শাহরুখ নন, ডর ছবিতে খলনায়কের চরিত্রে প্রথম পছন্দ ছিলেন ইনি! পোশাক তৈরির পর কেন বাদ পড়েন?
শাহরুখ খানের কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল যশ চোপড়ার ডর। তবে জানেন কি শাহরুখ প্রথম পছন্দ ছিলেন না পরিচালকের। এতদিনে সামনে এল বড় সত্যি।
১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত যশ চোপড়ার কাল্ট থ্রিলার 'ডর' (Darr)-এর খলনায়ক 'রাহুল মেহরা' বললেই আজও চোখে ভেসে ওঠে শাহরুখ খানের অবয়ব। কিংবা শাহরুখের মুখের সেই ‘ক-ক-ক-কিরণ’ সংলাপ আর সাইকো লাভারের ইমেজ। শাহরুখের অভিনয় ক্যারিয়ারকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল এই ছবি।

তবে বহু বছর পর প্রকাশ্যে এল এক চমকপ্রদ তথ্য— সিনেমাটিতে রাহুল মেহরার চরিত্রে প্রথমে শাহরুখ খান নন, অভিনয় করার কথা ছিল অভিনেতা সুদেশ বেরির (Sudesh Berry)! কস্টিউম ট্রায়াল হয়ে যাওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে কেন ছবি থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি?
পোশাক তৈরি ছিল, শেষ মুহূর্তে হাতছাড়া হয় এই ক্লাসিক রোল
'অ্যাকোম্পানি আক্কি' (Accompany Akki) নামক একটি পডকাস্টে উপস্থিত হয়ে সুদেশ বেরি নিজে ঘটনাটি খোলসা করেছেন। সুদেশের বক্তব্য অনুযায়ী, 'ডর' ছবিতে কিরণের প্রতি তীব্র আসক্ত স্টকার রাহুল মেহরার ভূমিকার জন্য তাঁকেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল এবং তাঁর কস্টিউমও প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল।
সুদেশ জানান, প্রজেক্টটির কাজ চলার সময় অন্য কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলির জন্য অভিনেতাদের নাম বারবার বদলাচ্ছিল। প্রথমে ঋষি কাপুর, তারপর আমির খানের কথা ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত সানি দেওলকে সই করানো হয় নায়কের ভূমিকায়।
ক্লাইম্যাক্সের কারণেই কি সিদ্ধান্ত বদল যশ চোপড়ার?
সুদেশ বেরির দাবি অনুযায়ী, সিনেমার শেষ লড়াই বা ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যের কারণেই পরিচালক যশ চোপড়া শেষ মুহূর্তে নিজের সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন। অভিনেতা জানান, ‘ছবির শেষের দিকে আমার চরিত্রটির প্রতিপক্ষকে ঘুষি মারার একটি শট ছিল। পরিচালকের মনে হয়েছিল, সানি দেওলের মতো অত বড় একজন তারকাকে যদি আমার মতো একজন নতুন অভিনেতা মারধর করে, তবে ক্লাইম্যাক্সের সেই চূড়ান্ত প্রভাব নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অন্তত এমনটাই শুনেছিলাম আমি।’
সুদেশ আরও জানান, তিনি আজ পর্যন্ত 'ডর' সিনেমাটি দেখেননি। তবে নির্মাতা হিসেবে যশ চোপড়ার প্যাশন ও দূরদর্শিতাকে তিনি সর্বদা সম্মান জানান। তবে ডর শাহরুখের কেরিয়ারেও একদম শুরুর দিকের ছবি, অবশ্য় ততদিনে বাজিগর ছবিতে নেগেটিভ রোলে অভিনয় করে নামডাক করেছিলেন এসআরকে।
'ডর' ও বলিউডের ইতিহাস
১৯৯৩ সালের এই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারে জুহি চাওলা (কিরণ) এবং সানি দেওলের (সুনীল) পাশাপাশি শাহরুখের সেই খলনায়কের চরিত্র বক্স অফিসে ইতিহাস তৈরি করেছিল। তবে সেই সময়ে যদি যশ চোপড়া সিদ্ধান্ত না বদলাতেন, তবে হয়তো বলিউডের ইতিহাসের পাতা অন্যভাবে লেখা হতো! তবে এই ছবির আরও একটা ইতিহাস রয়েছে, এই ছবিতে হিরো সানির চেয়ে ভিলেন শাহরুখকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন পরিচালক যশ চোপড়া, এমন অভিযোগ ছিল স্বয়ং সানি দেওলের। এর জেরেই যশ রাজ ফিল্মস থেকে চিরতরে নিজেকে গুটিয়ে নেন সানি। আর কাজ করেননি তাঁদের সঙ্গে। এমনকী শাহরুখ খানের সঙ্গেও কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যায় তাঁর। এখন অবশ্য দুই তারকার সম্পর্ক সাবলীল।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


