Akanksha Choudhary: ‘২ লাখের বিনিয়মে মাসে ৫-৬ বার সেক্সের প্রস্তাব!’ কাস্টিং কাউচের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা আকাঙ্ক্ষার

ফ্যাশন দুনিয়ার প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী। কাস্টিং কাউচের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ফাঁস করলেন লক আপ প্রতিযোগী।

Published on: Aug 2, 2026, 18:15:21 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রিয়্যালিটি শো 'লক আপ' (Lock Upp) এখন একদম অন্তিম পর্বে। সেরা ৭ জন ফাইনালিস্টকে নিয়ে জমজমাট ফিনালে সপ্তাহের লড়াই শুরু হয়েছে। তবে সম্প্রতি শো-এর ডাবল এলিমিনেশনে বাদ পড়ার ঠিক আগেই নিজের জীবনের এক ভয়ঙ্কর কালো অধ্যায় প্রকাশ করলেন মডেল তথা প্রতিযোগী আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী। বিউটি পেজেন্ট ও বিনোদন জগতের এক নামজাদা 'প্রভাবশালী' ব্যক্তির কাস্টিং কাউচ (Casting Couch) এবং যৌন হেনস্থার চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছেন তিনি, যা শুনে স্তব্ধ হয়ে যান ঘরে থাকা প্রতিযোগী এবং শো-এর সঞ্চালকরাও।

‘২ লাখের বিনিয়মে মাসে ৫-৬ বার সেক্সের প্রস্তাব!’ কাস্টিং কাউচ নিয়ে সরব আকাঙ্ক্ষা
‘২ লাখের বিনিয়মে মাসে ৫-৬ বার সেক্সের প্রস্তাব!’ কাস্টিং কাউচ নিয়ে সরব আকাঙ্ক্ষা

‘১-২ লাখ টাকার বিনিময়ে মাসে ৫-৬ বার শারীরিক সম্পর্ক…’

শো-এর নিময় মেনে এলিমিনেশনের আগে নিজের গোপন অতীত প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আকাঙ্ক্ষা। তিনি জানান, বিউটি পেজেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য জামাকাপড় ও ট্রেইনিং ফি বাবদ তাঁর ১-২ লাখ টাকার প্রয়োজন ছিল। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হওয়ায় সেই টাকা দেওয়ার সামর্থ্য ওঁর বাবার ছিল না।

পেজেন্ট জগতে বহু মানুষকে সাহায্য করার নাম ডাক থাকায় এক প্রভাবশালী বিচারকের দ্বারে যান আকাঙ্ক্ষা। নিজের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ও দক্ষতার কথা জানিয়ে কাজের মাধ্যমে ওই টাকা শোধ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। ওই ব্যক্তি আকাঙ্ক্ষাকে নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠান এবং জোরপূর্বক গায়ে হাত তোলেন। আকাঙ্ক্ষা বাধা দিলে সোজা কুপ্রস্তাব দিয়ে বসেন সেই প্রভাবশালী ব্যক্তি।

কাস্টিং কাউচের সেই ভয়ানক স্মৃতির কথা মনে করে আকাঙ্ক্ষা বলেন, 'উনি আমাকে বলেন, 'এক বছর আগে যখন এসেছিলি তখন তোর চিন্তা কতটা পিছিয়ে ছিল। তখন রাজি হলে এতদিনে অনেক বড় কাজ পেতিস। এখন কেউ তোকে কাজ দিচ্ছে না, তাই আমি টাকা দিচ্ছি, কিন্তু বদলে তোকে মাসে ৫-৬ বার আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে হবে।' আমি মানা করায় উনি বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে ওসব ছাড়া কোনো কাজ হয় না, দু-বছর পর তুই পস্তাবি!’

যোগ্যতা দিয়ে মুখের ওপর জবাব!

সেই কুপ্রস্তাব সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে ওই ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন আকাঙ্ক্ষা। ওই ব্যক্তি দাবি করেছিলেন যে 'কিছু না দিয়ে' ইন্ডাস্ট্রিতে টেকা যায় না, কিন্তু নিজের আত্মসম্মান বিকিয়ে না দিয়ে মাত্র ৬ মাসের মধ্যে এক বড় রিয়্যালিটি শো-এ সুযোগ পান তিনি। আর আজ ওঁর কঠোর পরিশ্রম ও সততার জোরেই 'লক আপ'-এর এত বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

ফারাহ খান ও রিতেশ দেশমুখের সাধুবাদ

আকাঙ্ক্ষার এই সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন সঞ্চালক ফারাহ খান ও রিতেশ দেশমুখ। ফারাহ খান বলেন, ‘যিনিই ওই ব্যক্তি হন না কেন, আশা করি উনি আজকের এই পর্বটি দেখছেন। ওর জানা উচিত যে সেদিনের দেওয়া ওই নোংরা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেও একজন নারী নিজের পরিশ্রম ও যোগ্যতাবলে এত বড় জায়গায় পৌঁছাতে পারে! তোমার ওপর আমাদের গর্ব হয় আকাঙ্ক্ষা।’

'লক আপ' ফিনালের টপ ৭ ফাইনালিস্ট

আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী এবং আরও এক প্রতিযোগী বাদ পড়ার পর 'লক আপ'-এর ট্রফির লড়াইয়ে টিকে রইলেন সেরা ৭ জন ফাইনালিস্ট— শ্রেয়া কালরা, যোগেশ রাওয়াত, রাম কাপুর, শিল্পা শিন্ডে, হর্ষদ চোপড়া, শিবাঙ্গী জোশী এবং বরুণ যাদব। ১ কোটি টাকার পুরস্কারমূল্য বিজয়ী কার মাথায় উঠবে, তা নিয়েই এখন চড়ছে উত্তেজনার পারদ।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More