বিজেপির হয়ে প্রচারমূলক কনটেন্ট, সায়ক আড়াই লাখ, ননসেন শমীক পেয়েছে ১৩ লাখ! ফেসবুক পোস্টে নাম না করে খোঁচা অনিন্দ্যর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটপ্রচারে বিজেপি দলের হয়ে প্রচারমূলক কনটেন্ট তৈরির জন্য টাকা পেয়েছেন ‘ননসেন’ শমীক অধিকারী ও সায়ক চক্রবর্তী। একজনের ‘বাটন’ ভিডিয়ো, অন্যজনের ‘বিফ-কাণ্ড’ তোলপাড় করেছিলেন নেটমাধ্যম, রাজ্য রাজনীতি

Published on: Sep 25, 2026, 08:31:01 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

বৃহস্পতিবার ইসিআই (ECI) থেকে সামনে আসা তথ্য অনুসারে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গসহ মোট ৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভারতীয় জনতা পার্টি ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা নির্বাচনী প্রচারের জন্য খরচ করেছে। আর এই ব্যয়ের সিংহভাগই খরচ করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। যেখানে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে পদ্ম দল। কোন অ্যাকাউন্টে কত টাকা গিয়েছে সামনে আসার পরই, আলোচনায় বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম, কনটেন্ট ক্রিয়েটার। আর এই তালিকায় রয়েছেন বাংলার দুই নামজাদা কনটেন্ট ক্রিয়েটর, সায়ক চক্রবর্তী ও শমীক অধিকারি ওরফে ননসেন।

ফের বিতর্কে সায়ক-শমীক।
ফের বিতর্কে সায়ক-শমীক।

রিপোর্ট অনুসারে সায়ক চক্রবর্তী পেয়েছেন আড়াই লাখ টাকা। আর শমীক অধিকারির টাকার অঙ্ক মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতোই। তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ১৩ লাখ টাকা। প্রসঙ্গত, এই দুজনেই কিন্তু ভোটের আগে বেশ সোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন। শমীক খবরে ছিলেন তাঁর ‘বাটন’ নামের ভিডিয়োটির কারণে, ও পরে বান্ধবীর তোলা শারীরিক হেনস্থার অভিযোগে জেল খাটায়। আর সায়ক পার্কস্ট্রিটের অলি পাবে গিয়ে ঘটিয়েছিলেন ‘বিফ-কাণ্ড’।

এখন নিন্দুকদের দাবি, এই বিফ কাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকতে পারে। কারণ, সেভাবে কোনও ভোট সংক্রান্ত রাজৈনিতক ভিডিয়ো বানাননি তিনি। কোনো দলের হয়ে বা কোনো বিশেষ দলের বিরোধিতা করে ভিডিয়ো বানানি তিনি শমীকের মতো। তবে সায়কের বিফ-কাণ্ডের জেরে সেই সময় তোলপাড় হয়েছিল রাজ্যরাজনীতি। প্রসঙ্গত, শুভেন্দু অধিকারির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণপত্র পেয়েছিলেন সায়ক। সগর্বে তা সোশ্য়াল মিডিয়ায় পোস্টও করেছিলেন।

ইসিআই-এর ডেটা।
ইসিআই-এর ডেটা।

অন্য দিকে, বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে ‘বাটন’ ভিডিয়োটি বানান শমীক। যা ছিল তুমুল ভাইরাল। এদিকে, এই ঘটনার পর তাঁর এক বান্ধবী বেহালা থানায় শমীকের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন, শ্লীলতাহানি এবং বলপূর্বক আটকে রাখার অভিযোগ দায়ের করেন। পরে তদন্তে ধর্ষণের ধারাও যুক্ত করা হয়। ফেব্রুয়ারি মাসে ৪৫ দিন জেলে ছিলেন। মার্চ মাসের মাঝামাঝিতে আদালত শমীক অধিকারীকে জামিন মঞ্জুর করে। সেই সময়, অনেকেই অভিযোগ তুলেছিল, তাঁর গ্রেফতারিতে রয়েছে সেই সময়কার শাসক দল অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসের হাত। এদিকে, ঘাসফুল ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ ছিল, বিজেপির থেকে টাকা পেয়ে ভিডিয়ো বানান শমীক।

আপাতত শমীক ও সায়ককে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে শুরু করেছেন অনেকেই। চলছে কটাক্ষ, সমালোচনা, নিন্দে। এরই মাঝে অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় ফেসবুকে লেখেন, ‘আজকে ফেসবুকে ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ দেখলাম ।’ তিনি কারও নাম না নিলেও, বুঝতে সমস্যা হয় না, ইঙ্গিত কার থুরি কাদের দিকে।

একজন মন্তব্য করেন, ‘সায়ক নাকি বিগবসে নিজের ইমেজ ঠিক করতে গেছিল? এবং সফলও হয়েছে… কিন্তু বিগবস ছেড়ে বেরিয়ে আসার দু'দিনের মধ্যে আবারও ইমেজ ডাউন হয়ে গেল ছেলেটার! আহা রে!’ আরেকজন লেখেন, ‘যাই বলো, একটা বোতামের দাম ১৩ লাখ টাকা!’

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More