বাড়ির পরিচারিকা থেকে রেস্তোরাঁর শেফ, খুকুর সাফল্যের গল্প ফেসবুকে দিলেন সায়ক
সায়ক চক্রবর্তী অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি পেলেও, ঘরে ঘরে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছেন তাঁর ডেইলি ভ্লগের মাধ্যমেই। আর সেই ভ্লগ থেকেই নেটিজেনদের সঙ্গে পরিচিতি খুকু-র। এখন সায়কের বাড়িতে রান্নার কাজ করা খুকু, রেস্তোরাঁর শেফ।
এক সাধারণের স্বপ্ন পূরণের গল্প! সায়ক চক্রবর্তীর সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে তাঁর বাড়ির পরিচারিকা খুকু-র গল্প যে কোনো মানুষের কাছে হতে পারে স্বপ্নপূরণের অনুপ্রেরণা। যারা নেটমাধ্যমে একটু হলেও সক্রিয়, তাঁরা প্রায় সকলেই পরিচিত সায়কের সঙ্গে। অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি পেলেও, ঘরে ঘরে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছেন তাঁর ডেইলি ভ্লগের মাধ্যমেই। আর সেই ভ্লগ থেকেই নেটিজেনদের সঙ্গে পরিচিতি খুকু-র।

দীর্ঘদিন ধরে সায়কের বাড়িতে রান্না করছেন। সায়ককে ডাকেন ‘ভাই’ বলে। অন্যদকে, খুকু-কে সায়ক নাম ধরে ডাকলেও, দিয়েছেন দিদির স্থান। নিজের মায়ের সঙ্গে খুকুকেও সঙ্গে করে নিয়ে যান রেস্তোরাঁয়, পার্লারে। এমনকী, খুকুকে খুলে দিয়েছেন তাঁর নিজস্ব পেজ। হাতে করে শিখিয়েছেন ভ্লগিং। আর যা দিয়ে কিছু উপরি আয় খুকুকে সাহায্য করেছে সংসারের হাল আরও ভালোভাবে ধরতে।
আর এই পরিচিতি থেকেই খুকু-র কাছে সুযোগ দক্ষিণ কলকাতার এক রেস্তোরাঁয় শেফ হিসেবে কাজ করার। আর এই সাফল্যের খবর ভাগ করলেন সায়ক। শেফের পোশাকে খুকুর ছবি শেয়ার করে লিখলেন, ‘আজ থেকে নতুন শুরু খুকুর। শুরু থেকে যেভাবে ভালোবাসো তোমরা ওকে,আজ একই ভাবে ভরিয়ে রেখো’। নেটপাড়াও ভালোবাসায় ও শুভেচ্ছায় ভরিয়েছেন খুকুকে। সঙ্গে প্রশংসার বন্যায় ভেসেছেন সায়কও।
একজন লিখেছেন, ‘আজকের দিনে মানুষ যখন শুধু ভাবে লোকের ক্ষতি, সেখানে তুমি খুকুর জন্য নিঃসার্থভাবে কত কী করেছ। আর খুকুও অকৃতজ্ঞের মতো ভুলে যায়নি তোমার প্রতিদান। দুজনকেই অনেক ভালোবাসা।’ আরেকজন লিখলেন, ‘খুকুদির রান্না খেতে আমি তো যাবই।’ অন্য কমেন্টে লেখা হয়, ‘সঠিক মানুষের হাত জীবনে থাকলে, এভাবেই তরতরিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। সায়ক আর খুকু, দুজনের জন্যই আজ খুশি।’
প্রসঙ্গত, বহুদিন ধরেই সেভাবে অভিনয়ের কাজ নেই হাতে। করোনা লকডাউনের সময় থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভ্লগিং শুরু। সেখান থেকেই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রোমোশন, রেস্তোরাঁ রিভিউ থেকে মোটা অঙ্কের আয়। মাঝে চিরসখা ধারাবাহিকের কয়েকটি এপিসোডে সায়ককে দেখা গেলেও, সেভাবে তাঁর চরিত্র গুরুত্ব পায়নি। তুই আমার হিরো ধারাবাহিকে এক সমকামী চরিত্রে অবশ্য তাঁর অভিনয় প্রশংসা পেল। মাঝে পার্কস্ট্রিটের রেস্তোরাঁয় গো মাংস কাণ্ড ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এসেছিলেন আলোচনায়। এমনকী, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সাময়িক বিরতিও নিয়েছিলেন। তবে ফের সমস্ত নেতিবাচকতাকে দূরে হটিয়ে সায়ক ফিরেছেন চেনা ছন্দে।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


