‘ঘুষ নিয়েছি না চুরি করেছি?’, ট্রোলে পাল্টা সাওয়াল আরজে প্রিয়াঙ্কার! আরও লিখলেন, BJP-র ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার তথ্য ভুল
২০২৬ লোকসভা ভোটে বিজেপি-র হয়ে প্রচারে ১৫ লাখ টাকা পেয়েছেন প্রিয়াঙ্কা সরকার ওরফে আরজে প্রিয়াঙ্কা। অন্তত বিজেপি-র পক্ষ থেকে ইসিআই-এর কাছে জমা দেওয়া ডেটা তাই বলছে। এবার আত্মপক্ষ সমর্থনে পোস্ট করলেন প্রিয়াঙ্কা।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই দেখা যাবে, নেটিজেনদের রোষের মুখে কিছু বাঙালি ইনফ্লুয়েন্সার। কারণ, ২০২৬ লোকসভা ভোটে বিজেপি-র হয়ে প্রচারে তাঁরা মোটা অঙ্কের টাকা পেয়েছেন। কারও অ্য়াকাউন্টে আড়াই লাখ, কারও সাড়ে সাত লাখ কারও আবার ১৫ বা ২৫ লাখ। এরপরই থেকেই নেটিজেনদের কটাক্ষ শুরু। ইতিমধ্যেই মুখ খুলেছেন সায়ক চক্রবর্তী। আত্মপক্ষ সমর্থনে করেছেন পোস্ট। এবার মুখ খুললেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। যাকে নেটিজেনরা বেশি চেনেন আরজে প্রিয়াঙ্কা নামে।

প্রিয়াঙ্কা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রথমেই তাঁকে নিয়ে চলা ট্রোলের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। লেখেন, ‘১৫ লাখ, ১৫ লাখ লিখে কমেন্ট সেকশন ভরিয়ে দেওয়া লোকদের কাছে জানতে চাই আপনারা কি জানেন? আমার কোন পোস্ট বা ভিডিয়োতে বিজেপিকে হাইলাইট করে কোন পোস্ট করা হয়েছে? কেউ জানে না, শুধু শুধু ট্রোল করছেন! বা টিএমসি-র বিপক্ষে বাজে কিছু মন্তব্য করা হয়েছে? দয়া করে লিংকটা শেয়ার করবেন। বা ভোট প্রচার করা হয়েছিল… সেরকম ভিডিয়ো কি দেখেছেন?’
‘আমি কারো কাছে কি ঘুষ নিয়েছি? না চুরি করেছি? লোকে এমন বলছে রাজ্য বেচে দিয়েছ.. কোন ভিডিয়ো দেখে আপনাদের মনে হচ্ছে রাজ্য বেচে দেওয়া হয়েছে?? দয়া করে জানান।আপনাদের বিশ্বাসের সঙ্গে খেলেছি? কীভাবে? আমি প্রথমত কোন এমন ভিডিয়ো বানাইনি উস্কানিমূলক যেখানে বলা হয়েছে বিজেপিকে ভোট দিন.. বা বিজেপি ভালো, বা বিজেপিকে আমি সাপোর্ট করি, দেখেছেন কি? পারবেন না কারণ আমি বানাইনি।’, আরও লেখেন প্রিয়াঙ্কা।
এরপর বিজেপির হয়ে বানানো কনটেন্টের হিসেবও দেন প্রিয়াঙ্কা। লেখেন, ‘বন্দে ভারত ট্রেনটা যখন লঞ্চ করা হয় সেই সময় বন্দে ভারত নিয়ে একটা ভিডিয়ো আমি করেছিলাম। যেটায় ট্রেনের ফেসিলিটিস, ট্রেনের ফিচারস নিয়ে বলা হয়েছিল। আর ছিল বাজেট নিয়ে সেখানে যেই যেই ভালো ইনিশিয়েটিভ গুলো নেওয়া হবে লেখা ছিল সেটাই বলেছি। পা চাটা? কে পা চাটল? এখানে পা চাটার কি হল? এটা খুব নরমাল প্রমোশন। যেটাতে কাউকে উস্কানো হয়নি, কাউকে আঘাত করা হয়নি, কারো ভাবমূর্তি নষ্ট করা হয়নি। কোন পার্টির নামও নেওয়া হয়নি। কোন ধর্ম নিয়ে কিছু বলিনি। আমিও আমার লিমিটস জানি তাই অতটুকুই করেছি যতটুকু করলে কারো ক্ষতি হবে না। আমি আজ অবধি কখনো বেটিং অ্যাপ, গেমিং অ্য়াপ প্রোমোট করিনি। সেটাতেও তো অনেক টাকা পাওয়া যায়।’
প্রিয়াঙ্কা বিজেপি-র বিপক্ষে যায়, তাঁর বানানো এমন কিছু ভিডিয়োরও উল্লেখ করেন। লেখেন, ‘অভয়ার মা কে নিয়ে বলেছিলাম কারণ ওটা খারাপ লেগেছিল। দালালি করলে ওনাকে নিয়ে নিশ্চয়ই বলতাম না? আমি নিট পেপার লিক নিয়েও বলেছি। গ্যাস ক্রাইসিস নিয়েও বলেছি, কমেন্টে লিংক দিয়ে রাখলাম। অন্নপূর্ণা ভান্ডার যখন সবাই পায়নি সেটা নিয়েও বলেছি। ওগুলো পেইড ছিল না তাই কারো কোন সমস্যা নেই। আমি বুঝতে পারছি না আমার বক্তব্যে প্রবলেম নাকি ওটা পেইড ছিল সেটা প্রবলেম.. আমার সাথে সহমত অনেকে ছিল সেই সময়। এখন কেন প্রবলেম হচ্ছে? শুধু শুধু ট্রোল করার জন্য করছেন। কাউকে হয়রানি করছেন।’
এখানেই শেষ নয়, নিজের পোস্টের শেষে প্রিয়াঙ্কার বিস্ফোরক দাবি, বিজেপি-র পক্ষ থেকে যে ডেটা ইলেকশন কমিশনে শেয়ার করা হয়েছে, অর্থাৎ তাঁর নামের পাশে থাকা যে অঙ্ক, সেটাও নাকি ভুল। লিখেছেন, ‘বিশেষ দ্রষ্টব্য: টাকার অ্যামাউন্টটাও ভুল দেওয়া।’
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


