ছেলেমেয়েকে মানুষ করতে পারবে না! ডিভোর্সের সময় জানায় স্ত্রী, বিদেশ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি মেয়ের, গর্বিত সাগ্নিক
প্রাক্তন স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়া, দুই ছেলেমেয়ের মুখ চেয়ে ভাঙতে চাননি বিয়ে। চার বছরেরও ছোট দুই সন্তানকে রেখে ডিভোর্স নেন সাগ্নিকের প্রাক্তন স্ত্রী। এক সন্তান স্পেশ্যাল চাইল্ড। সব কটাক্ষের জবাব এতদিনে দিল সাগ্নিকের মেয়ে।
পর্দায় একের পর এক খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকমনে জায়গা করে নেওয়া টলিউড অভিনেতা সাগ্নিক চট্টোপাধ্যায়-এর বাস্তব জীবনটি ছিল এক দীর্ঘ ও কঠিন সংগ্রামের ইতিহাস। ছোটবেলায় মিঠুন চক্রবর্তীকে দেখে অভিনয়ের স্বপ্ন দেখা সাগ্নিক পারিবারিক ব্যবসা ছেড়ে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছিলেন। তবে ক্যামেরার সামনের লড়াইয়ের চেয়েও কঠিন ছিল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রাম। দীর্ঘ সংগ্রামের পর অবশেষে বাবার মুখ উজ্জ্বল করে নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত গ্রোনিঙ্গেন ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট (PhD) ডিগ্রি অর্জন করেছেন তাঁর কন্যা সায়নী সাঁতরা।

মেয়ের এই ঐতিহাসিক সাফল্য উৎযাপনে সামাজিক মাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করে নিজের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণাক্লিষ্ট লড়াই ও প্রাক্তন স্ত্রীর দেওয়া চ্যালেঞ্জের কথা স্মরণে এনেছেন অভিনেতা।
প্রাক্তন স্ত্রীর কড়া চ্যালেঞ্জ ও সিঙ্গল ফাদারের লড়াই:
২০০৪ সালে বিবাহবিচ্ছেদের মুখোমুখি হন সাগ্নিক। সেই সময় দুই সন্তানকে একা হাতে মানুষ করার সিদ্ধান্ত নিলে আদালতে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন স্ত্রী তাঁকে খোঁচা দিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন— তিনি নাকি সন্তানদের ঠিকমতো মানুষ করতেই পারবেন না!
সেই আঘাতকেই নিজের জেদে পরিণত করেন অভিনেতা। অভিনয়ের পাশাপাশি সংসার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন একাই।
'৯২% পেয়েও সেন্ট জেভিয়ার্সে ভর্তি হতে পারিসনি কারণ…'
কন্যা সায়নীর পিএইচডি সম্পাদন ও ‘ডক্টর’ তকমা পাওয়ার আনন্দ ভাগ করে নিতে গিয়ে সাগ্নিক তাঁর শৈশব থেকে শুরু করে মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকের দিনগুলোর সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন, ‘ছোটবেলায় পাউরুটিকে ‘পাউটুনি’ বলতিস! আমার পাশে থেকে তোকেও অনেক লড়াই সামলাতে হয়েছে। ৯২% নম্বর থাকা সত্ত্বেও তুই সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ভর্তি হতে পারিসনি কারণ তৎকালীন সময়ে আমরা সেভাবে আর্থিক সাহায্য বা গাইডেন্স জোগাড় করতে পারিনি।’
এমন সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সায়নী নিজের জেদ ও মেধা দিয়ে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে গবেষক হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন।
নেদারল্যান্ডসে পিএইচডি সম্পন্ন ও বাবার গর্ভবোধ:
নেদারল্যান্ডসের ঐতিহ্যবাহী গ্রোনিঙ্গেন ইউনিভার্সিটি (University of Groningen) থেকে সফলভাবে পিএইচডি সম্পন্ন করে সায়নী এখন নামের আগে ‘ডক্টর’ তকমা যুক্ত করেছেন।
বহু বছর আগে প্রাক্তন স্ত্রীর দেওয়া ‘সন্তান মানুষ করতে পারবে না’ সেই অবমাননাকর চ্যালেঞ্জের সপাট জবাব দিয়ে সাগ্নিক প্রমাণ করে দিলেন— একজন সিঙ্গল ফাদার একা হাতে লড়াই করেও সন্তানকে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিতে পারেন। অভিনেতার এই আবেগময় পোস্ট দেখে টলিপাড়ার সহ-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ নেটিজেনরা সাগ্নিক ও সায়নীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন। প্রসঙ্গত, ডিভোর্সের বহু বছর পর অভিনেত্রী শম্পার সঙ্গে জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করে সাগ্নিক।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


