‘আত্মহত্যা সবচেয়ে বড় পাপ’, গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রিতে বাড়ছে সুইসাইড, কী টোটকা রবি কিষাণের?
২২ বছর বয়সী সঞ্চিতা উগারের মৃত্য়ুতে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ রবি কিষাণের। জানালেন, ‘জীবনকে এভাবে শেষ করা যায় না’। মেডিটেশন জরুরি, মত অভিনেতার।
জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সঞ্চিতা উগালের আকস্মিক আত্মহত্যার খবর ওলটপালট করে দিয়েছে নেটপাড়া। মাত্র কয়েক বছরের কেরিয়ারে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করা এই তরুণীর এমন চরম সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না কেউই। বিনোদন জগতের এই মর্মান্তিক ক্ষতিতে এবার মুখ খুললেন জনপ্রিয় অভিনেতা তথা বিজেপি সাংসদ রবি কিষাণ।

সঞ্চিতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের এই চরম মানসিকতা ও আত্মহননের পথ বেছে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন রবি কিষাণ।
‘আত্মহত্যা সবচেয়ে বড় পাপ’— রবি কিষাণের স্পষ্ট বার্তা
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সঞ্চিতা উগালের মৃত্যুর খবর শুনে স্তব্ধ হয়ে যান রবি কিষাণ। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাড়তে থাকা মানসিক অবসাদ এবং এই ধরণের মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
রবি কিষাণ বলেন, ‘সঞ্চিতার আত্মহত্যার খবর শুনে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। এত কম বয়সে একটা ফুটফুটে মেয়ের এভাবে চলে যাওয়া মেনে নেওয়া যায় না। তবে আমি সবসময় একটা কথা বলি— ‘আত্মহত্যা সবচেয়ে বড় পাপ’। ঈশ্বর আমাদের এই সুন্দর জীবন দিয়েছেন লড়াই করার জন্য, এভাবে মাঝপথে হাল ছেড়ে দেওয়ার জন্য নয়।’
বর্তমান প্রজন্ম ও সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ নিয়ে উদ্বেগ
রবি কিষাণ বর্তমান লাইমলাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া সংস্কৃতির অন্ধকার দিকটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড বা সোশ্যাল মিডিয়ার চাকচিক্যের আড়ালে তরুণরা এক চরম একাকীত্ব এবং ট্রোলিংয়ের শিকার হচ্ছেন।
তিনি যোগ করেন, ‘আজকের প্রজন্মের মধ্যে ধৈর্যের বড্ড অভাব। সামান্য কোনও ব্যর্থতা বা ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন এলেই তারা জীবন শেষ করার কথা ভাবে।’
বিজেপি সাংসদ আরও বলেন, ‘আমি সব বাবা-মায়ের কাছে অনুরোধ করব, আপনাদের সন্তানদের সাথে কথা বলুন। গ্ল্যামার বা ভিউয়ারশিপের দুনিয়াটাই সব নয়। কোনও সমস্যা হলে পরিবারের সাথে শেয়ার করা উচিত, আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া কখনোই কোনও সমাধান হতে পারে না।’
কে ছিলেন সঞ্চিতা উগালে?
সঞ্চিতা উগালে মূলত ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবে নিজের রিলস ও শর্ট কন্টেন্টের জন্য দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন। লাখ লাখ অনুরাগী ছিল তাঁর। তবে পুলিশি তদন্ত অনুযায়ী, গত বেশ কিছুদিন ধরে তিনি তীব্র মানসিক অবসাদ এবং ব্যক্তিগত জীবনের কিছু সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিজের বাসভবনে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন, যা গোটা দেশের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সমাজকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


