Kanai Das Baul Death: ‘আদরের মানুষগুলো আর থাকছে না কাছে…’, তারাপীঠে প্রয়াত বাউল সাধক কানাই দাস, মন কাঁদছে লোপার
Kanai Das Baul Death: বাউল গানের সুর ও সাধনার এক আকাশ স্তব্ধ হয়ে গেল। দৃষ্টিহীন একতারা হাতে যে মানুষটি মানুষের অন্তরাত্মার খোঁজ দিতেন, সেই প্রবাদপ্রতিম বাউল সাধক কানাই দাস বাউল আর নেই। আজ, শনিবার সকালে বীরভূমের পুণ্যভূমি তারাপীঠে ৮২ বছর বয়সে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন তিনি।
Kanai Das Baul Death: বাউল জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হলো। বীরভূমের লাল মাটি আর একতারার সুর যাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, সেই দৃষ্টিহীন বাউল সাধক কানাই দাস বাউল পরলোকগমন করেছেন। শনিবার সকালে বীরভূমের তারাপীঠে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। গায়িকা লোপামুদ্রা মিত্র সোশ্য়াল মিডিয়ায় তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

দীর্ঘ লড়াই ও প্রয়াণ
দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত দু’মাস ধরে তিনি যক্ষ্মায় (টিবি) আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়াও ক্রনিক অ্যাজমা এবং ডায়াবেটিসের সমস্যা তাঁকে কাবু করেছিল। শেষ পর্যন্ত লড়াই থেমে গেল আজ সকালে। তাঁর মৃত্যুতে বাংলার লোকসংগীত এবং বাউল সমাজে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।
জীবন দর্শন ও মরমী সুর
চোখের আলো না থাকলেও অন্তরের আলো দিয়ে তিনি চিনেছিলেন ‘অধর মানুষ’কে। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ কিংবা ‘কে বলে মানুষ মরে’— তাঁর কণ্ঠে এই গানগুলো হয়ে ওঠেছিল মানব জীবনের গভীর দর্শন। গ্রাম থেকে গ্রাম, মেলা থেকে আখড়ায় ঘুরে তিনি শুনিয়েছেন মানবতার গান। উইলিয়াম ডালরিম্পলের জগদ্বিখ্যাত বই ‘নাইন লাইভস’-এ কানাই দাসের জীবন ও সাধনা এক বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিল। ২০১৯ সালে তিনি ‘সহজিয়া সম্মান’-এ ভূষিত হন। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও মাটির সুবাস ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এই সাধক।
শিল্পীদের শোকবার্তা
কানাই দাস বাউলের প্রয়াণে শোকবিহ্বল সংগীত মহল। লোমামুদ্রা মিত্র লেখেন, 'কানাইবাবা চলে গেলেন। বেশ কিছুদিন হল অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। কলকাতার একটি নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন, তারপর তারাপীঠে চলে গিয়েছিলেন নিজের জায়গায়। সহজ পরব সম্মান তো আমরা তাঁকে দিয়েছিলাম। কিন্তু অদ্ভুত সহজ এক সম্পর্ক হয়ে গেছিল তাঁর সাথে।
শেষ দেখা এই দিন। বললেন, ভাল আমাদের থাকতেই হবে। ফুসফুসের ঐ অবস্থাতেও কি গান গাইলেন সেদিন। এই আদরের মানুষগুলো আর থাকছে না কাছে, কিন্তু রইবেন তাঁরা মনে।
ভাল থেকো বাবা। জয়গুরু। প্রণাম নিও।' জনপ্রিয় গায়ক পান্থ কানাই সোশাল মিডিয়ায় তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছেন— ‘তার কণ্ঠে ছিল মাটির গন্ধ, তার সাধনায় ছিল আত্মার খোঁজ। তিনি শুধু গান গাইতেন না, মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যেতেন ভালোবাসা আর সত্যের বাণী নিয়ে। এই প্রস্থান এমন এক শূন্যতা রেখে গেল, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।’
শেষ বিদায়
তারাপীঠের বাতাস আজ যেন তাঁর গানের মায়াবী সুরে আরও ভারী হয়ে উঠেছে। মাটির মানুষ মাটির কোলেই ফিরে গেলেন, কিন্তু তাঁর একতারার সেই গম্ভীর ঝংকার এবং সত্যের বাণী প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বেঁচে থাকবে বাউলদের আখড়ায়, সাধারণ মানুষের হৃদয়ে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


