একসময় মুছতেন স্টুডিয়োর মেঝে! সলমনের নায়িকা হয়ে রাতারাতি বদলায় ভাগ্য, বলুন তো কে?
একসময় স্টুডিয়োর মেঝে পরিষ্কার করা থেকে বমি মোছার কাজও করেছেন। অথচ পরবর্তী সময়ে তিনিই হয়ে ওঠেন বলিউডের প্রথম সারির নায়িকা। শাহরুখ খান ও অজয় দেবগনের মতো তারকাদের ছবির প্রস্তাব ফিরিয়েও দিয়েছিলেন। জন্মদিনে ফিরে দেখা রবিনা ট্যান্ডনের অভিনয়জীবনের অজানা অধ্যায়।
বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করা সহজ নয়। এখানে নিজের জায়গা তৈরি করতে বা একটা সুযোগ পেতে মানুষকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। ৯০-এর দশকের তেমনই একজন অভিনেত্রী রয়েছেন, যিনি কেরিয়ারের শুরুতে স্টুডিয়োর মেঝে পর্যন্ত পরিষ্কার করেছেন। কিন্তু আজ তিনি ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ অভিনেত্রীদের তালিকায় গণ্য হন। নিজের কেরিয়ারে তিনি বেশ কয়েকটি সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক কে সেই অভিনেত্রী?

৫৪ বছরে পা দিলেন রবিনা
৯০-এর দশকের যে অভিনেত্রীর কথা আমরা বলছি, তিনি আর কেউ নন, রবিনা ট্যান্ডন। নিজের কেরিয়ারে রবিনা বহু বড় সুপারস্টারের সঙ্গে কাজ করেছেন। সোমবার ২৬ অক্টোবর রবিনা ট্যান্ডন ৫৪ বছরে পা দিলেন। ৩০ বছর আগে, ১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'পাত্থর কে ফুল' সিনেমার মাধ্যমে তিনি বলিউডে ডেবিউ করেছিলেন। ছবিটি হিট হয়েছিল। রবিনা একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলো নিয়ে কথা বলেছিলেন।
‘আমি স্টুডিওর মেঝে পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে মেঝে থেকে বমি পরিষ্কার করার কাজও করেছি’
রবিনা ট্যান্ডন ২০২২ সালে 'মিড-ডে'-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর পেশাগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে, দশম শ্রেণী পাস করার পরপরই তিনি বিজ্ঞাপন নির্মাতা প্রহ্লাদ কক্করকে অ্যাসিস্ট করা শুরু করেছিলেন। তাঁর সাথে ইন্টার্নশিপ করার সময় রবিনার মনে হয়েছিল যে তিনি মডেলিং করতে পারেন এবং কিছু পকেট মানি উপার্জন করতে পারেন। রবীনা সাক্ষাৎকারে বলেন, 'আমি স্টুডিয়োর মেঝে পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে মেঝে থেকে বমি পরিষ্কার করার কাজ পর্যন্ত করেছি। ১০ম শ্রেণী পাস করার পরপরই আমি প্রহ্লাদ কক্করকে অ্যাসিস্ট করা শুরু করি।' অভিনেত্রী জানান, তখন তাঁর মাথায় নায়িকা হওয়ার কোনও চিন্তাভাবনাই ছিল না। বরং বিজ্ঞাপনের জগতে কাজ করতে করতেই ধীরে ধীরে মডেলিংয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
বিনা পারিশ্রমিকে মডেলিং নয়! কীভাবে বদলেছিল ভাগ্য?
রবিনার কথায়, প্রহ্লাদ কক্করের বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে অনেক সময় নির্ধারিত মডেল হাজির হতেন না। তখন বিকল্প হিসেবে ডাক পড়ত তাঁর। মেকআপ করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হত রবিনাকে। এভাবে বেশ কয়েকবার কাজ করার পর তাঁর মনে হয়েছিল, যখন মডেলিং করতেই হচ্ছে, তখন বিনা পারিশ্রমিকে কেন করবেন? সেই কাজের বিনিময়ে কিছু টাকা রোজগার করলে নিজের হাতখরচও চালাতে পারবেন।
এই ভাবনা থেকেই পেশাদার মডেলিংয়ের জগতে প্রবেশ করেন তিনি। রবিনা জানিয়েছিলেন, অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বড় হননি তিনি। বরং অনেকটাই ঘটনাচক্রে বিনোদন দুনিয়ায় চলে এসেছিলেন।
শাহরুখের 'ডর' ফিরিয়ে দিয়েছিলেন রবিনা!
মডেলিংয়ের সময় থেকেই রবিনার কাছে একের পর এক ছবির প্রস্তাব আসতে শুরু করে। কিন্তু তখনও অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন না তিনি। ২০২৩ সালে এএনআই-এর একটি পডকাস্টে অভিনেত্রী জানান, যশ চোপড়ার 'ডর' ছবির প্রস্তাব প্রথমে তাঁর কাছেই এসেছিল। পরবর্তী সময়ে সেই ছবিতে অভিনয় করেন শাহরুখ খান, সানি দেওল এবং জুহি চাওলা।
কিন্তু কেন এমন বড় সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন রবিনা?
অভিনেত্রীর দাবি, ছবির কয়েকটি দৃশ্যে অভিনয় করতে স্বচ্ছন্দ ছিলেন না তিনি। বিশেষ করে সাঁতারের পোশাক পরার বিষয়ে তাঁর আপত্তি ছিল। রবিনা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ছবিটি অশ্লীল ছিল না। তবে কয়েকটি দৃশ্যে অভিনয় করতে তিনি রাজি হননি।
এই সিনেমাগুলোও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন
সেই কথোপকথনেই রবিনা জানান যে, 'প্রেম কয়েদি'— যার মাধ্যমে করিশ্মা কাপুর বলিউডে ডেবিউ করেছিলেন, সেটাও তাঁকে অফার করা হয়েছিল। তবে তিনি এটি করতে অস্বীকার করেন কারণ সিনেমার একটি দৃশ্য তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলছিল। রবীনা শুধু এই সিনেমাগুলোই প্রত্যাখ্যান করেননি, এর পাশাপাশি তিনি অজয় দেবগনের প্রথম সিনেমা 'ফুল অউর কাঁটে'-তেও কাজ করতে মানা করে দিয়েছিলেন, কারণ সেই সময় তিনি নিশ্চিত ছিলেন না যে তিনি অভিনয়ে নিজের কেরিয়ার গড়বেন কি না।
এই সিনেমা দিয়ে করেছিলেন ডেবিউ
অবশেষে, রবিনা পরবর্তীতে সলমন খানের বিপরীতে 'পাত্থর কে ফুল' সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে ডেবিউ করতে রাজি হন। ২০২৩ সালে 'লেহরে'-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান যে, তাঁর বন্ধু ও সহ-মডেল বান্টি ওয়ালিয়া সলমন খানকে তাঁর সাথে দেখা করতে বলেছিলেন, কারণ তিনি জানতে পেরেছিলেন যে সলমন কোনো নতুন মুখের সন্ধানে রয়েছেন। নিজের প্রথম সিনেমা পাওয়ার বিষয়ে রবিনা জানান, 'সেই সময়, আমার বন্ধু এবং একটি অ্যাডে আমার সঙ্গে কাজ করা মডেল বান্টি ওয়ালিয়া সলমনকে ফোন করে বলেন, 'আপনার এই মেয়েটির সঙ্গে দেখা করা উচিত, আমার মনে হয় সে ভবিষ্যতে অনেক বড় স্টার হবে এবং আপনিও তো কোনো নতুন মুখের খোঁজ করছেন।' সলমন আলাদাভাবে এসে আমার কাজ দেখেন। আমার মনে হয় এটা ভাগ্যেরই খেলা ছিল।'
রবিনা তাঁর প্রথম সিনেমা 'পাত্থর কে ফুল'-এর জন্য 'বেস্ট ফিমেল ডেবিউ' ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছিলেন। এছাড়া রবিনার হিট সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে শূল, দমন এবং আক্স; পাশাপাশি মোহরা, দিলওয়ালে, আন্দাজ আপনা আপনা, খিলাড়িও কা খিলাড়ি, দুলহে রাজা এবং কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


