‘ইমেজ পলিশিং…’,পরিচালকের হাতে হেনস্থার শিকার সহ-নায়িকার পাশে দাঁড়াননি কোয়েল, BJP-তে যেতেই তুলোধনা রূপাঞ্জনার
কোয়েলের দলবদল ও পদ্মশিবিরে টিকিটপ্রাপ্তি! ‘মাছ নিজেই প্রেস কনফারেন্স করছে’ বলে তোপ রূপাঞ্জনার।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবে রাজ্যসভায় পা রেখেছিলেন টলিউডের ‘মিতিন মাসি’ ওরফে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। তবে গত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূলের পরাজয়ের পরপরই কয়েক মাসের মাথায় হঠাৎ ইস্তফা দেন তিনি। সেই বিতর্ক থিতু হওয়ার আগেই সোমবারে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন কোয়েল এবং পেয়ে গেছেন বিজেপির রাজ্যসভা প্রার্থিপদের টিকিটও।

টলিউড তারকার এই নাটকীয় পলিটিক্যাল শিফট এবং পদ্মশিবিরে যোগ দিয়ে ফের রাজ্যসভায় যাওয়ার প্রেক্ষাপটেই সোশাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র। সরাসরি নাম না নিলেও, পোস্টের প্রতিটি ছত্রে কোয়েলের দলবদল, ইন্ডাস্ট্রির নীরবতা এবং তথাকথিত ‘ইমেজ পলিশিং’-কে ধুয়ে মুছে একাকার করে দিয়েছেন তিনি।
সোশাল মিডিয়া পোস্টে রূপাঞ্জনা প্রশ্ন তোলেন, অতীতে একটি শুটিং ফ্লোরে অভিনেত্রী হেনস্থার অভিযোগের সময়ে কেন ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ নেতৃত্ব নীরব ছিল? ‘তিতিন মাসির (পড়ুন মিতিন মাসি) ফ্লোরে একজন অভিনেত্রী মলেস্টেড হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল—তার পর কী হয়েছিল? তিতিন মাসির তরফ থেকে কোনো জোরালো প্রতিক্রিয়া এসেছিল? সেই অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়ানোর দৃশ্য আমরা মিস করে গেলাম, নাকি সেটা OTT-র এক্সক্লুসিভ কনটেন্ট ছিল?’— সোচ্চার প্রশ্ন রূপাঞ্জনার। মিতিন মাসি ছবির শ্যুটিংয়ে পরিচালক অরিন্দম শীলের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন এক অভিনেত্রী। সেইসময় চুপ ছিলেন কোয়েল।
কোয়েলের রাজনীতিতে আসা এবং পরপর সুযোগ পাওয়াকে ‘প্যারাশুট ল্যান্ডিং’ বলে কটাক্ষ করে রূপাঞ্জনা লেখেন, ‘সংসদীয় রাজনীতির অ-আ-ক-খ না জেনেও যখন প্যারাশুট ল্যান্ডিং হয়, তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না—রানওয়ে আগেই পরিষ্কার ছিল।’
ইন্ডাস্ট্রিতে বকেয়া পারিশ্রমিক, তোষামোদ আর পারিবারিক ‘ইমিউনিটি’ প্রসঙ্গ টেনেও চাঁচাছোলা আক্রমণ শানান অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, ‘সহকর্মীর পাশে দাঁড়ানোর সময় নীরবতা, শিল্পীদের দিয়ে কাজ করিয়ে পেমেন্টের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা—তার পর পাবলিকের সামনে ইমেজ পলিশিং এমন পর্যায়ে যে মনে হয় মাছের তেলে মাছ ভাজা নয়, মাছই এবার নিজের তেল নিয়ে প্রেস কনফারেন্স করছে!’ পারিবারিক ঐতিহ্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেই যেন ইমিউনিটির বাহানা দেওয়া হয়, আর সঙ্গে কিছু ‘চিরস্থায়ী তেল-সরবরাহকারী’ তো রয়েছেই— এমনটাই অভিযোগ রূপাঞ্জনার।
২০১৯ সালের রাজনৈতিক তিক্ততার স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, রাজনীতির চাকা সবসময় ঘোরে। তিনি লেখেন, ‘২০১৯-এ তো দেখেছি—নামজাদা ডিজাইনার থেকে পুরোনো বন্ধু, কট্টর বাম থেকে সুবিধামতো বিপ্লবী—সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন ঝড় তুলেছিলেন যেন আমাকে একঘরে করলেই বিপ্লব সম্পূর্ণ হবে। কিছুই ভুলিনি।’ আরও বলেন, 'আজ যাঁরা অন্যকে একঘরে করতে বা তোষামোদে ব্যস্ত, কাল হয়তো তাঁরাই ভাববেন, ‘এত তেল ঢাললাম… গাড়িটা গেল কোথায়?’
তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে কোয়েলের যোগদান এবং রাজ্যসভার প্রার্থী হওয়া নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই টলিউডের অন্দরের এই কড়া অবস্থান নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিল।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


