প্রাক্তন করিনার সামনে শাহিদকে নিয়ে সলমনের রসিকতা, IIFA-য় ভাইজানের মন্তব্য ভাইরাল
IIFA ২০২৭-এর সাংবাদিক বৈঠকে সলমন খানের এক মজার মন্তব্য ঘিরে চর্চা তুঙ্গে। প্রাক্তন প্রেমিকা করিনা কাপুরের সামনেই শাহিদ কাপুরকে খোঁচা দিতে দেখা গেল ভাইজানকে। সেই মুহূর্তের ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে নানা রকম প্রতিক্রিয়া।
বলিউডের তারকাখচিত অনুষ্ঠান মানেই চর্চার নানা রসদ। আর সেখানে যদি সলমন খান থাকেন, তা হলে মজার মুহূর্ত তৈরি হতে বিশেষ সময় লাগে না। IIFA ২০২৭-এর সাংবাদিক বৈঠকে তেমনই একটি ঘটনা ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। করিনা কাপুর ও শাহিদ কাপুরের উপস্থিতিতে সলমনের একটি মন্তব্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সলমন খান, বরুণ ধবন, রশ্মিকা মন্দানা-সহ বলিউডের একাধিক তারকা। সেই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিয়ো সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে নেটদুনিয়ায়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রথমে মঞ্চে ওঠেন করিনা কাপুর। এরপর রশ্মিকা মন্দানার পিছনেই মঞ্চে প্রবেশ করেন শাহিদ কাপুর। মঞ্চে ওঠার সময় শাহিদকে হাত দিয়ে মঞ্চ স্পর্শ করতে দেখা যায়।
সেই দৃশ্য নজর এড়ায়নি সলমনের। হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে শাহিদকে উদ্দেশ্য করে মজার ছলেই তিনি বলে ওঠেন, শাহিদ তাঁর পা না ছুঁয়ে মঞ্চ ছুঁয়েছেন! সলমনের এই মন্তব্য শুনে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে হাসির পরিবেশ তৈরি হয়। আর সেই ছোট্ট মুহূর্তই এখন নেটমাধ্যমে ভাইরাল।
তবে ভিডিয়োটি ঘিরে নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া একেবারেই একরকম নয়। কেউ সলমনের কথায় মজার ইঙ্গিত খুঁজেছেন, কেউ আবার শাহিদকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের প্রসঙ্গ টেনেছেন। এক নেটিজেনের মন্তব্য, এই কথার মাধ্যমে নাকি সলমন বুঝিয়ে দিয়েছেন যে শাহিদের কোনও বিপদের আশঙ্কা নেই। অন্য এক জনের মতে, শাহিদ সলমনের পা ছুঁয়েছেন, এমন কোনও খবর যাতে সংবাদমাধ্যমে তৈরি না হয়, সেই কারণেই হয়তো এই রসিকতা।
আবার কয়েক জনের দাবি, সলমনের কথায় নাকি সেভাবে হাসিই পায়নি কারও। কেউ কেউ শাহিদের নীরবতা নিয়েও মন্তব্য করেছেন। তাঁদের নজর কেড়েছে, সলমন মজা করলেও শাহিদের বিশেষ কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে দেখা যায়নি। যদিও এই মন্তব্যগুলি নেটিজেনদের নিজস্ব মতামত, ভিডিয়ো থেকে এর বাইরে কোনও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। সব মিলিয়ে, IIFA-র মঞ্চে সলমন ও শাহিদের এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথন ঘিরেই এখন সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া।
২০০৭ সালে ভেঙেছিল শাহিদ-করিনার সম্পর্ক
একসময় বলিউডের অন্যতম চর্চিত প্রেমিক যুগল ছিলেন শাহিদ কাপুর ও করিনা কাপুর। ২০০৪ সালে ‘ফিদা’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার সময় তাঁদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে বলে জানা যায়। এরপর ‘চুপ চুপ কে’, ‘৩৬ চায়না টাউন’ এবং ‘জব উই মেট’-এর মতো ছবিতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন তাঁরা। বিশেষ করে ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জব উই মেট’ দর্শকদের কাছে আজও জনপ্রিয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘জব উই মেট’-এর শুটিং চলাকালীনই শাহিদ ও করিনার সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে। যদিও সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরেও একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা। ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মিলেঙ্গে মিলেঙ্গে’ ছবিতে ফের পর্দা ভাগ করে নেন এই দুই তারকা।
পরবর্তীকালে অবশ্য দু’জনেই নিজেদের জীবনে এগিয়ে গিয়েছেন। ২০১২ সালে সইফ আলি খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন করিনা। অন্যদিকে, ২০১৫ সালে মীরা রাজপুতকে বিয়ে করেন শাহিদ। ব্যক্তিগত জীবনে আলাদা পথে হাঁটলেও তাঁদের পুরনো সম্পর্ক নিয়ে অনুরাগীদের কৌতূহল আজও অটুট।
কবে, কোথায় হবে IIFA ২০২৭?
IIFA অ্যাওয়ার্ডসের আগামী সংস্করণ ঘিরেও ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২২ ও ২৩ জানুয়ারি আবু ধাবির ইয়াস আইল্যান্ডের ইতিহাদ অ্যারেনায় বসবে এই তারকাখচিত অনুষ্ঠান।
এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে করণ জোহর ও বরুণ ধবনকে দেখা যেতে পারে বলে খবর। বরুণের কাঁধে এই দায়িত্ব গেলে সেটি তাঁর কেরিয়ারে বিশেষ সংযোজন হতে পারে। পাশাপাশি সলমন খান, করিনা কাপুর, শাহিদ কাপুর, রশ্মিকা মন্দানা এবং জাহ্নবী কাপুরের মতো তারকাদের পারফর্ম করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এবারের IIFA-কে ঘিরে আরও একটি উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনা হল বিশ্বজুড়ে ইউটিউবের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সম্প্রচার। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রথমবার ইউটিউবে সম্প্রচারিত হবে IIFA অ্যাওয়ার্ডস। ফলে অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখার সুযোগ পাবেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অনুরাগীরা।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


