‘মমতা সম্পর্কে যে ধরনের কথা বলা হয়, যে ধরনের ছবি পোস্ট করা হয়…’! রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে প্রতিবাদ রূপার
যেভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নোংরাভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে, তার ঘোরতর নিন্দা করলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। বাংলার সংস্কৃতিকে এভাবে ক্ষুন্ন করা হচ্ছে বলেও জানান রূপা।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মানহানির বিপক্ষে মুখ খুলেছেন তিনি। সরাসরি জানান, যেভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নোংরাভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে, তার ঘোরতর নিন্দা করেন তিনি।

রূপা বলেন, ‘আমি যখন বিরোধি ছিলাম তখনও এটা বলতাম। তখন লোক আমায় বলত দেখ দেখ মমতার হয়ে বলছে, এবার টিএমসিতে যাবে। আজ আমি সরকারে দাঁড়িয়ে ফের বলছি একথা। আমি সরকারে দাঁড়য়ে বলছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মাননীয়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে যে ধরনের কথা বলা হয়, যে ধরনের ওঁর ছবি পোস্ট করা হয়, এটা উচিত নয়। এটা পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি হতে পারে না। উনি তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।’
‘ওঁর রাজনৈতিক দল ভেঙে যাওয়ারই ছিল। কোনো আদর্শই ছিল না দলটার। প্রথমবছরের পর থেকে কন্ট্রোল করতে পারেননি। যা করেছেন জেতার জন্য করেছেন। অনেক বেনোজল ঢুকে গেছল। কিন্তু উনি তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। ওর সম্বন্ধে সমঝে, বুদ্ধি করে, সম্মান দিয়ে কথা বলতে বাধ্য আমরা। এমন কিছু আমরা করতে পারি না, যাতে অন্য রাজ্যের লোক আমাদেরকে খারাপ ভাবে। বাংলার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এসব নিয়ে আমি বরাবরই খুব মুফট।’, আরও বলেন রূপা।
‘ডিম ছোঁড়া সংস্কৃতির’ও সমালোচনা শোনা যায় তাঁর মুখে। বিজেপি বিধায়ক বলেন, ‘ডিম ছোঁড়াটাকে সুস্থ সমাজ বলে মানতে পারছি না। আর এসব মানাও হবে না। আমি বহুদিন ধরে একটা কথা বলছি, সংস্কৃতির দিক থেকে আমরা নিজেদের কেন এতটা নীচের দিকে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছি! আমি সকলকে অনুরোধ করব, আমরা নতুন কিছু করে দেখাই, যাতে সবার গর্ব হয় পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে। হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি ফিরে আসুক।’
রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কেরিয়ার ২০১৫ সালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগদানের মাধ্যমে শুরু হয়। ২০১৭ সাল পর্যন্ত রাজ্য বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি হাওড়া উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যদিো পরাজিত হন। মাঝে কয়েকবছর নিজেকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে রেখেছিলেন। অভিনয়ে মনোনিবেশ করেছিলেন। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বেচনে ফের ভোটে দাঁড়ান। সোনারপুর দক্ষিণে তিনি হারান তৃণমূলের হেভি ওয়েট তারকা প্রার্থী লাভলি মৈত্রকে।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


