লাল-নীলের ভালোবাসায় ‘নিকাহ’ ওমর আবদুল্লাহ-নিধি রাজদানের, বয়সে কত ছোট জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিতীয় বউ?
আইনের বেড়াজালে বিয়ে ছিল আটকে। ওমর আবদুল্লাহ-র ডিভোর্সে সিলমোহর পড়তেই ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু। বিশেষ দিনে কেমন সাজ দুজনের?
রাজনীতির উত্তপ্ত ময়দান আর স্টুডিও-র আলো-আঁধারির সমীকরণ পেরিয়ে অবশেষে এক হলো দুটো মন। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই, আইনি লড়াইয়ের আইস-কোল্ড দিনগুলো পেছনে ফেলে নতুন প্রেমের গল্প লিখলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং জনপ্রিয় সাংবাদিক নিধি রাজদান। ভালোবাসার কোনও নির্দিষ্ট বয়স হয় না, আর বসন্ত যে জীবনের যেকোনো মোড়েই চুপিচুপি কড়া নাড়তে পারে— তা যেন ফের প্রমাণ করল এই রাজকীয় জুটি!

‘ইটস ডান ব্রো!’— ভালোবাসার সহজ-সরল ঘোষণা:
প্রেমে জটিলতা যতটাই থাকুক, ভালোবাসার প্রকাশটা কিন্তু ছিল একদম মিষ্টি ও স্বতঃস্ফূর্ত। সমস্ত লৌকিকতা পাশ কাটিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিয়ের খবর ভাগ করে নেন নবদম্পতি। বর-কনে দুজনের পরনেই তখন একরাশ মুগ্ধতা। নিধি রাজদান তাঁর মিষ্টি ও ক্যাজুয়াল স্টাইলে আংটির ইমোজি জুড়ে এক্স-এ (টুইটার) লিখে ফেললেন, ‘ইটস ডান ব্রো’।
অন্যদিকে ওমরের হৃদয়েও তখন প্রেমের বসন্ত বাতাস! নিধির সঙ্গে মিষ্টি এক ফ্রেম শেয়ার করে তিনি লিখলেন, ‘গতকাল থেকেই শুরু হলো এক নতুন পথচলা…’। ভালোবাসার এই পোস্ট নিমেষেই ভাইরাল হয়ে নেটপাড়ায় ভালোবাসার উষ্ণতা ছড়িয়ে দেয়।
লাল-নীলের ভালোবাসার সাজ ও রূপকথা পরিবেশ:
শ্রীনগরের সুন্দর কাঠের সিঁড়ি আর গোলাপি-সাদা ফুলের অপরূপ সাজ সজ্জায় ধরা দিল তাঁদের ভালোবাসার এই বিশেষ মুহূর্ত। কনে নিধি রাজদান নিজেকে মুড়েছিলেন লাল ও সোনালি রঙের ঐতিহ্যবাহী লেহেঙ্গায়— ঠিক যেন ভালোবাসার এক টুকরো লাল গোলাপ! আর ওমরের রাজকীয় রূপ ফুটে উঠেছিল তাঁর গাঢ় নীল বন্ধগলা স্যুটে। দুজনের পোশাকে যে কনট্রাস্ট, মনের মিলটা যেন ঠিক ততটাই গাঢ় ও নিখাদ!
৭ বছরের ফারাক ও বিচ্ছেদের মেঘ কাটিয়ে নতুন শুরু:
ওমরের বয়স এখন ৫৬ আর নিধির ৪৯। মাঝে ৭ বছরের ব্যবধান হলেও ভালোবাসার ব্যাকরণে তো বয়স স্রেফ একটা সংখ্যা মাত্র! দুজন মানুষেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। জীবনের প্রথমার্ধে বিচ্ছেদের তিতকুটে অভিজ্ঞতা সইতে হয়েছিল দুজনকেই। বিশেষ করে ওমরের ১৭ বছরের পুরোনো দাম্পত্যের বিচ্ছেদ পর্ব সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্থায়ী আইনি রূপ পায় এই জুলাইতেই।
সমস্ত মেঘ কেটে গিয়ে শেষমেশ তাঁদের জীবনে নামল ভালোবাসার মিষ্টি রোদ। শ্রীনগরের ঘরোয়া আবহ আর দিল্লির রিশেপশনে এখন শুধুই প্রেমের গুঞ্জন আর শুভকামনার জোয়ার।
প্রাক্তন স্ত্রী পায়াল নাথও যেমন নিজের জীবনে সফল ও স্বাবলম্বী, ঠিক তেমনই ওমর-নিধিও অতীত পেছনে ফেলে নতুন বিশ্বাস ও ভালোবাসার হাত ধরে পা বাড়ালেন এক নতুন জীবনের উদ্দেশ্যে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


