Kumod Raney: দিদিকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ সোহেল, কেঁদে ভাসাচ্ছেন সলমন! কে এই কুমোদ রানি?
Kumod Raney: সলমন খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ পারিবারিক বন্ধু ও দুবাইয়ের নামী ব্যবসায়ী কুমোদ রানি মঙ্গলবার ৬০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মুম্বইয়ে কুমোদের শেষকৃত্যে উপস্থিত হয়ে সলমন খানসহ গোটা খান পরিবার চোখের জলে তাঁকে শেষ বিদায় জানান।
বলিউডের ‘ভাইজান’ সলমন খানকে সাধারণত ক্যামেরার সামনে অত্যন্ত শক্ত মনের মানুষ হিসেবেই দেখা যায়। কিন্তু মঙ্গলবার মুম্বইয়ের এক শ্মশান চত্বরে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সলমনকে দেখল নেটপাড়া। পরিবারের অত্যন্ত কাছের এক সদস্যকে হারিয়ে ক্যামেরার সামনেই চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না অভিনেতা। সলমনের এই কান্নার ভিডিও সমাজমাধ্যমে আসতেই অনুরাগীদের মধ্যে উদ্বেগ ও কৌতুহল তৈরি হয় যে, ঠিক কাকে হারিয়ে এভাবে ভেঙে পড়লেন অভিনেতা।

আসলে মঙ্গলবার প্রয়াত হয়েছেন সলমন ও গোটা খান পরিবারের অত্যন্ত দীর্ঘদিনের ও কাছের পারিবারিক বন্ধু কুমোদ রানি (Kumod Raney)। তাঁর মৃত্যুর খবরে এই মুহূর্তে গভীর শোকে মগ্ন বলিউডের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট।
কে ছিলেন এই কুমোদ রানি?
লাইমলাইট থেকে দূরে থাকলেও কুমোদ রানি ছিলেন দুবাইয়ের একজন অত্যন্ত সফল ও প্রথম সারির উদ্যোগপতি (Dubai-Based Entrepreneur)। ২০০৫ সালে দুবাই শহরে তিনি 'রেইন বিউটি বার' (Reign Beauty Bar) নামের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় বিউটি ও ওয়েলনেস লাউঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন। সৌন্দর্য চর্চার পাশাপাশি ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং এবং মার্কেটিংয়ের প্রতিও তাঁর দারুণ আগ্রহ ছিল।
ব্যক্তিগত জীবনে কুমোদ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন জুগে রানি (Juggey Raney)-র সাথে, যিনি সলমন খানের দীর্ঘদিনের অভিন্ন হৃদয় বন্ধু। সেই সূত্রে বিগত বহু বছর ধরে সলমন, সোহেল ও আরবাজদের সাথে পারিবারিক আত্মীয়ের মতো সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল কুমোদের। চলতি বছরেই জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজের ৬০তম জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন কুমোদ, যেখানে সলমন খান নিজে উপস্থিত থেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। তাঁর কবির (Kabir) নামের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
"আজ আমি আমার সুন্দর বোনটিকে হারালাম"— আবেগঘন সোহেল ও অর্পিতা
মঙ্গলবার মুম্বইয়ে কুমোদ রানির শেষকৃত্যে সলমন খান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সালমা খান, হেলেন, সোহেল খান এবং আরবাজ খান। প্রিয় মানুষকে শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে সলমনকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও অশ্রুসজল চোখে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়।
পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুমোদের সাথে একটি পুরোনো সুন্দর ছবি শেয়ার করে সলমনের ভাই সোহেল খান (Sohail Khan) লেখেন:
“আজ আমি আমার অত্যন্ত সুন্দর এক বোনকে হারালাম। পৃথিবীর কেউ ওর জায়গা নিতে পারবে না। জুগে এবং কবিরের জন্য আমার মন কাঁদছে, কারণ কুমোদই ছিল ওদের বেঁচে থাকার রসদ। এই ধরণের সময়গুলো মনে করিয়ে দেয় যে জীবন কতটা অন্যায্য এবং তখন ঈশ্বরের ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে যায়। আমি প্রার্থনা করি ও যেখানেই থাকুক, যেন শান্তিতে থাকে। আমরা ওকে আজীবন মিস করব।”
অন্যদিকে সলমনের বোন অর্পিতা খান শর্মা-ও ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কুমোদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, "প্রিয় কুমোদ, তোমার সাথে কাটানো প্রতিটা মুহূর্ত আমরা আজীবন মনে রাখব। তোমার উষ্ণতা, তোমার ভালোবাসা আর তোমার রসিকতাবোধ আমরা খুব মিস করব। ওপার থেকে তুমি আমাদের ওপর নজর রেখো। আরআইপি মাই লাভ।"
দীর্ঘ ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে সলমনদের সুসময় ও দুঃসময়ে ছায়ার মতো পাশে থাকা এই প্রিয় ‘দিদি’ তথা ‘বোনের’ আকস্মিক চলে যাওয়া যে খান পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি, তা তাঁদের সামাজিক মাধ্যমের পোস্টগুলোতেই স্পষ্ট।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


