২.৫ লাখ টাকার সঙ্গে গোরুর মাংস খাওয়ার সম্পর্ক নেই, বিতর্ক বাড়তেই দাবি সায়কের! তাহলে কেন বিজেপি দিল টাকা, জানালেন সেটাও

বিজেপি-র হয়ে ভোট প্রচারে কনটেন্ট বানাতে আড়াই লাখ টাকা পেয়েছেন সায়ক চক্রবর্তী। অভিনেতা-ইউটিউবারের দাবি, এর সঙ্গে অলি পাব কাণ্ডের কোনো যোগই নেই। তাহলে কেন বিজেপি দিয়েছিল টাকা?

Updated on: Sep 26, 2026, 10:35:25 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

বৃহস্পতিবার ইলেকশন কমিশনের ডেটা সামনে আসে। যেখানে দেখা যায় নির্বাচনী প্রচারে অভিযোগের খতিয়ান জমা দিয়েছে বিজেপি। যেখানে দেখা যায়, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গসহ মোট ৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভারতীয় জনতা পার্টি ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা নির্বাচনী প্রচারের জন্য খরচ করেছে। সঙ্গে বেশ কিছু বাংলার কনটেন্ট ক্রিয়েটারের নামও উঠে আসে, যারা ভোট প্রচারের জন্য টাকা পেয়েছেন বিজেপি-র থেকে। আর তাতে ছিল অভিনেতা-ইউটিউবার সায়ক চক্রবর্তীর নামো। দেখা যায় তিনি ২.৫ লাখ টাকা পেয়েছেন।

সায়ক চক্রবর্তী।
সায়ক চক্রবর্তী।

আর তারপরই দুইয়ে দুইয়ে চার! ভোট পূর্ববর্তী বঙ্গে সায়ক ও অলিপাবের ঘটনা ভুলতে পারেনি মানুষ। পার্কস্ট্রিটের সেই ওয়েটারের উপর অভিনেতা দোষ চাপিয়েছিলেন তাঁর ধর্মভ্রষ্ট করার। নিজেকে বারবার হিন্দু ব্রাহ্মণ বলে উল্লেখ করে ক্ষোভপ্রকাশও করতে দেখা গিয়েছিল সায়ককে। এমনকী থানায় এফআইআর দায়েরও করেছিলেন। সেই ওয়েটারকে এরপর জেল খাটতে হয়। যদিও সেই সময়, নেটপাড়ার একটা বড় অংশ, তারকারা ছিলেন সায়কের বিপক্ষেই। কেন বিফ স্টেক পাওয়া যায় জেনেও তিনি অলিপাবে গিয়েছেন, সেই নিয়েই পালটা প্রশ্ন ওঠে। এমনকী, ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দাঙ্গা লাগানোয় উসকানি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছিল। বাধ্য হয়ে সেই পোস্ট মুছেও ফেলেছিলেন সায়ক। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি লম্বা পোস্টে সায়কের দাবি, আড়াই লাখ টাকা পাওয়ার সঙ্গে অলিপাব কাণ্ডের কোনো সম্পর্কই নেই। তাহলে কেন বিজেপি তাঁকে দিয়েছিল এই টাকা?

সায়ক লিখেছেন, ‘এটা শুধুমাত্র যারা আমাকে ভালোবাসেন, বিশ্বাস করেন তাদের জন্য। অলি পাব রিঅ্যাকশন আমার ইনস্ট্যান্ট, সেটা অন্য দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেখে আমি নিজে সব ডিলিট করেছিলাম। আমি সেটা নিয়ে আর কথাও বলিনি, অলি পাব ভুল স্বীকার করে স্টেটমেন্টও দিয়েছিল। এটার সঙ্গে অন্য কিছুরই কোনও সম্পর্ক নেই। ওটা ঘটনা, রাজনীতি না। আমার মতে সেটা নিয়ে এখনও যারা উস্কাচ্ছে, তাদের অন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে নিশ্চয়ই, সেটা সরকার দেখবে।’

এবার প্রশ্ন উঠতেই পারে বিজেপির আড়াই লাখ তাঁর খাতায় কেন ঢুকল। সেটাও স্পষ্ট করেছেন সায়ক। লিখেছেন, ‘আফটার অলি পাব আমাকে কয়েকটা দল কন্টেন্ট বানানোর অ্যাপ্রোচ করে। তার আগেও করেছিল। কিন্তু ওই ঘটনায় বিজেপি এবং সমমনভাবাপন্ন মানুষ আমাকে সাপোর্ট করেছিলেন। তাই হ্যাঁ, আমি তাদের হয়ে কিছু কনটেন্ট বানিয়েছি। কী সেটা? SIR নিয়ে কিছু টেকনিক্যাল এক্সপ্ল্যানেশন এবং যুদ্ধের সময় প্রধানমন্ত্রী চুপ থাকার কারণ এবং BJP campaign এর কাজ শেষ হয় নতুন CM কে শুভেচ্ছা জানিয়ে-মে মাসে। অলি পাবের ঘটনা জানুয়ারিতে। আমার বিজেপির হয়ে এই সব কনটেন্ট মার্চ- মে, সেটাও কমিশনের ওয়েবসাইটে পাবেন।’

প্রসঙ্গত, নিজের নামের পাশে থাকা টাকার অঙ্ক ও তাঁর পাশের ১৫-৩-২০২৬-- ০৬-০৫-২০২৬ তারিখটি গোল করে দিয়েছেন তিনি। খেয়াল করলে দেখা যাবে সব নামের পাশে ওই একই তারিখ বসানো হয়েছে।

সায়ক জানিয়েছেন, তিনি সৎপথেই টাকা উপার্জন করেছেন। তাই হেটার্সদের কথাকে পাত্তা দিতে তিনি নারাজ। লেখেন, ‘এর সাথে যারা অলি পাব জুড়ছেন, ভুল করছেন। আর অলি পাবের সাথে আমার টাকা পয়সার কোনও সম্পর্ক নেই, এটা যারা জেনেও ইচ্ছে করে উসকাচ্ছেন, অন্যায় করছেন।আমি অন্যায় করিনি, হেটার্সদের এসব বাজে কথায় আমার তাই আর কিছু যায় আসে না। আসবেও না। হেটার্সদের সাফাই দেওয়ার প্রয়োজন নেই আমার। যারা আমাকে ভালোবাসেন, অনেকে মেসেজ করেছিলেন। এটা তাদের জন্য। দিনের শেষে ভালোবাসার জয় হয় , ঘেন্নার নয়…’

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More