Sanjay Dutt: ‘মা কোমায়, বাবা বললেন দেশে ফিরে শুটিং শেষ করো!’ মৃত্যুশয্যায় নার্গিস, অতীত হাতড়ালে আফসোস হয় সঞ্জয়ের?

ক্যানাসের মারণ থাবা কেড়ে নিয়েছিল হিন্দি সিনেমার আইকন নার্গিস দত্তকে। যৌবনের দোরগোড়াতেই মাতৃহারা হন সঞ্জয়। ৪০ বছর আগের সেই তিক্ত স্মৃতি আজও তাড়া করে ফেরে নায়ককে।

Published on: Jul 31, 2026, 10:30:26 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

চার দশক পার হয়ে গেলেও মায়ের স্মৃতি আজও একই রকম টাটকা ও আবেগঘন। রুপোলি পর্দার কিংবদন্তি অভিনেত্রী নার্গিসের শেষ দিনগুলোর যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতি এবার নতুন করে উসকে দিলেন ছেলে সঞ্জয় দত্ত। সম্প্রতি এআইজি হসপিটালস-এর পডকাস্টে উপস্থিত হয়ে মায়ের ক্যানসার যুদ্ধ, নিউ ইয়র্কের হাসপাতালে কাটানো সেই ভয়াবহ দিনগুলো এবং জীবনের প্রথম ছবি 'রকি' মুক্তির ঠিক আগে বাবা সুনীল দত্তের নেওয়া এক কঠিন সিদ্ধান্তের কথা শোনালেন সঞ্জু বাবা!

‘মা কোমায়, বাবা বললেন দেশে ফিরে শুটিং শেষ করো!’ অতীতের তিক্ত স্মৃতি ভাগ সঞ্জয়ের
‘মা কোমায়, বাবা বললেন দেশে ফিরে শুটিং শেষ করো!’ অতীতের তিক্ত স্মৃতি ভাগ সঞ্জয়ের

'মা কোমায়, কেন ছবি শেষ করতে হবে বুঝতে পারিনি'

আশির দশকের শুরুর দিকের কথা। অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে (প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার) আক্রান্ত হন নার্গিস। সঞ্জয় জানান, তখনকার চিকিৎসা প্রযুক্তি আজকের মতো এত উন্নত ছিল না। নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত স্লোয়ান কেটারিং হাসপাতালে অত্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচার করা হয় ওঁর। মাত্র ১৯-২০ বছরের তরুণ সঞ্জয় ও ওঁর ছোট বোনেরা প্রিয় মাকে বাঁচাতে রক্তের প্লেটলেট দান করা থেকে শুরু করে সমস্ত চেষ্টা চালিয়েছিলেন।

ঠিক তখনই পরিবারের ওপর নেমে আসে চরম মানসিক চাপ। একদিকে মা নিউ ইয়র্কের হাসপাতালে কোমায় আচ্ছন্ন, অন্যদিকে ভারতে মুক্তি পেতে চলেছে সঞ্জয়ের ডেবিউ ছবি 'রকি'। এই কঠিন মুহূর্তে বাবা সুনীল দত্ত সঞ্জয়কে নির্দেশ দেন ভারতে ফিরে গিয়ে ছবির কাজ শেষ করতে।

সঞ্জয়ের কথায়, সেই বয়সে দাঁড়িয়ে বাবা কেন এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা তিনি মোটেও বুঝতে পারেননি। মা কোমায় শুয়ে আছেন, আর তাকে পাঠানো হচ্ছে শুটিং শেষ করতে! তবে বাবার অনুশাসন মেনে তিনি ভারতে ফিরে এসে কাজ শেষ করেছিলেন।

'বাড়িতে ফেরার পরেই যেন লড়াইটা থামিয়ে দিলেন মা'

মায়ের অদম্য ইচ্ছাশক্তির কথা স্মরণ করে সঞ্জয় বলেন, ওঁর মা শুধু যেভাবেই হোক দেশে নিজের বাড়িতে ফিরতে চেয়েছিলেন। ক্যানসারের সাথে ওঁর লড়াইটা ছিল মূলত নিজের ভিটেয় ফেরার জন্য। নিউ ইয়র্ক থেকে লড়াই চালিয়ে ভারতে নিজের বাড়িতে ফিরে আসার পরেই যেন যুদ্ধ থামিয়ে দেন নার্গিস। নিজের ঘরে ফেরার কিছুদিন পরেই চিরতরে চোখ বুজলেন তিনি।

কড়া মেজাজের বাবা ও মূল্যবোধের শিক্ষা

বাবা সুনীল দত্তের অনুশাসনের কথা স্মরণ করে সঞ্জয় জানান, ওঁর বাবা অত্যন্ত কড়া অভিভাবক ছিলেন। তবে আজ ওঁর মধ্যে যে মূল্যবোধ রয়েছে— গুরুজনদের সম্মান করা বা চিকিৎসকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, তার পুরোটাই বাবার থেকে পাওয়া। সঞ্জয় জানান, চিকিৎসক বয়সে ওঁর ছোট হলেও ওনাকে সম্মান জানান তিনি, কারণ এই মূল্যবোধই ছোটবেলা থেকে সুনীল দত্ত ওঁর মনের মধ্যে গেঁথে দিয়েছিলেন।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More