বাবা কা সোয়্যাগ! মহারাষ্ট্রের মন্ত্রীর ‘মারাঠিতে বলুন’ অনুরোধ কানেই নিলেন না সঞ্জয়
মুম্বইয়ের এক অনুষ্ঠানে মহারাষ্ট্রের পরিবহণমন্ত্রী প্রতাপ সরনায়েক সঞ্জয় দত্তকে মারাঠিতে কথা বলার অনুরোধ করেন। তবে মন্ত্রীর সেই অনুরোধ এড়িয়ে যেতে নিজের জেলজীবনের প্রসঙ্গ টেনে মজার জবাব দেন অভিনেতা। তাঁর সেই মন্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া।
বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত তাঁর স্পষ্টভাষী এবং রসিক স্বভাবের জন্য বরাবরই পরিচিত। সম্প্রতি মুম্বইয়ের একটি অনুষ্ঠানে মঞ্চে মহারাষ্ট্রের পরিবহণমন্ত্রী প্রতাপ সরনায়েকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা। সেখানেই সঞ্জয়কে মারাঠিতে কথা বলার অনুরোধ করেন মন্ত্রী। আর সেখানে মারাঠিতে কথা বলার অনুরোধে, নিজের পুরনো জেলজীবনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন সঞ্জয়।

মন্ত্রীর মারাঠি বলার অনুরোধ
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া অনুষ্ঠানের একটি ভিডিয়োতে দেখা যায়, মঞ্চে সঞ্জয় দত্ত ও প্রতাপ সরনায়েক দাঁড়িয়ে রয়েছেন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আজকাল আমি সবাইকে মারাঠি শেখাচ্ছি।’ মূলত তাঁর দফতরের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গেই এই মন্তব্য করেন তিনি। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মুম্বইয়ে কাজ চালিয়ে যেতে অটোচালকদের মারাঠি ভাষার কিছু সাধারণ বাক্য সম্পর্কে কার্যকর জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
এরপর মন্ত্রী মারাঠিতেই বলেন, সঞ্জয় দত্ত সাধারণত হিন্দিতে কথা বলেন, যদিও উপস্থিত সকলেই মারাঠি বোঝেন। তাই অভিনেতাকে মারাঠিতে কথা বলানোর কথা তাঁর মাথায় এসেছে।
‘ইয়েরওয়াড়া জেলেও মারাঠি শিখতে পারিনি’
এরপর মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সঞ্জয় দত্ত বলেন, ‘প্রতাপ ভাই, আমি ছ’বছর ইয়েরওয়াড়া জেলে ছিলাম। সেখানেও মারাঠি শিখতে পারিনি। একটু শিখেছিলাম।’
এরপর প্রতাপ সরনায়েকের কাঁধে হাত রেখে তাঁকে নিজের পুরনো বন্ধু ও ভাই বলে সম্বোধন করেন সঞ্জয়। মন্ত্রীকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে অভিনেতা বলেন, তাঁদের সম্পর্ক প্রায় ২৫ বছরের পুরনো। সঞ্জয়ের এই রসিক জবাবের পর অনুষ্ঠানে হাসির পরিবেশ তৈরি হয়।
সঞ্জয়ের মন্তব্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া
সঞ্জয় দত্তের এই মন্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই অভিনেতার পরিস্থিতি সামলানোর ধরন এবং তাঁর রসবোধের প্রশংসা করেছেন। একজন নেটিজেন লেখেন, মন্ত্রীর সামনে এভাবে হাসিমুখে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে সঞ্জয় দত্ত বা সলমন খানের মতো তারকারাই পারেন। অন্য একজনের মন্তব্য, ‘স্টাইলের সঙ্গে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেন।’
তবে অনেকেই আবার মুম্বইয়ে বসবাস করেও সঞ্জয় এখনও মারাঠি বলতে পারেন না—এই বিষয়টির সমালোচনা করেছেন। কেউ কেউ অটোচালকদের ক্ষেত্রে ভাষার নিয়মের সঙ্গে অভিনেতার মন্তব্যের তুলনাও টেনেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, ‘অটোচালকরাও কি একইভাবে এই নিয়ম এড়িয়ে যেতে পারবেন?’
শেষবার ‘৭ ডগস’-এ দেখা গিয়েছে সঞ্জয়কে
কাজের ক্ষেত্রে, সঞ্জয় দত্তকে সম্প্রতি আরবি ছবি ‘৭ ডগস’-এ ক্যামিও চরিত্রে দেখা গিয়েছে। ছবিতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন সলমন খানও। তবে ছবিটি সমালোচক ও বক্স অফিস—দুই ক্ষেত্রেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


