Saina-Kone Dekha Alo: ‘ভুলে গিয়েছিলাম আমি এখন সবার লাজুর-মা…’, সাইনাকে নিয়ে চোখ দেখাতে গিয়ে কী অভিজ্ঞতা হল সংযুক্তার?
মাত্র ১৬ বছর বয়সে দর্শক মনে জায়গা করে নিয়েছেন সাইনা। সকলের কাছেই ভালোবাসার পাত্রী হয়ে উঠেছে ‘লাজু’ হিসেবে। এমনকী, ধারাবাহিক শেষ হওয়ার পরেও, এই ভালোবাসা ভরিয়ে রেখেছে অভিনেত্রীকে। তেমনই এক মিষ্টি মুহূর্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরলেন মা সংযুক্তা।
‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিক শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু দর্শক মনে ছাপ ফেলে গিয়েছে ধারাবাহিকে সাইনা চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রটি। মাত্র ১৬ বছর বয়সে নিজের অভিনয় দিয়ে আপামর বাঙালি দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে সাইনা। যদিও অনেকের কাছেই সে এখন পরিচিত ‘লাজু’ হিসেবে। এমনই এক অভিজ্ঞতা সোশ্য়াল মিডিয়ায় ভাগ করে নিলেন মা সংযুক্তা চট্টোপাধ্যায়।

সাইনার ডাক নাম ডল। বাবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের জুতোয় পা গলিয়ে সাইনাও পা রেখেছেন অভিনয়ে। যদিও মেয়েকে অভিনেত্রী হিসেবে দেখে যেতে পারেননি অভিষেক। সাইনার ছোট পর্দায় প্রথম কাজ ছিল অনুরাগের ছোঁয়া। এরপর কেন্দ্রীয় চরিত্রে তাঁকে দেখা যায় কনে দেখা আলো-তে।
এরমধ্যে মেয়েকে নিয়ে চোখের ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন সংযুক্তা। সেখানে সাইনাকে পেয়ে কথা বলতে এগিয়ে আসেন তাঁর অনুরাগীরা। আর একজন মায়ের কাছে এর থেকে মিষ্টি-গর্বের মুহূ্র্ত আর কী বা হতে পারে। তা ক্যামেরাবন্দি করে তুলে ধরলেন সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায়। সঙ্গে লিখলেন, ‘প্রথমবার গিয়েছিলাম (চোখের ডাক্তারের কাছে) ২০২২ সালে— অভি চলে যাওয়ার ঠিক পরেই আমি তখন শোকে বিহ্বল। ডল স্কুল থেকে ফিরে বলেছিল, ‘মা, আমি ক্লাসে কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না…’। আর আমি তড়িঘড়ি করে ওকে চেক-আপের জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম। পরের বার গিয়েছিলাম যখন ডলু ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ ধারাবাহিকে কাজ করছিল> শুটিংয়ের সময় গ্লিসারিন ব্যবহারের ফলে ওর চোখে অস্বস্তি হচ্ছিল। আমি শুধু নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম যে ওর চোখ একদম ঠিক আছে।’
সংযুক্তা লিখলেন, তবে এবারের অভিজ্ঞতা একেবারে আলাদা। কারণ তাঁর কন্যা যে এখন পুরো বাংলার ঘরের মেয়ে হয়ে উঠেছে। লাজুকে ভালোবাসায় ভরিয়েছে নানা বয়সের মানুষরা। লিখলেন, ‘আজ যখন সেই একই ক্লিনিকে ঢুকলাম, তখন বুঝতেই পারিনি যে আমি আর শুধু ডলুর মা হিসেবে ঢুকছি না। আমি ঢুকছি সবার 'লাজু'-র মা হিসেবে। মানুষকে এগিয়ে আসতে দেখে, ওর প্রতি ভালোবাসা ও আশীর্বাদ বর্ষণ করতে দেখে আমি অভিভূত হয়ে পড়েছিলাম। এমনকী বাংলাদেশ থেকে আসা এক বয়স্ক দম্পতিও খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বলতে এসেছিলেন। এমন মুহূর্তগুলো সত্যিই অমূল্য।’
তবে শুধু দর্শক নন, সাইনাকে ভালোবাসা-আদরে ভরিয়ে রাখেন তাঁর সহকর্মীরাও। শ্যুটের ফাঁকেও জোর কদমে লেখাপড়া চলে তাঁর। সঙ্গে মিষ্টি কথাবার্তা, চোখেমুখের সারল্য নিমেষে জয় করে নেয় সকলের মন। সংযুক্তা তাঁর পোস্টের শেষে লিখেছেন, ‘আমি সবার কাছে শুধু এটুকুই চাই— ওকে আশীর্বাদ করবেন। মা হিসেবে আমি এর চেয়ে বেশি কিছু চাই না। সবচেয়ে শক্তিশালী মেয়েটি... যে শুধু জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে আমাকে শক্তি জোগায়নি, বরং নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখেই 'অভির দয়া, নম্রতা ও উষ্ণতা'-কে নিজের মধ্যে ধারণ করে তার স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে।’
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


