জুটেছে লাভ জিহাদ কটাক্ষ! সইফ মুসলিম,করিনা মানেন খ্রিস্টান ধর্ম, তৈমুর-জেহকে কীভাবে ধর্মের পাঠ দিচ্ছেন সইফিনা?
‘আমার মা আমাকে শিখিয়েছিলেন, আমি সন্তানদের শেখাচ্ছি’, ধর্মবিশ্বাস নিয়ে অকপট সইফ।
বলিউডের অন্যতম চর্চিত দম্পতি সইফ আলি খান এবং করিনা কাপুর খান । দুই ভিন্ন ধর্মের মানুষ একে অপরের হাত ধরে যেভাবে গত ১৪ বছর ধরে সুখী সংসার করছেন, তা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। তবে এই তারকা দম্পতির দুই সন্তান— তৈমুর (Taimur) এবং জাহাঙ্গীর (Jeh)-কে তাঁরা কোন ধর্মীয় ভাবাবেগে বড় করছেন, তা নিয়ে নেটপাড়ার কৌতূহলের শেষ নেই।

সম্প্রতি লন্ডনে আয়োজিত ‘উই উইমেন’-এর একটি বিশেষ সংস্করণে (We Women’s London Edition) এসে এই বিষয়েই অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনা করলেন সইফ। তিনি স্পষ্ট জানালেন, সন্তানদের মনের ভেতর কোনও ধর্মীয় সংকীর্ণতা নয়, বরং এক পরম উদার মানসিকতা তৈরি করতে চান তিনি।
‘আমার মা আমাকে শিখিয়েছিলেন, আমি সন্তানদের শেখাচ্ছি’
ধর্ম নিয়ে সন্তানদের সাথে কথা বলতে তিনি যে ভীষণ ভালোবাসেন, তা উল্লেখ করে সইফ বলেন: ‘আমি নিজে খুব একটা গোঁড়া ধর্মীয় মানুষ নই। আমার মা (শর্মিলা ঠাকুর) আমাকে যা শিখিয়েছিলেন, আমিও আমার সন্তানদের ঠিক সেটাই শেখাচ্ছি— ঈশ্বর আসলে একজনই, শুধু ওঁর নাম আলাদা আলাদা। ব্যস, বিষয়টা এতটাই সহজ। তোমরা স্রেফ আলাদা আলাদা জায়গায় গিয়ে ওঁর উপাসনা করো। যদি তোমার ধর্ম অন্য মানুষের প্রতি ভালোবাসা আর ক্ষমাশীলতার কথা বলে, তবে সেটাই আসল ধর্ম।’
সইফ নিজের ছোটবেলার স্মৃতি হাতড়ে জানান যে তিনি নিজে খ্রিস্টান মিশনারি প্রতিষ্ঠানে বড় হয়েছেন। চার্চে সময় কাটানো বা প্রতিদিন সকালে চ্যাপেলে প্রার্থনা দিয়ে স্কুল শুরু করার অভিজ্ঞতা ওঁর রয়েছে। ঠিক সেই কারণেই তাঁর পরিবারে দীপাবলি যতটা ধুমধাম করে উদযাপিত হয়, বড়দিনও ঠিক ততটাই আনন্দের সাথে পালন করা হয়।
৯ বছরের তৈমুরের জবাবে মুগ্ধ বাবা সইফ
ধর্ম (Religion) এবং পুরাণ (Mythology)-র মধ্যে আসল পার্থক্য কী— তা নিয়ে সম্প্রতি বড় ছেলে তৈমুরের সাথে এক গভীর আলোচনায় মেতেছিলেন সইফ। মাত্র ৯ বছর বয়সে তৈমুর যে উত্তর দিয়েছে, তাতে সইফ রীতিমতো চমকে গেছেন।
নবাব গর্বের সাথে শেয়ার করেন, ‘তৈমুর আমাকে বলল— ধর্মে আমরা সরাসরি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, কিন্তু পুরাণে আমরা সেটা করি না (সেখানে গল্প থাকে)। আমার মনে হয়েছে ৯ বছরের একটা বাচ্চার পক্ষে এটা অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত একটা উত্তর। তাই আমরা বাড়িতে প্রতিনিয়ত এই বিষয়গুলো নিয়ে চর্চা করি। আমার মা এই ব্যাপারে ভীষণ খোলা মনের মানুষ ছিলেন, আমার স্ত্রী করিনাও ঠিক তাই। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা ধর্মীয় বিষয়ের চেয়ে অনেক বেশি আধ্যাত্মিক।' প্রসঙ্গত, করিনা হিন্দু পাঞ্জাবি পরিবারের মেয়ে হলেও তাঁর মা ববিতার ধর্ম (খ্রিষ্টান) মেনে চলেন, বলেই জানিয়েছিলেন তৈমুরের প্রাক্তন ন্য়ানি। অন্য়দিকে সইফের মা শর্মিলা ঠাকুর পরিবারের মেয়ে, বাবা পতৌদির নবাব। সর্বধর্ম সমন্বয়ের পরিবেশে বড় হচ্ছেন তৈমুর-জেহ।
সইফিনার আসন্ন প্রোজেক্ট
২০১২ সালের অক্টোবরে বিয়ের পর থেকে সইফ-করিনা বলিউডের অন্যতম ‘পাওয়ার কাপল’। বর্তমানে করিনা যেখানে নিজের প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত, সইফও তেমনই ওটিটি ও বড় পর্দায় কাজ করছেন। নেটফ্লিক্সে ওঁর শেষ ছবি ‘কর্তব্য’ (Kartavya)-র পর এবার রাহুল ঢোলাকিয়া পরিচালিত আগামী ছবি ‘হাম হিন্দুস্তানি’ (Hum Hindustani)-তে দেখা যাবে সইফকে। যেখানে ওঁর সাথে স্ক্রিন শেয়ার করবেন প্রতীক গান্ধী এবং বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। এছাড়াও প্রিয়দর্শনের ‘হৈওয়ান’ (Haiwaan) ছবিতে অক্ষয় কুমারের সাথেও দেখা যাবে তাঁকে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


