Sayantika-Dev: ‘রাজনীতিতে আসাটা ভুল ছিল!’ দাদাগিরির মঞ্চে বিস্ফোরক সায়ন্তিকা, ‘জিতলেও বলতে?’ পালটা সওয়াল দেবের
রুপোলি পর্দায় তাঁদের রোম্যান্স দেখেছে দর্শক। পর্দার বাইরেও তাঁদের বন্ধুত্ব অটুট। একটা সময় তৃণমূলের তারকা মুখ ছিলেন দেব-সায়ন্তিকা। এখন একজন অন্য দলে, নায়িকা সন্ন্যাস নিয়েছেন রাজনীতি থেকে।
ছোট পর্দার অত্যন্ত জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘দাদাগিরি’। দেব সঞ্চালিত এই গেম শো-এর মঞ্চেই অতিথি হিসেবে হাজির হতে চলেছেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটা সময় দুজনেই তৃণমূলের তারকা মুখ ছিলেন। একদিকে রাজনীতি থেকে বিরতি নিয়েছেন ভোটে ‘হেরো’ সায়ন্তিকা, অন্যদিকে মমতার হাত ছেড়ে এখন এনসিপিআই (NCPI)-তে নাম লিখিয়েছেন দেব।

রাজনীতিতে পা রাখা নিয়ে নিজের মনের গভীর আক্ষেপ ও ভুল স্বীকার করে বসলেন তৃণমূলের বরাহনগরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঞ্চালক দেবের মুখোমুখি হয়ে সায়ন্তিকার এই বিস্ফোরক মন্তব্য এখন নেটপাড়ায় জোর চর্চার বিষয়।
‘রাজনীতিতে আসাটা ভুল ছিল’: সায়ন্তিকার স্বীকারোক্তি
শো-এর বিশেষ পর্বে সঞ্চালক দেবের প্রশ্নের মুখে পড়েন সায়ন্তিকা। দেব তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘রাজনীতিতে আসা সিদ্ধান্তটা সঠিক না ভুল?’ উত্তরে আর কোনো ঢাকঢাক গুড়গুড় না করে সায়ন্তিকা স্পষ্ট জানান, ‘ভুল! রাজনীতিতে খুব বেশি ইমোশনাল (আবেগপ্রবণ) হলে সেখানে খুব একটা জায়গা করা যায় না’। যদিও দেব এই বক্তব্যের সাথে সহমত নন। তা শুনে সায়ন্তিকা আরও যোগ করেন, ‘দেব ১০টা হয় না, একটাই হয়! তুমি পেরেছো, কিন্তু আমি পারি নি করতে’।
সঞ্চালক দেবের মানবিক ও ইতিবাচক জবাব:
সায়ন্তিকার এই আক্ষেপ ভরা মন্তব্যের পর সঞ্চালকের আসন থেকে দেবের দেওয়া বার্তা নজর কেড়েছে সকলের। দেব অত্যন্ত শান্ত ও ইতিবাচক সুরে জানান, ‘আমার মনে হয় ইমোশন বা আবেগ না থাকলে রাজনীতি করাটাই উচিত নয়!’ জয়-পরাজয় কিংবা রাজনীতির মারপ্যাঁচে আবেগকে হারিয়ে যেতে না দিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, তা সায়ন্তিকার সামনে তুলে ধরেন দেব। শুধু তাই নন, ঘাটালের তিন বারের জয়ী সাংসদ দেব পালটা জানতে চান, ‘জিতলেও এটা বলতে?’ এর জবাবে কী উত্তর দেন সায়ন্তিকা তা জানতে চোখ রাখতে হবে জি বাংলার পর্দায়।
দেবের দাদাগিরিতে সায়ন্তিকার এমন খোলামেলা স্বীকারোক্তি ইতিমধ্যেই দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রাজনীতির ময়দানে কাজের অভিজ্ঞতা এবং তারকাদের লড়াই নিয়ে সায়ন্তিকার এই সততা যেমন প্রশংসা পাচ্ছে, তেমনই সঞ্চালক হিসেবে দেবের জবাবও নজর কাড়ছে সবার।
প্রসঙ্গত, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বরানগরে বিজেপির সজল ঘোষের কাছে পরাজিত নন সায়ন্তিকা। এর আগে উপনির্বাচনে জয় পেয়ে বিধায়কের পদ পেয়েছিলেন অভিনেত্রী। রাজ্যে তৃণমূলের ভরাডুবির জোয়ারে তলিয়ে গিয়েছেন তিনিও। দলের করুণ পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়াননি সায়ন্তিকা। বরং নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন রাজনীতি থেকে। এখন ফের সিনেমাতে ফোকাস করতে চান নায়িকা।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


