যাগ’ বলে চরম ট্রোল! কটাক্ষ থামাতে সাইবার পুলিশের দ্বারস্থ হলেন বিজয় ও রশ্মিকা
'কফি উইথ করণ'-এ বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করতেই বিতর্কে বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রশ্মিকা মন্দানা। অভিনেতাকে 'রেড ফ্ল্যাগ স্বামী' বলে কটাক্ষের পর এবার আইনি পদক্ষেপ যুগলের। ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে হায়দরাবাদ সাইবার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করল তাঁদের টিম।
কফি উইথ করণ-এর সাম্প্রতিক পর্বের পর বিজয় দেবরাকোন্ডা এবং রশ্মিকা মান্দানাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পর্বটির পর কিছু ব্যবহারকারী বিজয়কে 'রেড ফ্ল্যাগ হাজবেন্ড' বলেও অভিহিত করেছেন। দুজনের সম্পর্ক নিয়ে ভিডিয়ো ভাইরাল হচ্ছে এবং মিম তৈরি করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রশ্মিকা ও বিজয়ের টিম এই ট্রোলিংয়ের বিরুদ্ধে সাইবার পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছে। কাপলের টিম 'ভিরোশ'-এর পক্ষ থেকে অভিযোগে বলা হয়েছে যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেতাদের বিরুদ্ধে ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। টিম এই অভিযোগটি হায়দরাবাদ সাইবার পুলিশে জমা দিয়েছে।

সাইবার পুলিশের কাছে অভিযোগ রশ্মিকা-বিজয়ের টিমের
প্রকাশিত প্রেস বিবৃতি অনুযায়ী, বিজয় ও রশ্মিকার টিম 'ভিরোশ'-এর এক প্রতিনিধি সরাসরি হায়দরাবাদ সাইবার পুলিশ স্টেশনে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে দুই তারকার বিরুদ্ধে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সমাজমাধ্যমে ভুয়ো স্ক্রিনশট, ভিত্তিহীন দাবি এবং বিভ্রান্তিকর পোস্টের মাধ্যমে তাঁদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।
শুধু তাই নয়, অভিযোগে অর্থের বিনিময়ে নেতিবাচক প্রচার চালানোর সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, টাকা দিয়ে বিজয় ও রশ্মিকার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট করানো হচ্ছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে তাঁদের টিম। এই ধরনের প্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
বিজয় ও রশ্মিকার টিম যা জানিয়েছে
ভিরোশ টিমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, মানুষের নিজস্ব মতামত প্রকাশ করার অধিকার রয়েছে এবং তারা সেটাকে সম্মানও করেন। তবে তাদের মতে, বাকস্বাধীনতার (ফ্রিডম অফ স্পিচ) অপব্যবহার করা উচিত নয়। সত্যতা যাচাই না করা খবরকে সত্য বলে প্রচার করা উচিত নয়।
রশ্মিকা ১ বছর ধরে বিজয়কে প্রস্তাব দিয়েছিলেন
জানিয়ে রাখা ভালো, গত সপ্তাহের 'কফি উইথ কারণ সিজন ৯'-এর পর্বে রশ্মিকা মন্দানা এবং বিজয় দেবরাকোন্ডা উপস্থিত হয়েছিলেন। কথোপকথনের সময় রশ্মিকা জানান যে, তিনি টানা ১ বছর ধরে বিজয়কে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। অন্যদিকে বিজয় বলেন যে, ১০০টি প্রস্তাবের পর বিষয়টি বিয়ে পর্যন্ত পৌঁছায়। এরপর বিজয় রশ্মিকার হাতের আংটি দেখিয়ে বলেন যে, এটিই তাঁর স্টাইল। বিজয় ও রশ্মিকার সঙ্গে কারণ জোহরের এই কথোপকথন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। যদিও রশ্মিকা আজই ৬ পৃষ্ঠার একটি পোস্ট শেয়ার করে বিজয় এবং এই পুরো বিষয়টি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
বিজয় দেবরাকোন্ডাও ট্রোলারদের জবাব দিয়েছেন
অন্য দিকে বিজয় রশ্মিকার সঙ্গে ছবি শেয়ার করে তাদের সম্পর্ককে বিশেষ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি রশ্মিকার সঙ্গে একটি কিউট ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন। অভিনেতা এর ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু, আমার স্ত্রী, আমার জীবনসঙ্গী। আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অংশগুলোর একটি, যাকে আমি একদম সঠিকভাবে বেছে নিয়েছি। যারা বিরক্ত হচ্ছেন, তাদের জানিয়ে রাখি যে আমরা দুজনেই খুব সুখে আছি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। যদি পুরো পৃথিবী একদিকে থাকে আর আমরা দুজনে অন্য দিকে, তবে সেটাই সই। সেই সমস্ত মানুষকে অনেক ভালোবাসা যারা ভালোবাসাকে উদ্যাপন করেন এবং সহজ-সরলভাবে আনন্দের সঙ্গে জীবনযাপন করেন। আর এখন কোনো রকম খাতির বা সম্মান ছাড়াই বলছি, বাকি সবাই চুলোয় যাক!’
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


