রণবীরের গাঁজা সেবনের স্বীকারোক্তি শুনে রেগে আগুন হন ঋষি কাপুর! তারপর চলে ছেলেকে তুমুল বকাবকি
রণবীর কাপুর এক সাক্ষাৎকারে গাঁজা সেবনের কথা স্বীকার করার পর তাঁর বাবা ঋষি কাপুর কী প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন, তা প্রকাশ করলেন 'দো দুনি চার' ছবির লাইন প্রোডিউসার সুমিত ত্যাগী। তাঁর দাবি, টিভিতে সেই সাক্ষাৎকার দেখেই রণবীরকে ফোন করে রীতিমতো বকা দিয়েছিলেন প্রয়াত অভিনেতা।
সম্প্রতি 'দ্য শিবম পডকাস্ট'-এ অতিথি হিসেবে হাজির হয়ে 'দো দুনি চার' ছবির লাইন প্রোডিউসার সুমিত ত্যাগী ঋষি কাপুরকে নিয়ে একাধিক স্মৃতি ভাগ করে নেন। তিনি জানান, একদিন তিনি ঋষি কাপুরের সঙ্গে সংলাপের মহড়া দিচ্ছিলেন। সেই সময় টেলিভিশনে রণবীর কাপুরের একটি সাক্ষাৎকার চলছিল, যেখানে অভিনেতা গাঁজা সেবনের অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন।

সুমিতের কথায়, সাক্ষাৎকারটি দেখেই ঋষি কাপুর তাঁকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। এরপর ছেলেকে ফোন করে রীতিমতো চিৎকার শুরু করেন।
সুমিত বলেন, ‘তিনি রণবীরকে বলতে শুনলেন যে, সে একবার গাঁজা সেবন করেছিল। সঙ্গে সঙ্গে রণবীরকে ফোন করলেন, আমাকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বললেন এবং ছেলের উপর চিৎকার করতে শুরু করলেন।’
পডকাস্টে সুমিত আরও একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, একবার রণবীর কাপুর শুটিং সেটে এসেছিলেন মা নীতু কাপুরের সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু তিনি বাবার সঙ্গে দেখা না করেই ফিরে যান।
সুমিতের ভাষায়, ‘একবার রণবীর সেটে এসে শুধু তাঁর মায়ের সঙ্গে দেখা করেই চলে গিয়েছিল। বাবার সঙ্গে দেখা করেনি। ওর মধ্যে একটা ভয় কাজ করত। নীতুজি বলতেন, রাতে মদ খেলেই ঋষিজি একেবারে খাঁটি পাঞ্জাবি হয়ে যেতেন। তবে তিনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন।’
'ইন্ডিয়া টুডে'-কে দেওয়া এক পুরনো সাক্ষাৎকারে রণবীর কাপুর স্বীকার করেছিলেন যে, ফিল্ম স্কুলে পড়ার সময় তিনি প্রথম গাঁজা সেবন করেছিলেন। পরে 'রকস্টার' ছবির চরিত্রে নিজেকে আরও ভালোভাবে মেলে ধরার জন্যও তিনি আবার গাঁজা ব্যবহার করেছিলেন।
রণবীর বলেছিলেন, ‘রকস্টার-এর সময় আমি আবার এটি ব্যবহার করেছিলাম, তবে অভিনয়ের একটি উপকরণ হিসেবে। মঞ্চে ৩০০ জন জুনিয়র আর্টিস্টকে দর্শক ভেবে অভিনয় করা কঠিন ছিল। গাঁজা সেই মুহূর্তগুলোকে আমার কাছে বাস্তব করে তুলেছিল।’
একই প্রতিবেদনে রণবীর জানান, পরে তিনি গাঁজা সেবন ছেড়ে দেন। কারণ কাজের ব্যস্ততা বেড়ে গিয়েছিল এবং এটি তাঁর শরীরের উপর কোনো প্রভাব ফেলুক, তা তিনি চাননি।
২০১৮ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘কলেজে পড়ার সময় আমি মাদক গ্রহণ করেছিলাম এবং খারাপ প্রভাবে পড়েছিলাম। কিন্তু বুঝতে পেরেছিলাম, এভাবে চললে জীবনে কিছুই হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষই জীবনে ভুল করে। এখন আমি নিকোটিনে আসক্ত, আর সেটা মাদকের থেকেও খারাপ। পাশাপাশি মিষ্টির প্রতিও আমার দুর্বলতা রয়েছে।’
এছাড়া ২০০৯ সালে GQ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রণবীর বলেছিলেন, ‘অ্যালকোহল বা মাদক—সবকিছুরই অভিজ্ঞতা হয়েছে। তবে এখন কোনটা গুরুত্বপূর্ণ আর কোনটা নয়, সে সম্পর্কে আমার অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ ধারণা তৈরি হয়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, তিনি কখনও কোনও মারাত্মক মাদক গ্রহণ করেননি।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


